মমিনপুর লক্ষ্মীপূজোয় হামলার ভিডিও ধারনে সাংবাদিক মানব গুহকে আটক

মমিনপুর লক্ষ্মীপূজোয় হামলার ভিডিও ধারনে সাংবাদিক মানব গুহকে আটক

দক্ষিণ কলকাতার মমিনপুর এলাকায় স্থানীয় সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকেরা ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক আক্রমণ হয়। ব্যাপক ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটতরাজ চালানো হয়। এছাড়া মারধর ও নারীদের গায়ে হাত তোলার অভিযোগও রয়েছে। এই ঘটনার একটি ভিডিও ক্লিপ নিজস্ব ক‍্যামেরায় ধারণ করা ‘দ‍্যা নিউজ’-এর সাংবাদিক মানব গুহকে বুধবার গভীর রাতে আটক করেছে পুলিশ।

গত ৯ অক্টোবর লক্ষ্মী পূজার দিন দক্ষিণ কলকাতার মমিনপুর এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা। এতে দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এ সময় ইকবালপুর থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভকারী। এলাকায় ব্যাপক ভাঙচুরের অভিযোগ রয়েছে। পুলিশকে লক্ষ্য করে ছোড়া হয় পাথর ও বোমা। এ ঘটনায় দুই আইপিএস অফিসারসহ আহত হন অন্তত ৯ জন পুলিশ সদস্য। গ্রেপ্তার করা হয় প্রায় ৪০ জনকে।

সাংবাদিক মানব গুহ এই ভিডিও ক্লিপটি সামাজিক মাধ্যমে আপলোড করেন এবং এই ভিডিও ক্লিপটি ভাইরাল হয়ে যায়। ভারতের মূলধারার সংবাদমাধ্যম নিশ্চুপ থাকলেও, এই ভিডিও ক্লিপটির মাধ্যমে সাধারণ মানুষ জানতে পারে, মমিনপুর-ইকবালপুর এলাকার বাস্তব পরিস্থিতি।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উস্কানিমূলক ভিডিও প্রচারের মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়ানোর অভিযোগে – কলকাতা পুলিশ গত বুধবার গভীর রাতে সাংবাদিক মানব গুহকে গ্রেপ্তার করেছে।

পুলিশ বলেছে, মানব যে ধরনের ভিডিও শেয়ার করেন, তা সমাজে আরও উত্তেজনা ছড়াতে পারত। গত ৯ অক্টোবর লক্ষ্মীপুজোর দিন মোমিনপুর এলাকায় দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। রাতে একবালপুর থানা (Ekbalpur Police Station) ঘেরাও করে বিক্ষোভকারীরা। চলে পাথর ছোড়া। পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেলও ছোড়া হয়। অভিযোগ, পুলিশকে লক্ষ্য করে বোমা ছোড়ে কয়েকজন। এ পর্যন্ত চারটি মামলা রুজু করা হয়েছে। ধৃতদের প্রত্যেককে সাতদিনের পুলিশ হেফাজতে পাঠিয়েছে আদালত। এসব আসামির বিরুদ্ধে হামলা, সম্পত্তি ক্ষতির মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। উত্তেজনার পর ১২ অক্টোবর পর্যন্ত এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, ওইদিন রাতে মোট ৬টি দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, ৪টি ট্যাক্সি, ২০টি স্কুটার ও ২টি বাইকে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। সবকিছুই সিসিটিভি-তে ধরা পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে আগামীদিনে আরও কয়েকজনকে গ্রেফতার হতে পারে বলে দাবি করছে কর্তৃপক্ষ।

মোমিনপুরে হিংসার ঘটনায় বিজেপির সোশ্যাল মিডিয়া প্রধান অমিত মালব্য টুইটারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারকে নিশানা করেছিলেন। ১৯৪৬ সালের নোয়াখালি দাঙ্গার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘মানুষ ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিচ্ছে না, পুনরাবৃত্তি করছে।’ তিনি বিষয়টিকে কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর দিন ঘটে যাওয়া ঘটনার সঙ্গে তুলনা করেন। মোমিপুর কাণ্ডে এলাকায় কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের দাবিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে চিঠি লিখেছেন পশ্চিমবঙ্গের বিরোধীদলীয় নেতা শুভেন্দু অধিকারী।

শুভেন্দুবাবু টুইটারে শুক্রবার লিখেছেন, সম্প্রতি কোজাগরী পূর্ণিমার রাতে লক্ষ্মী পুজোর সময় মোমিনপুরে তাণ্ডব চালানোর পরে এক বিশেষ সম্প্রদায়ের দুষ্কৃতীরা (একাংশ, যাদের কুকীর্তির জন্য পুরো সম্প্রদায়কে কালিমালিপ্ত হতে হয় প্রায়শই) প্রত্যন্ত জঙ্গলমহলে নয়, একেবারে খাস কলকাতা শহরের মধ্যস্থলে অবস্থিত একবালপুর থানার দখল নিয়ে নেয়। মেরুদণ্ডহীন মমতা-পুলিশ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে থানা থেকে পালায়। এই বিষয়ে আমার অবস্থান স্পষ্ট করে জানাচ্ছি, যে সকল সোশ্যাল মিডিয়া সাংবাদিক যেমন মানব গুহ অথবা ওনার মতোই অন্যেরা যেমন পৌলমী নাগ, যাঁরা সরকারের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে, চোখে চোখ রেখে সততার সঙ্গে সাংবাদিকতা করছেন এবং এমন সব খবর জনগণের সামনে উপস্থাপন করছেন যা মূল ধারার সংবাদমাধ্যম করতে সাহস পায় না, তাদের প্রতি আমার সমর্থন সর্বদা বজায় থাকবে। ওনাদের লড়াইকে আমার কুর্নিশ জানাই ও ওনাদের প্রতি আমার সক্রিয় সমর্থন সর্বদা অটুট থাকবে।”

এ ঘটনায় বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার বলেন, এই ঘটনা গণতন্ত্রের ওপর চরম আঘাত। মানব গুহকে দ্রুত মুক্ত না করলে পথে নামবে বিজেপি।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
Brinda Chowdhury
সংবাদ প্রতিনিধি

Brinda Chowdhury

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।