যশোর অফিস: যশোরের ঝিকরগাছা বাকড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নেছার আলী বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ নেই। এলাকার মাকদ্রব চোরাচালানীদের সাথে গভীর সখ্যতা করে এই জনপ্রতিনিধি রয়েছেন আলোচনার শীর্ষে। তার শেল্টারে এখানে নানা অপরাধমুলক কর্মকান্ড সংঘঠিত হয়ে থাকে বলে অভিযোগ রয়েছে। তার অত্যাচারে অতিষ্ঠ স্থানীয় আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরাও।
স্থানীয়দের অভিযোগে জানা যায়, প্রায় এক যুগ আগে নেছার আলী ঝিরকগাছা শার্শা ও সাতক্ষীরার কলারোয়ার ডাকার দলের সর্দার ছিলেন। পানিসারা গ্রামের গফফার ছিলেন তার অন্যতম সহযোগি। গরু ব্যবসায়ীই ছিলো তাদের টার্গেট। সে সময় তারা রাতের আধারে রাস্তার পাশে ধারালো অস্ত্র নিয়ে ওৎ পেতে বসে থাকতেন। সুযোগ বুঝে গরু ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে সব টাকা পয়সা ছিনিয়ে নিতেন।
২০০৬ সালের ১০ মে সাতক্ষীরা কলারোয়া গ্রামের কামার বাসা গ্রামে ডাকাতি করতে যায় নেছার আলী। এ সময় তার সাথে ছিল বাগাচরা কুল বাড়িয়া গ্রামের সেলিম ও খলষী গ্রামের হাসেম কলাটুপি গ্রামের কাসেম। স্থানীয়া তাদের পাকড়াও করে পুলিশকে খবর দেয়। তাকে আটক করে থানায় আনার সময় তৎকালীন কলারোয়া এস আই মিজান কে ঘুষি মেরে পালিয়ে আসে নেছার আলী। ওই দিন তার নামে ডাকাতির মামলা হয়। মামলায় নেছার আলীকে গ্রেফতার করে সাতক্ষীরার তৎকালীন সেকেন্ড অফিসার সরোয়ার। তাকে নিয়ে বাড়িতে অস্ত্র উদ্ধারে গেলে নেছার আলী অজ্ঞান হয়ে পড়ে। পরে পুলিশ তার ভাইপো কাসেমকে গ্রেফতার করে। তার কাছ কেকে পাইপগান উদ্ধার করে চালান দেয় পুলিশ। ২০০৭ সালে ঠাকুরবাড়ী কাজীরহাটে কার্তিক পালের বাড়িতে ডাকাতি করে নেছার আলী বাহিনী। ওই সময় তার নামে একটি ডাকাতি মামলা হয়। ওই মামলার তদন্তকারী অফিসার ছিলেন কলারোয়া থানার তৎকালীন এ এস আই আরিফ হোসেন। ২০০৩ সালে বজলুর রহমানকে বাড়ী থেকে অপহরণ করে নিয়ে যায় নেছার আলীর ডাকাত বাহিনী। তার কাছে চাঁদা দাবি করা হয়। পরে কৌশলে পালিয়ে রক্ষা পায় বজলুর রহমান। সে নেছার আলীর নামে কলারোয়া থানা একটি মামলা করেন।
জনশ্রুতি আছে, একদিন এক গরু ব্যাবসয়ীকে সাত মাইল এলাকায় পাকড়াও করেন নেছার আলীসহ তার সহযোগিরা। কিন্তু ওই গরু ব্যবসায়ী কাছে নগদ কোন টাকা ছিলনা। তখন নেছার আলী বলেন টাকা কোথায় রেখে আইছির? জবাবে ওই গরু ব্যবসায়ী বলেন বিশ্বাস করেন আজ একটিও গরু বিক্রি হয়নি। নেছার আলী ধমক দিয়ে বলেন কেন বিক্রি হয়নি? ব্যবসায়ী জানান লোকসান হচ্ছিল। তখন নেছার আলী আরও ক্ষিপ্ত হয়ে বলেন,লোকসান হলে আমার হত তুই কেন বিক্রি করিস নাই? এই নিয়ে এলাকায় এখনো নানা রকম কথাবার্তা শোনা যায় স্থানীয়দের কাছ থেকে।
স্থানীয় আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের অভিযোগ, নেছার আলীর দলীয় কোন পদ পদবী নেই। জেলা আওয়ামীলীগের এক শীর্ষ নেতাকে ১৮ লক্ষ টাকা উৎকোচ দিয়ে বিগত ইউপি পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান হয়েছেন। ফলে এলাকার তার কোন কর্মী সমর্থক নেই। এক সময়ের ডাকাত দলের সর্দার এখন চেয়ারম্যান হলেও তার সভাব এখানো বদলায় নিই। এলাকায় তার শেল্টারে মাদকদ্রব বিক্রি চোরা চালান সংঘঠিত হয়ে থাকে। কেউ প্রতিবাদ করলে প্রশাসন দিয়ে নানাভাবে হেনস্থা করেন নেছার আলী। নেছার আলীর নামে ঝিকরগাছা, কলারোয়া ও শার্শা থানায় এখানো একাধিক ডাকাতি মামলা রয়েছে। এ ব্যাপারে কথা বলার জন্য নেছার আলীর মোবাইলে একাধিকবার কল করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।