আজ ১০ অক্টোবর বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস। বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস হলো পৃথিবীর সকলের মানসিক স্বাস্থ্যশিক্ষা, সচেতনতার দিন। ১৯৯২ সাল থেকে সারা বিশ্বে মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্দেশে প্রতিবছর দিবসটি পালন করা হয়। বিশ্বের অন্যান্য দেশের ন্যায় বাংলাদেশেও দিবসটি পালিত হচ্ছে। তবে কিছু দেশে একে মানসিক রোগ সচেতনতা সপ্তাহের অংশ হিসেবেও পালন করা হয়।
দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য- ‘অসম বিশ্বে মানসিক স্বাস্থ্য (Mental Health in an Unequal World)’
মানসিক স্বাস্থ্য বলতে মানসিকভাবে ব্যক্তির সুস্থতাকে বোঝায়। একজন ব্যক্তি যখন চারপাশের সকল সুশৃঙ্খলতা বা বিশৃঙ্খলতা দেখার পর নিজেকে সুন্দর, সুস্থ ও দেশের সুনাগরিক হিসেবে পরিচিত করাতে পারে তখন তাকে আমরা একজন সুস্থ মানুষ হিসেবে গণ্য করি। যখন একজন মানুষ সুস্থ থাকে তখন পারিবারিক সামাজিক ও কর্মক্ষেত্রে সে ব্যক্তিগত সন্তুষ্টির সাথে সাথে সকলের সন্তুষ্টির অর্জন করতে পারে এবং সকলের আস্থাভাজন হতে পারে। অর্থাৎ মানসিক স্বাস্থ্য বলতে শারীরিক ও নৈতিক এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের মিথস্ক্রিয়ার আত্মোন্নয়নমূলক জীবনের প্রতিশ্রুতি হচ্ছে মানসিক স্বাস্থ্য। মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নয়নের ব্যাপারটি সৃষ্টি হয় পরিবার থেকে। কারণ একটি শিশুর প্রথম বিকাশ শুরু তার পরিবারে। অতি আদর, অবহেলা, অতিশাসন শিশুর স্বাভাবিক বিকাশকে যেমন ব্যাহত করে তেমনি পরিমিত আদর, ভালোবাসা, শাসন, মর্যাদা ও কাজের স্বীকৃতি শিশুর স্বাভাবিক বিকাশ নিশ্চিত করে। সুতরাং পরিবারগুলোকে সুগঠিত হতে হবে আন্তরিকতায় সাথে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে, প্রতি ৪০ সেকেন্ডের মধ্যে সারাবিশ্বে কেউ না কেউ আত্মহত্যার মাধ্যমে প্রাণ হারান। আত্মহত্যাজনিত মৃত্যুর অধিকাংশই প্রতিরোধযোগ্য। অধিকাংশ ব্যক্তিই আত্মহত্যার সময় কোন না কোন মানসিক রোগে আক্রান্ত থাকেন। সাধারণত সেটা গুরুত্ব দেওয়া হয় না বা মানসিক রোগ নিশ্চিত হলেও যথাযথ চিকিৎসা করা হয় না বলেই আত্মহত্যা বেড়ে যাচ্ছে। তবে মানসিক স্বাস্থ্যের মাধ্যমে আত্মহত্যার হার কমিয়ে আনা সম্ভব।
দিবসটি উপলক্ষে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে বিভিন্ন কর্মসূচি নেয়া হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে পৃথক বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
এ দিবসটি উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ বলেন, মানসিক রোগ নিয়ে এদেশের মানুষের মধ্যে অনেক অন্ধবিশ্বাস, কুসংস্কার ও ভ্রান্ত ধারণা রয়েছে। তাই চিকিৎসার পাশাপাশি মানসিক রোগীকে পারিবারিক ও সামাজিক সমর্থন প্রদান খুবই জরুরি। একই সাথে ঝাড়ফুঁক বা অবৈজ্ঞানিক চিকিৎসা পদ্ধতি পরিহারে জনগণের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। আমি মানসিক স্বাস্থ্যসেবাকে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছি। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় মানসিক রোগী ও তাদের পরিবারের মুখে হাসি ফুটবে- এ প্রত্যাশা করি।
এ দিবসটি উপলক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্ব সভ্যতা বিকশিত হয়েছে। কিন্তু বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিস্তর বৈষম্য ও নানাবিধ অসমতা রয়ে গেছে দেশে দেশে। এ অসমতা অর্থনৈতিক, সামাজিক এমনকি স্বাস্থ্য ক্ষেত্রেও। স্বাস্থ্যের দিকে যদি তাকাই তাহলে মানসিক স্বাস্থ্য আরো বেশি উপেক্ষিত। অথচ সুখী, সমৃদ্ধ, বৈষম্যহীন মানবিক বিশ্ব গঠনে শারীরিক স্বাস্থ্যের পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্যের দিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন।





