সংখ্যালঘু নির্যাতন নিপীড়ন ও ধর্মান্তরকরণ মিশনের প্রতিবাদ সমাবেশ হিন্দু মহাজোটের

সংখ্যালঘু নির্যাতন নিপীড়ন ও ধর্মান্তরকরণ মিশনের প্রতিবাদ সমাবেশ হিন্দু মহাজোটের

‘‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক, ইউটিউব, বিভিন্ন প্রেস লিংকে ধর্মান্ধ উগ্রবাদী গোষ্ঠী কর্তৃক সনাতন ধর্মাবলম্বী হিন্দু ছেলে-মেয়েদের জোরপূর্বক ধর্মান্তকরণের বিশেষ বিজ্ঞপ্তি, ধর্মীয় অবমাননাকর প্রচার প্রচারনা, হিন্দু বিদ্বেষপ্রসূত সাম্প্রদায়িক বক্তব্য, রাষ্ট্রদ্রোহীমূলক বক্তব্য প্রদান করা, মন্দিরের প্রতিমা ভাংচুর, ঘরবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাংচুর ও লুটপাট করা এবং এ সংক্রান্ত ঘটনায় অভিযুক্তকারীদের আইনের আওতায় নেওয়ার ব্যাপারে সরকার, প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নিষ্ক্রিয়তা, উদাসীনতা থাকার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট।

আজ ২৪ শে মে ২০২৪, শুক্রবার সকাল ১১ঘটিকায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সড়কে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, অতিসম্প্রতি ধর্মান্ধ উগ্রবাদী সংগঠন জমঈয়তে আহলে হাদীসের সভাপতি অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ ফারুক ও সেক্রেটারী জেনারেল ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ খান মাদানীর স্বাক্ষরীত একটি বিশেষ জিজ্ঞপ্তি সামাাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত হয়েছে। এতে সনাতন ধর্মাবলম্বীর বিশেষ করে হিন্দুদের ধর্মান্তকরণে তাদের দলের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ৫০ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত পুরষ্কার ঘোষনা করা হয়েছে। ধর্মীয় বিদ্বেষপূর্ন, ধর্মান্তকরণের অশুভ পরিকল্পনার মধ্য দিয়ে সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে আইনের চোখে যাহা গুরুত্বর রাষ্ট্রদ্রোহী মূলক অপরাধ। এধরনের কর্মকান্ড ফৌজদারী অপরাধও বটে, ধর্ম ও সংবিধান এটি সমর্থন করে না। তথ্য প্রযুক্তি ও ধর্মীয় অবমাননা আইনে যাহা গুরুত্বর অপরাধ। আমরা এসব অনৈতিক ধর্মীয় অবমাননাকর প্রচারনার বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাচ্ছি। বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট।

সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে ধর্মান্তরকরণের নতুন মিশনে নেমেছে উগ্র সাম্পদায়িক গোষ্ঠী। দাওয়াতের নামে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ধর্মান্তরিত করতে রীতিমতো সংগঠনের কর্মীদের জন্য ৫০ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত পুরষ্কার ঘোষণা করা হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন আইডি ও পেজ খুলে এ সংক্রান্ত প্রচার চালানো হচ্ছে। নিজেদের কর্মীদের শিখিয়ে দেওয়া হচ্ছে ধর্মান্তরিত করার কলাকৌশলও। নওমুসলিমদের সুরক্ষার নামে এ ধরনের অপকর্মে যুক্ত হয়েছে একটি বেসরকারী ব্যাংক ২০১০ সাল থেকে প্রতিষ্ঠা করেছে ‘নওমুসলিম কেয়ার এইড’ সহ একাধিক সামাজিক সংস্থা। ইসলামি ফাউন্ডেশন তাদের জাকাত ফান্ডের মাধ্যমে এ প্রক্রিয়া চলমান রেখেছে।

