মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান বলেছেন, একটি জাতির ভবিষ্যৎ গড়ে ওঠে তার শিক্ষাব্যবস্থার ভিত্তির ওপর। তাই প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নে শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষা প্রশাসন এবং সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।
মন্ত্রী গতকাল টাঙ্গাইলের সখিপুর উপজেলা হলরুমে আয়োজিত প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নে শিক্ষকগণের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বর্তমান সরকার শিক্ষার সার্বিক উন্নয়নে নানামুখী কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। সদ্য পাস হওয়া ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে শিক্ষা খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, শিক্ষা খাতে বরাদ্দ মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ২ শতাংশে উন্নীত করা হয়েছে—যা গত অর্থবছরে ছিল জিডিপির ১ দশমিক ৩৯ শতাংশ। তিনি বলেন, সরকার নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী আগামী পাঁচ বছরে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।
মন্ত্রী বলেন, জনগণ সরকারি প্রাথমিক এবং উচ্চ বিদ্যালয়কে তাদের আশা আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন মনে করে এবং প্রাথমিক ও উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান উন্নত হলে জাতির শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটবে। তিনি বলেন, প্রতি সপ্তাহে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শিক্ষার্থীদের নিয়ে প্রতিটি ক্লাসের শিক্ষার মান বিষয়ক পর্যালোচনা সভা এবং প্রতি মাসে অভিভাবকদের নিয়ে শিক্ষার সার্বিক অবস্থা সংক্রান্ত মতবিনিময় সভা করে এর ফলাফল তাঁকে অবহিত করতে হবে। তিনি শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, দেশপ্রেম, মানবিক মূল্যবোধ এবং আধুনিক জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে দক্ষ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষকদের আন্তরিক ও দায়িত্বশীল ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সখিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আশরাফুল আলমের সভাপতিত্বে সভায় উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মাসুদুর রহমান, শিক্ষক নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষক, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্মকর্তা, সাংবাদিক এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
একই দিনে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী ‘জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬’ উপলক্ষ্যে সখিপুর বিআরডিবি প্রশিক্ষণ হলরুমে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন। পরে তিনি বাসাইল উপজেলায় অনুষ্ঠিত জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবসের অনুষ্ঠানেও প্রধান অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করেন।