আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে সকল শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা রমনা কালী মন্দির শহীদ পরিবারের

মহান শহীদ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা আর ভালোবাসার নিদর্শনস্বরূপ ফুলে ফুলে ভরে ওঠে দেশের সব প্রান্তের প্রতিটি শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে সকল শহীদদের শ্রদ্ধা জানিয়েছেন শ্রীশ্রী রমনা কালী মন্দির শহীদ পরিবার কমিটি।

বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার রমনা পার্কের (যার বর্তমান নাম সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) বহির্ভাগে অবস্থিত। বর্তমানে বাংলার সংস্কৃতিতে এ মন্দিরের উল্লেখ্য ভূমিকা আছে। ভারতীয় উপমহাদেশের সবচেয়ে বিখ্যাত হিন্দু মন্দিরসমূহের মধ্যে অন্যতম রমনা কালী মন্দির। এটি প্রায় এক হাজার বছরেরও পুরাতন বলে বিশ্বাস করা হয় কিন্তু ইংরেজ আমলে এই মন্দিরটি আবার নতুন করে নির্মাণ করা হয়েছিল।

১৯৭১ সালের ২৬ শে মার্চ কালো রাতে শ্রীশ্রী রমনা কালী মন্দিরের অভ্যন্তরে ও মন্দির প্রাঙ্গণে সান্ধ্য আইন চলাকালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী মন্দির ও আশ্রম ঘেরাও করে। সেনাবাহিনীর সার্চ লাইটের আলোতে গোটা রমনা এলাকা আলোকিতো হয়ে যায়। তারপরই শুরু হয় গুলিবর্ষণ। রমনা কালীমন্দিরে প্রবেশ করে প্রতিমা গুঁড়িয়ে দেয় এই অসভ্য বর্বর সেনাবাহিনী। তারপর গোলাবর্ষণ করে- মন্দির ও আশ্রম পরিণত হয় এক ধ্বংসাবশেষে। সেখানেই তারা হত্যা করে রমনা কালী মন্দিরের অধ্যক্ষ স্বামী পরমানন্দ গিরিকে। প্রায় ৮৫ ত্থেকে ১০০ জনকে হত্যা করে পাক বাহিনী। এরপর লাশগুলো এক সাথে করে আগুন ধরিয়ে দেয়। আহতদের অনেককেও পুড়িয়ে হত্যা করে। দুজন যুবককে জয় বাংলা ধ্বনি দিতে বাধ্য করে এবং মুখের ভিতর বন্দুক ঢুকিয়ে হত্যা করে। এই হত্যাযজ্ঞের সময় মন্দির এবং আশ্রম দাউ দাউ করে জ্বলছিল। আশ্রমের গোয়ালে ৫০ টি গরু ছিল। গরুগুলোকেও আগুনে পুড়িয়ে মারা হয়।

বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পর অন্যান্য ক্ষেত্রের শহিদরা সরকারি আনুকূল্য পেলেও শ্রীশ্রী রমনা কালী মন্দিরের অভ্যন্তরে ও মন্দির প্রাঙ্গণে ১৯৭১ সালের ২৬ শে মার্চ কালো রাতে যারা আত্মহুতি দিয়েছিলেন, তাদের পরিবার-পরিজনও সুদীর্ঘ ৪৮ বছরেও পায়নি কোনো রাষ্ট্রীয় অনুকম্পা, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বা রাষ্ট্রীয় আনুকুল্য।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
Brinda Chowdhury
লেখক / প্রতিবেদক

Brinda Chowdhury

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।