লালমনিরহাটের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ঐতিহ্যবাহী তীর্থস্থান সিন্দুরমতির দিঘিকে আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন আকর্ষণীয় ধর্মীয় ও পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু।
বুধবার (২৭ আগস্ট) লালমনিরহাট সদর উপজেলার পঞ্চগ্রাম ইউনিয়নে অবস্থিত সিন্দুরমতির দিঘি ও পুকুরপাড়ের চলমান উন্নয়নকাজ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এ পরিকল্পনার কথা জানান।
মন্ত্রী বলেন, সিন্দুরমতির দিঘি কেবল একটি পুরোনো ঐতিহাসিক স্থাপনা নয়; সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ তীর্থস্থান। তাই এর ঐতিহ্য ও ধর্মীয় গুরুত্ব অক্ষুণ্ন রেখেই উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত ভক্তরা যাতে স্বাচ্ছন্দ্যে পূজা-পার্বণ ও পবিত্র স্নান করতে পারেন, সে বিষয়টিকে উন্নয়ন পরিকল্পনায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
দীর্ঘদিনের অবহেলায় জরাজীর্ণ
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীর্ঘদিন যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে সিন্দুরমতির দিঘি ও আশপাশের এলাকা অনেকটাই জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। তবে স্থানটির সঙ্গে স্থানীয় ইতিহাস, প্রচলিত লোককথা এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের গভীর ধর্মীয় অনুভূতি জড়িয়ে রয়েছে।
সিন্দুরমতির দিঘির নামকরণ নিয়েও এলাকায় একটি প্রচলিত ইতিহাস রয়েছে। কথিত আছে, একসময় ওই এলাকায় পানির সংকট দেখা দিলে জমিদার নারায়ণ চক্রবর্তী একটি পুকুর খননের উদ্যোগ নেন। পুকুর খননের পরও পানি না ওঠায় তার দুই কন্যা সিন্দুর ও মতি নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেন—এমন লোককথা স্থানীয়ভাবে প্রচলিত। তাদের নাম থেকেই পরবর্তী সময়ে জায়গাটির নাম ‘সিন্দুরমতি’ হয়েছে বলে ধারণা করা হয়।
উন্নয়নকাজ আবার শুরু হবে
আসাদুল হাবিব দুলু জানান, সিন্দুরমতির দিঘির উন্নয়নকাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। তবে চলতি বছর আগাম বৃষ্টির কারণে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ পুরোপুরি শেষ করা সম্ভব হয়নি।
তিনি বলেন, আগামী অক্টোবরের শেষ দিকে অথবা নভেম্বর মাসে আবারও উন্নয়নকাজ শুরু করা হবে। শুধু অবকাঠামো নির্মাণ নয়, পুরো এলাকার সৌন্দর্য বৃদ্ধি, পরিবেশ উন্নয়ন এবং দর্শনার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, সিন্দুরমতির দিঘিকে এমনভাবে সাজানো হবে, যাতে ধর্মীয় কর্মকাণ্ড পালনের পাশাপাশি এটি দেশের মানুষের জন্য একটি আকর্ষণীয় পর্যটনকেন্দ্র হিসেবেও গড়ে ওঠে।
পরিদর্শনের সময় সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তা এবং স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।





