× Banner
সর্বশেষ
মানবসম্পদ উন্নয়নসহ বিভিন্ন খাতে জাপানের সক্রিয় সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী ক্ষমতার পালাবদলে বদলে গেছে রাজনৈতিক অবস্থান,শৈলকুপায় ইছহাক হোসেনকে নিয়ে তুমুল আলোচনা ভারতের জেল থেকে মুক্ত ৫ বাংলাদেশি তরুণী, বেনাপোল দিয়ে দেশে প্রত্যাবর্তন শিশুর মতোই গাছের চারার পরিচর্যা করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী সব ধর্মের প্রতি সহনশীলতা বজায় রেখে নিজ ধর্ম চর্চার আহ্বান তথ্যমন্ত্রীর মানবপাচার প্রতিরোধ ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করতে আইওএমের সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর জোর খোলা আকাশের নিচে তাবু টানিয়ে পাঠদান প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে সরকারি পরিসেবার আওতায় আনতে ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালু করার দাবি  বেনাপোল সিমান্ত থেকে ৫৩ বোতল বিদেশি মদ উদ্ধার  জনগণের আস্থা ছাড়া রাজনীতি টেকসই নয়: তথ্যমন্ত্রী

মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে রাষ্ট্রপতির বাণী

Brinda Chowdhury
হালনাগাদ: শনিবার, ২০ ফেব্রুয়ারী, ২০২১
https://thenewse.com/wp-content/uploads/Presidents-message.jpg

ঢাকা, ৭ ফাল্গুন (২০ ফেব্রুয়ারি): রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ আগামীকাল ২১ ফেব্রুয়ারি মহান ‘শহিদ দিবস’ ও ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ২০২১’ উপলক্ষ্যে নিম্নোক্ত বাণী প্রদান করেছেন।

“মহান ‘শহিদ দিবস’ ও ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ২০২১’ উপলক্ষ্যে আমি বাংলাসহ বিশ্বের বিভিন্ন ভাষাভাষী জনগণ ও জাতিগোষ্ঠীকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। মাতৃভাষা এবং নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যসংরক্ষণে এ দিবস উদযাপন একটি অনন্য উদ্যোগ।

মহান ভাষা-আন্দোলন আমাদের জাতীয় ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় ঘটনা। আমি সশ্রদ্ধচিত্তে স্মরণ করি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে, যিনি ১৯৪৮ সালে মাতৃভাষার দাবিতে গঠিত ‘সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ এর নেতৃত্ব দেন এবং কারাবরণ করেন। স্মরণ করি তৎকালীন গণপরিষদ সদস্য ধীরেন্দ্রনাথ দত্তসহ সকল ভাষা-সংগ্রামীকে, যাঁদের দূরদৃষ্টি, অসীম ত্যাগ, সাহসিকতা, সাংগঠনিক দক্ষতা ও তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ফলে ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ভাষা-আন্দোলন চূড়ান্ত পরিণতি লাভ করে। বাঙালি পায় মাতৃভাষার অধিকার।  আমি মাতৃভাষা বাংলার অধিকার আদায়ে জীবন-উৎসর্গকারী ভাষা শহিদ রফিক, সালাম, বরকত, জব্বার, শফিউরসহ নাম না জানা শহিদদের গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি।

ভাষা-আন্দোলন ছিল আমাদের মাতৃভাষার অধিকার-প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি নিজস্ব জাতিসত্তা, স্বকীয়তা ও সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্যরক্ষারও আন্দোলন। আমাদের স্বাধিকার, মুক্তিসংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধে অমর একুশের অবিনাশী চেতনাই যুগিয়েছে অফুরন্ত প্রেরণা ও অসীম সাহস। ফেব্রুয়ারির রক্তঝরা পথ বেয়েই অর্জিত হয় মাতৃভাষা বাংলার স্বীকৃতি এবং এরই ধারাবাহিকতায় আসে বাঙালির চিরকাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা, যার নেতৃত্ব দিয়েছেন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

মাতৃভাষার জন্য জীবন-উৎসর্গ বিশ্বে বিরল ঘটনা। ১৯৯৯ সালে কয়েকজন প্রবাসী বাংলাদেশির প্রাথমিক উদ্যোগ এবং সর্বোপরি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বতঃস্ফূর্ত আগ্রহ ও ঐকান্তিক চেষ্টায় জাতিসংঘ কর্তৃক ২১ ফেব্রুয়ারি ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে। এটিও বাঙালি হিসেবে আমাদের গুরুত্বপূর্ণ অর্জন।

পৃথিবীতে অনেক ভাষাই এখন বিপন্ন। একটা ভাষার বিলুপ্তি মানে একটা সংস্কৃতির বিলোপ, জাতিসত্তার বিলোপ, সভ্যতার অপমৃত্যু। তাই মাতৃভাষা ও নিজস্ব সংস্কৃতির বিকাশসহ সকল জাতিগোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতিরক্ষায় বিশ্ববাসীকে সোচ্চার হতে হবে। বিশ্বের বিকাশমান ও বিলুপ্তপ্রায় ভাষাগুলোর মর্যাদা ও অধিকাররক্ষায় গবেষণার জন্য ২০০১ সালে ঢাকায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তাছাড়া দেশে ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠীর মাতৃভাষা সংরক্ষণ ও উন্নয়নে তাদের নিজস্ব ভাষায় পাঠ্যপুস্তক প্রণয়ন ও পাঠদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। একই সাথে যে বাংলাভাষার জন্য আমরা জীবন দিয়েছি, তার উন্নয়নে সর্বস্তরে শুদ্ধ-বাংলার প্রচলনের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। নিজভাষার উন্নয়ন ও সংরক্ষণের পাশাপাশি বহুভাষিক শিক্ষার মাধ্যমে টেকসই ভবিষ্যৎ-বিনির্মাণ করতে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন ইতিবাচক অবদান রাখবে বলে আমার বিশ্বাস।

বিশ্বের বিভিন্ন ভাষাভাষী মানুষের নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃতিরক্ষায় অমর একুশের চেতনা আজ অনুপ্রেরণার অবিরাম উৎস। এ চেতনাকে ধারণ করে পৃথিবীর নানা ভাষাভাষী মানুষের সাথে নিবিড় যোগসূত্র স্থাপিত হোক, লুপ্তপ্রায় ভাষাগুলো আপন মহিমায় নিজ-নিজ সম্প্রদায়ের মধ্যে উজ্জীবিত হোক, গড়ে উঠুক নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃতির বর্ণাঢ্য বিশ্ব-মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে এ কামনা করি।

জয় বাংলা।

খোদা হাফেজ, বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।”


এ ক্যটাগরির আরো খবর..