হিন্দু সংস্কৃতির সুপ্রাচীন রীতি শঙ্খধ্বনি গৃহস্থের মঙ্গল বয়ে আনে

উজ্জ্বল রায়, নিজস্ব প্রতিনিধিঃ  হিন্দু সংস্কৃতির সুপ্রাচীন রীতি অনুসারে এই শ্বেত শঙ্খের ব্যবহার হয়ে আসছে। শুদ্ধতার প্রতীক এই শঙ্খ যে কোনও শুভ কাজে তো বটেই, সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় পুজো-পাঠে। শাস্ত্র মতে কোনও শুভ কাজ করার আগে শঙ্খধ্বনি করলে গৃহস্থের মঙ্গল হয়।
এই ধ্বনিই পরিবারকে সমস্তরকম অশুভ শক্তি, ভাবনা ও কাজ থেকে বিরত রাখে, কালা জাদুর প্রভাব থেকেও শঙ্খ দূরে রাখে। এই বিশ্বাসেই বাড়ির মহিলা ও পুরুষরা প্রতিদিন সন্ধ্যা আরতির সময় শঙ্খধ্বনি করে থাকেন।
পুরান অনুযায়ী, সমুদ্র মন্থনের সময়ই উঠে এসেছিল শঙ্খ। যা পরবর্তীকালে স্থান পায় ভগবান বিষ্ণুর হাতে। কথিত আছে, চন্দ্র-সূর্য-বরুণ দেব শঙ্খের একেবারে নিচে অবস্থান করেন। মধ্যভাগে প্রজাপতি এবং বাকি ভাগে থাকেন গঙ্গা ও সরস্বতী। তাই শঙ্খধ্বনি এই সকল ঈশ্বরের আশীর্বাদ পেতে সাহায্য করে। দুধরনের শঙ্খ হয়ে থাকে, একপ্রকার পুজোয় যা বাজাতে হয় এবং অন্যটি দুধ দিয়ে ধুয়ে পুজো স্থানে রাখা হয়। যেটিকে শঙ্খপাণিও বলা হয়ে থাকে। যার আকার অপেক্ষাকৃত ছোট। তাতে মূলত গঙ্গা জল রাখা হয়ে থাকে।
খেয়াল রাখবেন, যে শঙ্খ বাজানো হয়, সেই শঙ্খ যে জল দিয়ে ধুয়ে পুজোয় না ব্যবহার করা হয়। শঙ্খ কেনার সময় একইসঙ্গে দুধরনেরই কিনবেন। বাড়িতে সেগুলিকে অবশ্যই পৃথকভাবে রাখবেন। তবে বাজার থেকে এনেই সেগুলি ব্যবহার করবেন না। গঙ্গাজল দিয়ে ধুয়ে সেগুলি ঠাকুরের স্থানে রাখুন। চেষ্টা করুন যে শঙ্খটি বাজাবেন সেটি রাখবেন হলুদ কাপড়ে এবং অন্যটি সাদা কাপড়ে। এতে সংসারে শুভ শক্তির আগমন হয়। পরিবারের কল্যাণের জন্য প্রতিদিন সকালে স্নান করে শঙ্খধ্বনি দিতে পারেন। তবে শঙ্খ বাজানোর পর অবশ্যই তা ধুয়ে রাখুন। তাহলে বুঝতেই পারছেন, স্বাস্থ্য ও সংসারের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ এই প্রাকৃতিক উপাদানটি।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
Ovi Pandey
লেখক / প্রতিবেদক

Ovi Pandey

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।