× Banner
সর্বশেষ
স্বামীকে ছেড়ে প্রেমিকের সঙ্গে নতুন জীবনের স্বপ্ন, ট্রেনের নিচে তরুণী জনগণের সেবায় আন্তরিকভাবে কাজ করতে ইউএনওদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান ৫০০ টাকার বিনিময়ে চুল বিক্রি, দুই সন্তানকে নিয়ে রেললাইনে রেহানা ক্ষুদ্র-মাঝারি শিল্পের অবদান ৬০ শতাংশে নিতে হবে – শিল্পমন্ত্রী মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে কর্মসংস্থান বাড়াতে কাজ করছে সরকার – প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু যশোর সিমান্ত এলাকায় বিজিবি অভিযানে মাদকদ্রব্য ও চোরাচালান পণ্যসহ আটক-১ বাঁশখালীকে বন্যা মুক্ত করার পদক্ষেপ নেয়া হবে – ত্রাণমন্ত্রী হাওরে বাড়বে মাছের অভয়াশ্রম, ইজারা প্রথা বাতিলের উদ্যোগ – মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী তরুণদের নেতৃত্বেই টেকসই হবে প্রযুক্তিনির্ভর উন্নয়ন – তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী বেনাপোল ইমিগ্রেশন পরিদর্শনে এসবি প্রধান, যাত্রী হয়রানি বন্ধের নির্দেশ

মানসিক চাপ থেকে মুক্ত করার উপায়

admin
হালনাগাদ: সোমবার, ৯ নভেম্বর, ২০১৫

আচার্য ব্রজেশ্বরানন্দ অবধুতঃ আমাদের অধিকাংশ চাপগুলি তখনই আসে, যখন আমাদের অহংবোধ কোন সত্যিকারের বা কাল্পনিক বিপদের সংকেত পায়। যখন অপমান, সমালোচনা বা অন্যের রক্তচক্ষু ইত্যাদি মানসিক আঘাতের ফলে আমাদের আত্মসন্মানবোধ আহত হয়। তখন আমরা এই পরিস্থিতি থেকে বাঁচতে হয় পালিয়ে যেতে চাই নতুবা এসবের বিরুদ্ধে লড়ে বদলা নিতে চাই। আর তা করতে পারলেই আমরা এই চাপ থেকে নিজেকে মুক্ত করতে পারি।

কিন্তু আধুনিক সভ্য জগতে সাধারণতঃ আমরা দৈহিক ক্রিয়া-কলাপের মাধ্যমে এই চাপ থেকে মুক্ত হতে পারি না, এগুলো আমাদের ভিতরে জমা হতে থাকে। ফলস্বরুপ আমাদের রক্তের চাপ বেড়ে যায়, হৃদকম্প শুরু হয়, শরীরের মাংস পেশী উত্তেজিত হয়, পাকস্থলী আলোড়িত হয়। কিন্তু আমরা আমাদের এই অনুভূতিগুলি কাউকে প্রকাশ করিনা, লুকিয়ে রাখি। আমাদের রাগ, হতাশা সব সব কিছু দমন করে রাখি। বাইরে এমন ভাব দেখাই যেন কিছুই হয়নি, সব কিছুই ঠিকঠাক চলছে।

আজকাল আমরা, ঘরে বা বাইরে কাজে সর্বদা এত বেশী চাপজনিত পরিস্থিতির সম্মুখীন হই যে এই ধরণের উত্তেজনা সহ্য করা আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অঙ্গ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমরা সব সময় একটা চাপা উত্তেজনা অনুভব করি, দুশ্চিন্তায় থাকি কিন্তু এই ভিতরে জমে থাকা চাপা উত্তেজনাকে বার করার কোন রাস্তাই খুঁজে পাই না। আমরা সব সময়Red alert’ থাকি আর আমাদের সহানুভূতি সম্পন্ন স্নায়ুতন্তুও সর্বদা উত্তেজিত থাকে। আমরা সর্বদা কেমন যেন খিটখিটে, দ্বিধাগ্রস্থ ও দুশ্চিন্তার মধ্যে থেকে থেকে আত্মবিশ্বাসও হারিয়ে ফেলি। ফলে ক্রমেই আমরা কাজের অযোগ্য হয়ে পড়ি আর অন্যের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখাও কঠিন হয়ে পড়ে। আমাদের জীবনকে উপভোগ করার সমস্ত শক্তিই যেন শেষ হয়ে যায়।

এই অবস্থায় আমরা প্রায়ই দ্রুত সমাধান খুঁজি মদ-গাঁজা-হেরোইন-সিগারেট-কফি-ড্রাগ ইত্যাদির মাধ্যমে। আমরা এই ভাবে নেশাগ্রস্থ হয়ে নিজেকে ভুলতে চাই, চাপকে ক্ষণিকের জন্যে দূরে সরিয়ে রেখে মনের শান্তি পেতে চাই। কিন্তু কালক্রমে এগুলিই আমাদের চাপকে আরও বাড়িয়ে দেয়। কফির caffeine আমাদের রক্তের চাপ ও হৃদস্পন্দনকে বাধা দেয়, সিগারেটের নিকোটিন (nicotine) হার্ট ও ফুসফুসের রোগ তথা ক্যানসার তৈরী করে। আর মদ তৈরী করে লিভার, হার্ট ও মস্তিষ্কের রোগ।

আবার এই সব সঞ্চিত আবেগময় চাপা উত্তেজনা আমাদের দেহে স্থায়ী হয়ে গেলে বিভিন্ন ধরণের psychosomatic লক্ষণ দেখা দেয়। যেমন-ক্ষুধামন্দ, অনিদ্রা, স্মরণ শক্তি কমে যাওয়া বা শারীরিক দুর্বলতা ইত্যাদি। এই সাইকোসোমাটিক লক্ষণগুলি তখন শরীরের কোন একটা দুর্বল অঙ্গে ঘনীভূত হয়ে বিভিন্ন ধরণের শারীরিক সমস্যার সৃষ্টি করে, যেমন হার্টের ধড়ফড়ানি, অম্লরোগ বা শ্বাস-প্রশ্বাসের কষ্ট। পরিশেষে এগুলি মারাত্মক ধরণের শারীরিক রোগে পরিণত হয়, যেমন-হৃদরোগ, আল্‌সার, শ্বাসরোগ। এইগুলি আবার আরও অধিক মাত্রায় নতুন চাপের সৃষ্টি করে এই রোগগুলিকেই বাড়িয়ে দেয়।


এ ক্যটাগরির আরো খবর..