ক্রাইম প্রতিবেদকঃ চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার ৭নং সদর ১নং ওয়ার্ড কালাবিবীর দিঘী এলাকায় প্রায় ৬ মাস ধরে কখনো রাস্তায়, কখনো বন্ধ দোকানের সামনে, কখনো স্কুল ঘরের বারান্দায় কুকুরদের সাথে থাকতেন অচেনা, অপরিচিত এই মানসিক রোগী।
কালাবিবীর দিঘী এলাকার স্থানীয়রা বলেন, এই মানসিক রোগীটি প্রায় ৬ মাস ধরে তারা দেখছেন। সে হিন্দী ও উর্দু ভাষায় কথা বলতেন এবং তার হাতের লেখা ও ছিল সুন্দর সুতরাং স্থানীয়রা তা দেখে অনুমান করেন যে সে হয়তো ভারতীয় হিন্দু। কিন্তু তার সঠিক কোন টিকানা স্থানীয়দের জানা ছিল না।
গতকাল শনিবার ১৪ই জুলাই দিবাগত রাত১২ টা ৩০ অর্থাৎ রবিবারের প্রথম প্রহরে তিনি পরলোক গমন করেন।
তার মৃত্যুর সংবাদটি কালাবিবির দিঘীর দারোয়ানরা আনোয়ারা থানায় জানালে আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দুলাল মাহমুদ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করার জন্য ডিউটি অফিসার এস আই একরামুল হক ও তার সাথে দু’জন কনস্টেবল সহ পাটালে মৃত্যুজনিত ঘটনাটি সত্যতা নিশ্চিত হন, এরপর ঐ অজ্ঞাত লাশটি হিংস্র প্রাণীদের থেকে নিরাপদে থাকার জন্য আরো ৩ জন ধারোয়ান নিয়োগ করেন।
পরিশেষে তাকে হিন্দু নিয়মে সৎকারের ব্যবস্থা ও সহযোগিতাপূর্ণ পরামর্শের জন্য ক্রাইম প্রতিবেদক রাজিব শর্মাকে এ এস আই রেজাউল করিম ফোনালাপ করলে, ঘটনাস্থলে রাজিব শর্মা গিয়ে ডিউটি অফিসার এস আই একরাম এর সাথে কথা বলে মোমবাতি, আগরবাতি ও অনান্য প্রয়োজনাদির ব্যবস্থার কথা বলেন।
এরপর রাজিব শর্মা এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘আমি তার সৎকারের ব্যবস্থার জন্য স্থানীয় নেতা, কর্মী, নামধারী সমাজের কিছু ভদ্র ব্যক্তিদের সাথে আলাপ করি, ঐ ওয়ার্ডের সদস্য মিন্টুসহ আরো ব্যক্তিদের সাথে এই ঘটনার কথা বললেও রাতে ঘটনাস্থলে কোন হিন্দু আসেন নি।
এই ঘটনায় আমাকে শুধু অবাক করনি তার সমান কষ্টও দিয়েছে এই নোংরা, ভীতু হিন্দুদের মনমানসিকতা দেখে। ধরে নিন আমি নাস্তিক কিন্তু আমি একজন মানুষ ও। একজন ব্যক্তি মারা গেল। যার পাশে মা, বাবা, আত্মীয় স্বজন কেউ নেই। বলতে গেলে শরৎচন্দ্রের “দেবদাস” চরিত্রের পার্বতীহীন দেবের মৃত্যুর মত।সে মানসিক রোগী বলে তার পাশে আসল না হিন্দুরা, বাজাল না কীর্তন, শুনালো না শ্রুতিমধুর গীতার বাণী। তার স্থানে ধনী হলে কান্নার উপর পড়ত মায়াকান্না।সমাজে সবাই নেতা সাজে, দানবীর সাজে, লম্বা লম্বা মানবতার বাণী শুনায়।মন্দিরের সভাপতি হওয়ার জন্য মরিয়া হয়।কিন্তু অসহায় একটি লাশই প্রমাণ করে ওসব নেতাদের কোন মূল্য নেই।মন্দির, মসজিদ, গীর্জা, প্যাগোডায় গেলে ধর্ম ও ধার্মিক হয় না, এর বাইরে ও ধর্ম আছে যা মাঝেমাঝে ঐ প্রাতিষ্ঠানিক ধর্মকে ও হার মানায়। পরিশেষে আমি এস আই একরাম কে বলি, ঐ এলাকার ইউনিয়ন সদস্য মিন্টু শীল(মন্টু)। এটা তার দায়িত্ব। যদি সে এই দায়িত্ব পালন করতে অপারগ হয়, তাহলে এই ব্যক্তির সৎকারের ব্যবস্থা আমি করবো বলে আশ্বাস দিয়ে আসি।
এরপর আনোয়ারা থানার ওসি দুলাল মাহমুদ তার নিজস্ব অবস্থান ও কঠোর দায়িত্বে অনড় থেকে এই লাশটির জন্য নিজের আর্থিক সাহায্য ও আনোয়ারা থানার পুলিশের ও জনগণের সাহায্যে উদ্যোগ নিয়ে কালাবিবীর দিঘী খিলপাড়া গ্রামে তার সৎকার করেন। আমি দেখেছি মানসিক রোগিটার মৃত্যু দেখে ব্যবসায়ীরা, ইসলাম ধর্মালম্বীদের চোখে জল। রক্তাক্ত ঘুঘুর মত তাদের হৃদযে রক্তক্ষরণ ঘটছে কিন্তু এই নির্দয়, নিষ্টুর হিন্দুদের মনে একটু ও দুঃখ লাগেনি। যদি দুঃখ লাগতো রাতে তাদেরকে এতবার আমি অনুরোধ করলাম, থানা পুলিশ অনুরোধ করলো কিন্তু কোন হিন্দু প্রাণী আসেনি। এমনকি অনেকে আসবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েও আসেনি। তাদের নিয়ে আমার দুঃখ প্রকাশ করা ছাড়া আর কিছু বলার নেই।
আজ রবিবার ১৫ই জুলাই ২০১৮ তারিখ সকালে আনোয়ারা থানার ওসি দুলাল মাহমুদের আর্থিক সাহায্যের মাধ্যম্যে অপরিচিত মানসিক রোগিটির লাশ সনাতন ধর্মালম্বী নিয়মে সৎকার করে তিনি প্রমাণ করলেন বাংলাদেশ পুলিশ জনগনের শত্রু নই এবং সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপরে নই।