যশোরে তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রীকে ধর্ষণ মামলায় এসআই গ্রেফতার

যশোরে তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রীকে ধর্ষণ মামলায় এসআই গ্রেফতার

যশোর প্রতিনিধি: তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় মো: আজিজুল হক সবুজ (৪৫) নামে পুলিশের একজন কর্মকর্তা গ্রেফতার হয়েছেন।

আজ (২৫ এপ্রিল) ভোর রাতে যশোর কোতয়ালী থানা পুলিশ শহরের বারান্দীপাড়া ঢাকা রোডের হাফিজিয়া মাদরাসার পাশ থেকে তাকে আটক করা হয়। পরে হওয়া মামলায় তাকে আসামি করা হয়।

বারান্দীপাড়া এলাকার মো: বাদশা মিয়ার মেয়ে মোছা জেসমিন বেগম তার সাবেক স্বামী সবুজের বিরুদ্ধে কোতয়ালী থানায় ধর্ষণের মামলাটি করেন।
আসামি আজিজুল হক সবুজ পুলিশের এসআই পদে কর্মরত। তিনি ঢাকা এপিবিএন থেকে সদ্য পুলিশের খুলনা রেঞ্জে বদলি হয়েছেন।

আজিজুল হক সাতক্ষীরা জেলার তালা উপজেলার পাটকেলঘাটা থানার সুরুরিয়া গ্রামের মো. আনোয়ারুল হকের ছেলে। তার বর্তমান ঠিকানা যশোর সদর উপজেলার রঘুরামপুর গ্রাম।

মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১৯ সালের ২৭ ডিসেম্বর আজিজুল হক সবুজের সাথে জেসমিনের বিয়ে হয়। আজিজুলের আগেও তিনটি বিয়ে ছিল। চাকরির সুবাদে আজিজ কর্মস্থলে থাকতেন। মাঝে মাঝে যশোরে বাদীর বসতবাড়িতে আসতেন এবং তারা অন্য দম্পতিদের মতো বসবাস করতেন।
জেসমিন উল্লেখ করেছেন, ‘আজিজুল ২০২০ সালের ১৪ ডিসেম্বর সাতক্ষীরায় লাবনী নামে এক মেয়েকে বিয়ে করে। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের ২৩ তারিখে আমাকে তালাক দেয়। গত ২৪ এপ্রিল শুক্রবার রাত একটার দিকে আজিজ আমার ঘরের দরজা নক করে। আমি দরজা খোলামাত্র সে ঘরের ভেতর ঢুকেই ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করে দেয়। ওই সময় সে আমাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ধর্ষণ করে। আজিজ ওয়াশরুমে ঢুকলে আমি ৯৯৯ নাম্বারে ফোন দিই। পরে কোতয়ালী থানা পুলিশ এসে আমাকে উদ্ধার করে।’

কোতয়ালী থানার ওসি মো: তাজুল ইসলাম বলেন, ‘কেউই আইনের ঊর্ধ্বে না। তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রীর সঙ্গে পুলিশের এসআই আজিজুল হক সবুজ শারীরিক সম্পর্ক করেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। কোনো নারীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে তার সাথে দৈহিক সম্পর্ক হলে সেটা আইনানুযায়ী ধর্ষণ বলে গণ্য হয়।’
ওসি আরো বলেন, ‘ভোররাতে হটলাইন ৯৯৯ থেকে খবর পেয়ে আমরা দুইজনকে থানায় নিয়ে আসি। কিন্তু জেসমিন বেগম মামলা করতে রাজি ছিল না। আপস করে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছিল। কিন্তু ধর্ষণের অভিযোগ আপসযোগ্য না। সেই কারণে মামলা রুজু হয়েছে।’
ওসি বলেন, ‘আসামি আজিজকে আজ রোববার সকালে আদালতে হাজির করা হয়েছে। ভিকটিমকে মেডিকেল করানোর পরে আদালতে জবানবন্দি দেওয়ার জন্য পাঠানো হবে।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
Brinda Chowdhury
সংবাদ প্রতিনিধি

Brinda Chowdhury

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।