সালথায় চাচার হাতে ভাতিজী অপহরণ

আবু নাসের হুসাইন, সালথা প্রতিনিধি: ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় চাচা কর্তৃক ভাতিজী অপহরণের চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। এ ঘটনার প্রধান আসামী চাচা জাহাঙ্গীর মাতুব্বরকে আটক করেছে পুলিশ। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার গট্রি ইউনিয়নের মিয়ার গট্রি এলাকায়।

অপহরণকারী দুই সন্তানের জনক মো: জাহাঙ্গীর মাতুব্বর (৩৫) মৃত লতিফ মাতুব্বরের ছেলে ও অপহৃত বাড়ির পার্শ্বস্থ্য মো: বাদশা শেখের মেয়ে বলে জানা যায়। সে গট্রি উচ্চ বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেনীতে পড়–য়া মেধাবী ছাত্রী, তাঁর রোল নং-১। সে ৫ম শেনীতে এ প্লাস পেয়ে মেধা তালিকায় শীর্ষে ছিলো।

পারিবারিক সূত্র থেকে জানা যায়, দীর্ঘদিন যাবৎ অপহরণকারী স্কুলে যাবার রাস্তায় মেয়েটিকে কেউ যেন উত্ত্যক্ত না করে সে কারণে মাঝে মাঝে স্কুলে পৌঁছে দিত আবার অবাধে মেয়ের বাড়িতে আসা যাওয়া করতো কিন্ত অপহরণকারি -”চাচা , বিবাহিতা , দুই সন্তানের জনক ও স্ত্রী বর্তমান” বিধায় পরিবারের কেহই কোন প্রকার সন্দেহ করেনি। কিন্ত বিগত মাসখানেক ধরে অপহরণকারী অত্র এলাকার মসজিদের ঈমামসহ ম্যারিজ রেজিষ্টার এর নিকট আনাগোনা করে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে বিয়ে পড়ানোর প্রস্তাব দিতে থাকে কিন্ত অপ্রাপ্ত বয়সের মেয়ে বিধায় কেহই বিয়ের কাজ সম্পাদন করতে রাজি হয়নি। অতি সম্প্রতি বিষয়টি লোকমুখে জানাজানি হয়ে যায় এবং মেয়ে রুমি আক্তারসহ তাঁর পরিবার জাহাঙ্গীর মাতুব্বরকে এড়িয়ে চলতে থাকে । ঘটনার এক পর্যায়ে গ্রাম্য সালিস দরবার ও হয় যেখানে এহেন কর্মকান্ড থেকে বিরত থাকতেও বলা হয় অপহরণকারীকে।

অভিযোগ আছে অপহরণকারী নিবৃত না হয়ে ঝাঁড়-ফুঁ ফকিরের স্মরণাপন্ন হয় , যার ফলে মেয়ে অসুস্থ্য হয়ে পড়লে আবারও গ্রাম্য মাতুব্বরের চাপাচাপিতে উক্ত মেয়েকে মুমূর্ষ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, বলা হয় চিকিৎসার যাবতীয় খরচ জাহাঙ্গীর বহন করবে। দিন কয়েক চিকিৎসা নেবার পর মেয়েটি সুস্থ্য হয়ে গত বৃহষ্পতিবার সকালে গট্রি হাইস্কুলে প্রাইভেট পড়তে যায় এবং প্রাইভেট শেষে ১১ টার দিকে বাড়ি ফেরার পথে জাহাঙ্গীর কর্তৃক অপহৃত হয়। এ ঘটনায় এলাকায় মূহুর্তের মধ্যে শোরগোল পড়ে গেলে মেয়ের পিতা বাদী হয়ে সালথা থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করে। এ মামলার সূত্র ধরে তাদেরকে পুলিশ হন্যে হয়ে খুঁজতে থাকে। এক পর্যায়ে গোপণ সংবাদের ভিত্তিতে গতকাল রাতে উক্ত ইউনিয়নের একটি বাড়ি থেকে তাঁদেরকে গ্রেফতার করে থানায় আনা হয় এবং আজ সকালে কোর্টে প্রেরণ করা হয়।

সালথা থানায় কর্তব্যরত ও এ মামলার দায়িত্বপ্রাপ্ত এসআই বিপ্লব জানান, মেয়েকে অজ্ঞান করে অপহরণ করা হয় এবং একটি মাইক্রোতে উঠিয়ে গোপালগঞ্জ জেলায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখান থেকে গত রাতে এলাকায় এনে এক আত্মীয়ের বাড়িতে উঠানোর পর গোপণ সংবাদের ভিত্তিতে উভয়কে গ্রেপ্তার করে কোর্টে প্রেরণ করা হয়েছে। নিয়মমাফিক অপহরণের প্রেক্ষিতে মহামান্য আদালতের সিদ্ধান্ত এবং পাশবিক নির্যাতনের প্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় রিপোর্ট পাওয়ার পর নারী নির্যাতন মামলা হতে পারে বলে বলছে পুলিশের এ কর্মকর্তা।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
admin
লেখক / প্রতিবেদক

admin

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।