সারা দেশে বেশকিছু ইসলামিক সামাজিক সংগঠন সংখ্যালঘুদের ধর্মান্তরিত করার লক্ষ্যে কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে। মুফতি জোবায়ের আহমেদের পরিচালনায় ইসলামী দাওয়াহ ইনস্টিটিউট ’ নামে আরও একটি প্রতিষ্ঠান দাওয়াতের নামে এক বছরের কোর্স জিজ্ঞপ্তি প্রচার করে বিভিন্ন কৌশলে হিন্দুরের ধর্মান্তরিত করার চেষ্টা করছে। যার ঠিকানা মান্ডা শেষ মাথা গার্মেন্টেসের সামনে। ইদানিং বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নতুন প্রজন্মের অংশগ্রহন অনেক বেশি। এই সুযোগ কাজে লাগাতে একটি গোষ্ঠী ফেসবুক, ইউটিউবসহ অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে হাতিয়ার করছে। আবার প্রকাশ্যে সামাজিক সংগঠনের ব্যানারে ধর্মান্তরকরণে উৎসাহ জোগাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে নির্বিকার সরকারের প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ভিন্ন ধর্মের মানুষদের নানাভাবে দুর্বল করা ও দেশত্যাগ বাধ্য করার দূরদর্শী পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই তারা এমন অপকর্ম শুরু করেছে। গত মঙ্গলবার পটুয়াখালীর কলাপাড়ায়, মন্দিরের প্রতিমা ভাংচুর করা হয়। এই ধরনের অপতৎপরতা ধর্মীয় বিদ্বেষে নিকৃষ্ঠতম উদাহরন অথচ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এধরনের সাম্প্রদায়িক অপকর্ম চললেও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে মামলা হয়না। একারনে সংখ্যালঘুদের মনে আতঙ্ক বিরাজ করছে। সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার স্বার্থে বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে রাষ্ট্রীভাবে এই সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীদের বিরুদ্ধে কঠোর হওয়ার জন্য আবেদন জানাচ্ছি। আজকের এই মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে সু-মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী…. বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটি প্রমুখ শীর্ষ নেতৃবৃন্দ বক্তব্য প্রদান করেন।

আজকের এই মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে সরকারের কাছে আমাদের দাবীসূহ তুলে ধরছি ঃ-

১। সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় সংসদে সংখ্যানুপাতে আসন বরাদ্দ করতে হবে।
২। ধর্মীয় সংখ্যালঘু নির্যাতন রোধকল্পে সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন প্রণয়ন (যাহা সরকারের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০১৮ এর ইশতেহার অনুযায়ী প্রতিশ্রুতি দেওয়া)
৩। সকল বেদখলকৃত মন্দির ও দেবোত্তর সম্পত্তি পুনরুদ্ধার এবং সকল উদ্ধারকৃত দেববিগ্রহ পূচা অর্চনার জন্য স্ব স্ব এলাকার মন্দিরে পুনঃস্থাপন করতে হবে ও অর্পিত সম্পত্তির প্রকৃত মালিক/ওয়ারিশদের ফেরৎ দিতে হবে।
৪। হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টকে ফাউন্ডেশনে রুপান্তরিত করা।
৫। জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশন গঠন (যাহা সরকারের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০১৮ এর ইশতেহার অনুযায়ী প্রতিশ্রুতি দেওয়া)

বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সম্মানিত সভাপতি শ্রীমান প্রবীর রঞ্জন হালদার (সিনিয়র আইনজীবী বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট) ও আপোষহীন সংগ্রামী সাধারন সম্পাদক শ্রীমান ডাঃ মৃত্যুঞ্জয় কুমার রায় (এম কে রায়) নেতৃত্বাধীন সংগঠন এদেশের ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় আদায়ে এবং নির্যাতন নিপিড়নের বিরুদ্ধে রুখে দাড়াতে সরকারের প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে কাজ করে আসছে।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।