মানহানির দুই মামলায় খালেদা জিয়ার জামিন বহাল

ঢাকা ও নড়াইলের মানহানির দুই মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন আপিল বিভাগ। এর ফলে এসব মামলায় খালেদা জিয়াকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন বহাল থাকছে বলে জানিয়েছেন তাঁর আইনজীবীরা।

আজ সোমবার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চ জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদনের ওপর শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। অন্যদিকে খালেদা জিয়ার পক্ষে শুনানি করেন খন্দকার মাহবুব হোসেন ও এ জে মোহাম্মদ আলী।

এর আগে মুক্তিযুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর অবদান এবং শহীদের সংখ্যা নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ও মন্তব্য করায় ঢাকায় দায়ের করা মানহানির মামলায় খালেদা জিয়াকে ছয় মাসের জামিন দেন হাইকোর্ট। জামিন আবেদনের শুনানি নিয়ে গত ১৪ আগস্ট বিচারপতি মুহাম্মদ আবদুল হাফিজ ও বিচারপতি কাশেফা হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। পরে ওই আদেশ স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ আবেদন করে।

গত ৩০ আগস্ট চেম্বার বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী আবেদনটির ওপর ‘নো অর্ডার’ (কোনো আদেশ নয়) দেন। একই সঙ্গে আবেদনটি শুনানির জন্য ১ অক্টোবর দিন ধার্য রাখার আদেশ দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতেই মামলাটি সোমবারের (১ অক্টোবর) আপিল বিভাগের কার্যতালিকায় এসেছে।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০১৫ সালের ২১ ডিসেম্বর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল আয়োজিত এক আলোচনা সভায় মুক্তিযুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর অবদান ও শহীদের সংখ্যা নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য দেন খালেদা জিয়া।

পরের দিন খালেদা জিয়ার ওই বক্তব্য বিভিন্ন জাতীয় পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত হয়। ওই বক্তব্যে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের নিয়ে কটাক্ষ করা হয়েছে, স্বাধীনতা যুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর অবদান এবং ভূমিকাকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে। তাই এ ধরনের বক্তব্যে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া দণ্ডবিধি ৫০০ ধারা অনুযায়ী অপরাধ করেছেন। এমন অভিযোগে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ২০১৬ সালের ৫ জানুয়ারি ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালতে (সিএমএম) মামলা করেন জননেত্রী পরিষদের সভাপতি এ বি সিদ্দিকী।

এ মামলায় গত ৭ আগস্ট খালেদা জিয়ার আবেদন নামঞ্জুর করেন বিচারিক আদালত। আদেশে আদালত বলেন, ‘আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা পেন্ডিং আছে। তিনি এখনো এ মামলায় গ্রেপ্তার হননি। এ অবস্থায় আসামিপক্ষের জামিন শুনানির আবেদনটি রক্ষণীয় নয় বিধায় নামঞ্জুর করা হলো।’

এরপর ওই আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্ট থেকে জামিন পান খালেদা জিয়া। কিন্তু হাইকোর্টের সে আদেশ স্থগিত চেয়ে আবেদন করায় তা শুনানির জন্য আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে পাঠান চেম্বার আদালত।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
admin
লেখক / প্রতিবেদক

admin

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।