মন্দির থেকে বসবাসকারী উচ্ছেদের প্রতিবাদে মানব বন্ধন

প্রানতোষ তালুকদারঃ  শ্রীশ্রী রাধাকান্ত, শ্রীশ্রী লক্ষ্মী জনার্দ্দন ও শ্রীশ্রী লক্ষ্মী ঠাকুরাণী জিঁউ বিগ্রহ মন্দিরের বসবাবাসরত ১৫টি পরিবার উচ্ছেদ করার চক্রান্তের প্রতিবাদে এলাকাবাসীর মানববন্ধন।

অদ্য ০২ ডিসেম্বর ২০১৬ ইং, রোজ শুক্রবার বেলা ১০টার সময় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে রাজধানীর ওয়ারী থানাধীন ২২২ নং লালমোহন সাহা ষ্ট্রীট, ঢাকা হোল্ডিং এ উক্ত মন্দিরে বসবাসকারীদের মানব বন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

উক্ত মানববন্ধনে নির্যাতনের শিকার বাবুল চন্দ্র দাস বলেন, গত ২৮ নভেম্বর ২০১৬, সোমাবার মন্দির পরিচালনার দায়িত্বপ্রাপ্ত সাধু “রূপানুগ গৌর দাস ব্রহ্মচারী ও তার ক্যাডার বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রীষ্টান আদিবাসী পার্টির সভাপতি মিঠুন চৌধুরী ও তার ১৫/২০ সন্ত্রাসীকে নিয়ে উক্ত মন্দিরে প্রবেশ করে আমার বোনকে শারীরিক নির্যাতন করে এবং আমি বাঁধা দিতে গেলে আমাকে বেধরক মারধর করে বাড়ী থেকে বের করে দেয়।

মন্দিরে বসবাসরত নির্যাতনের শিকার চিনু রাণী দাস বলেন, তাকে প্রায় সময়ই মন্দিরের সাধুরা কু দৃষ্টি দিত এবং কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছে।

তিনি কাতর দৃষ্টিতে বলেন, গত ২৮শে নভেম্বর রাতে তার ঘরে ঢুকে স্পর্শকাতর জায়গায় স্পর্শ করে টেনে হিঁচড়ে পরনের কাপড় ছিঁড়ে ফেলে ও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে ঘরের মালামালসহ গহনা, আসবাবপত্র লুট করে রাত ১২টার সময় মন্দির থেকে বাহির করে দেয়।

মানববন্ধনে বক্তাগণ বলেছেন যে উক্ত মন্দিরে বসবাসরত লোকজন ৭০/৮০ বৎসর যাবৎ বসবাস করে আসছে। কিন্তু আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ (ইস্কন) সংগঠনের এর নামধারী সাধু “রূপানুগ গৌর দাস ব্রহ্মচারী ও তার ক্যাডার বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রীষ্টান আদিবাসী পার্টির সভাপতি, মিঠুন চৌধুরীকে নিয়ে মন্দিরের ষাট কোটি টাকার সম্পত্তি গ্রাস করার জন্য মন্দির হইতে বসবাসরত লোকজনদের উচ্ছেদ করার জন্য তাদেরকে দুই মাসের সময় দিয়ে হুমকি প্রদান করে। এবং রাত্রে ঘর থেকে বাহির না করার জন্য চিনু রাণীর ৭০ বছরের বৃদ্ধা অসুস্থ “মা ঐ নামধারী সাধুদের করজোরে অনুরোধ জানাইলেও পাষন্ড সাধুরা এবং তাদের গুন্ডা ও সন্ত্রাসী বাহিনীরা তাদের কোন কথা রাখেনি। চিনু রাণী সহ তার পরিবারকে মন্দির হইতে বাহির করে দেয় এবং তারা এই বলে হুমকি দেয় যে এই মন্দিরের ভিতরে যেন চিনু রাণী দাসরা আর যেন প্রবেশ করতে না পারে। সেই সাথে আরেকজন মন্দিরে বসবাসরত ভাড়াটিয়া সুজনকেও বাহির করে দেয়।

বক্তাগণ বলেছেন আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত (ইস্কন) সংগঠনকে শ্রীশ্রী রাধাকান্ত, শ্রীশ্রী লক্ষ্মী জনার্দ্দন, শ্রীশ্রী লক্ষ্মী ঠাকুরাণী জিঁউ বিগ্রহ মন্দির এর পরিচালনার দায়িত্বভার দেয়া হয়েছিল। যাহাতে মন্দিরটি সুরক্ষিত থাকে এবং সবসময় পূজা-অর্চনা হয়।

মন্দিরে বসবাসরত লোকজন বলেছেন ৭০/৮০ বৎসর যাবত বসবাস করে আসছে। কিন্তু ইস্কনকে পরিচালনার দায়িত্ব ভার দেয়ার পরেই ইস্কন চাচ্ছে মন্দির থেকে বসবাসরত ভাড়াটিয়াদের উচ্ছেদ করতে মরিয়া হয়ে উঠে। এবং মন্দিরে বসবাসরত পরিবারগুলোকে নানাভাবে ইসকনের সাধুরা কষ্ট দিয়ে আসছে, যেমন গ্যাস লাইন কেটে দেয়া, বিদ্যুৎ লাইন কেটে দেওয়া থেকে শুরু করে মেয়েছেলেদের দিকে কুদৃষ্টি দিয়ে নাজেহাল করে আসছে।

মন্দিরের এক বসবাসরত জনৈক ব্যক্তি বলেন, ইতিপূর্বে মন্দির এর পুজারীর কুদৃষ্টি ও যৌন লিপ্সা থেকে মেয়েরা ইজ্জত বাঁচাতে সবসমসয় আতগ্রস্ত অবস্থায় দিনাতিপাত করছিল। উক্ত মন্দিরের সাবেক পূজারীর যৌন লিপসা থেকে বাচতে পারেনি  ভাড়াটিয়ার কলেজ পড়ুয়া মেয়ে, জোড় পূর্বক যৌন লিপসা মিটায়ে গর্ভসঞ্চার পরবর্তীতে দুর্ণামের ভয়ে গর্ভপাতে করাতে বাধ্য হন মেয়েটি।

তার পরবর্তীতে ইসকনের একজন সাধু অমানী গৌর দাস ব্রহ্মচারী ২০১৪ ইং সালে মন্দিরের ভাড়াটিয়া সুজন ঘোষ এর স্ত্রীর দিকে কুদৃষ্টি দেওয়ার কারণে হাতে নাতে ধরা পড়ে এবং মন্দিরের লোকজন মহিলারাসহ সাধু অমানী গৌর দাস ব্রহ্মচারীকে ঝাড় ও জুতা পেটা করে মন্দির থেকে বাহির করে দেয়।

বক্তাগণ বলেছেন ইসকনের সাধুগণ কি মানবতা বুঝেন না?  ধর্ম কি বুঝেন? ধর্ম তো মানুষদের রক্ষা করার জন্য, মানব কল্যাণের জন্য। এভাবে লোকজনদের অত্যাচার করার জন্য কি ধর্ম? মন্দিরে বসবাসরত অতিশয় গরীব পরিবারগুলো কোথায় যাবে? এই মন্দিরে তো ৭০/৮০ বৎসর যাবত অসহায় গরীব পরিবারগুলো বসবাস করে আসছে। এতদিন তো কেউ তাদের তাড়ায় নাই বা তাদের কেউ উচ্ছেদ করতে আসে নাই। এখন কেন তাদের লাঠিসোটা নিয়ে পিটিয়ে রাতের অন্ধকারে ঘর থেকে বাহির করা হচ্ছে? এবং মহিলাদের মারধোর ও কুদৃষ্টি দেয়া সহ অনেক অত্যাচার-নিপিড়ন করে আসছে কেন? এর উত্তর হচ্ছে এই আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত (ইস্কন) সংগঠনটি ভন্ড সাধুগণ তার মধ্যে শ্রেষ্ঠ ভন্ড সাধু রূপানুগ গৌর দাস ব্রহ্মচারী ও তার ক্যাডার বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রীষ্টান আদিবাসী পার্টির সভাপতি, মিঠুন চৌধুরীকে হাত করে নিয়ে উক্ত মন্দিরটির ষাট কোটি টাকার সম্পত্তি গ্রাস করার জন্য উঠেপড়ে লেগেছে। এরা কেমন ধর্ম-কর্ম করে? এরা কারা? এরা কি অন্য কোন মতলবে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে? সেটাই দেখার বিষয়।

মানববন্ধনটির শেষের দিকে ইসকনপন্থী লোকজন এসে মানবন্ধন এর ব্যানার নিয়ে টানাহিঁচড়া করে মানব বন্ধনটির কার্যক্রম বন্ধ করে দেয় এবং চিনু রাণী দাস ও তার পরিবারবর্গকে হুমকি-ধমকি দেয়।

এ মানব বন্ধনে একাত্মতা প্রকাশ করেন একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মুল কমিটির নেতৃবৃন্দ ও সাবেক বিচারক ঝুমুর গাঙ্গুলীসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গগণ।

সবশেষে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিকট এর প্রতিকার চাচ্ছেন ও বিচার চেয়ে আজকের মানববন্ধন এর পরিসমাপ্তি ঘটিয়েছেন।

 

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
admin
লেখক / প্রতিবেদক

admin

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।