ভারতকে কাজ না দেওয়ার দাবীতে শ্রীলঙ্কায় অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘট

দেবাশীষ মুখার্জী, কূটনৈতিক প্রতিবেদক: চীনের  ৫০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগে নির্মিত এবং চীন কর্তৃক পরিচালিত শ্রীলঙ্কার কলম্বো ইন্টারন্যাশনাল কনটেইনার টার্মিনালের (সিআইসিটি) ঠিক পাশেই,  ইস্ট কনটেইনার টার্মিনাল (ইসিটি) উন্নয়নের জন্য বিগত সিরিসেনা সরকার, ভারত ও জাপানের সঙ্গে সহযোগিতা স্মারক (এমওসি) স্বাক্ষর করে।

শ্রীলঙ্কার রাজধানীতে অবস্থিত সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ কলম্বো বন্দরে, একটি ডিপ-সি কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণের জন্য ভারতের সঙ্গে প্রস্তাবিত চুক্তি বাতিলের জন্য – সেখানকার শ্রমিকরা  হাতে কালো ব্যাজ ধারণ করে  বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে। বিক্ষোভকারীদের ভাষায়, সরকার যদি ভারতকে ইস্ট কনটেইনার টার্মিনাল (ইসিটি) প্রকল্পের কাজ দেয়, তাহলে অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘট শুরু করে বন্দর অচল করে দেওয়া হবে।

ভারত ও জাপানের সঙ্গে শ্রীলঙ্কা এক বছর আগে এমওসি স্বাক্ষর করলেও, টার্মিনালটি উন্নয়নের জন্য আনুষ্ঠানিক চুক্তি করা হয়নি। বন্দর শ্রমিকরা এমওসি বাতিল করে শ্রীলঙ্কার ১০০% মালিকায় টার্মিনাল উন্নয়নের জন্য সরকারকে চাপ দিচ্ছে।

শ্রমিক নেতা শ‍্যমাল সুমনারত্নে সাংবাদিকদের বলেন, সরকারকে বলতে হবে কার চাপে তারা টার্মিনাল উন্নয়ন করতে পারছে না। এটা যদি ভারত হয়, তাহলে আমরা বলব যে বন্দরের ভবিষ্যৎ বিপদের মুখে।

শ্রমিকরা প্রভাবশারী বৌদ্ধভিক্ষু ইলে গুনাবানসাকে তাদের সমাবেশে নিয়ে আসে। বৌদ্ধভিক্ষু শ্রমিকদের আশীর্বাদ করেছেন এবং সরকারের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, ভারতকে যেন কাজ দেওয়া না হয়।

বৌদ্ধভিক্ষু গুনাবানসা আরোও  বলেন, আমরা সরকারকে আরো সময় দেবো। তবে সরকার যদি সঠিক কাজটি করতে না চায়, তাহলে আমরা রাস্তায় নামবো।

আরেক শ্রমিক নেতা প্রসন্ন কালুথারাজি বলেন, শ্রীলঙ্কা সরকার যাতে পুরোপুরি নিজের টাকায় ইসিটি উন্নয়ন করতে পারে ,সেজন্য প্রতিমাসে সরকারি কোষাগারে ৫০ মিলিয়ন রুপি যোগানোর নিশ্চয়তা দেবে শ্রমিকরা।

আরেক শ্রমিক ইউনিয়ন নেতা কেপিপি কৃষান্থ বলেন, আসন্ন নির্বাচনে সরকারকে উচিত শিক্ষা দেওয়া হবে।

প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকসে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ভারতকে ইসিটি উন্নয়নের কাজ দেওয়া নিয়ে চূড়ান্ত কোন চুক্তি হয়নি।
প্রধানমন্ত্রী আরোও বলেন, এই এমওসি ভারতের সঙ্গে স্বাক্ষর করা হয়েছিল বিগত সরকারের প্রেসিডেন্ট সিরিসেনা এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মধ্যে।

উল্লেখ্য, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী মহিন্দা রাজাপাকসে প্রেসিডেন্ট থাকাকালে(২০০৫-২০১৫), উচ্চ সুদে চীনের কাছ থেকে বেপরোয়া ভাবে ঋণ নিয়ে, শ্রীলঙ্কার অর্থনীতির বেহাল করে ফেলেছিলেন।

শ্রীলঙ্কার বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ তলানিতে ঠেকে যায়। ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে না পারায়, হাম্বানতোতা বন্দর চীনের হাতে তুলে দিতে বাধ্য হয়েছিল শ্রীলঙ্কা।

রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর মৈত্রীপালা সিরিসেনা সরকার ক্ষমতায় এসে, শ্রীলংকার অর্থনীতি পুনরুদ্ধার করতে, ভারতের প্রতি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে আহ্বান জানায়। ভারত তখন বন্ধুপ্রতিম জাপানকে সঙ্গে নিয়ে, নামমাত্র সুদে শ্রীলঙ্কার বিভিন্ন প্রকল্পে বিনিয়োগ করে; ফলে শ্রীলঙ্কার অর্থনীতি কিছুটা চাঙ্গা হয়।

কার্যসিদ্ধির পর মাহিন্দা রাজাপাকসে,তার ছোট ভাইকে প্রেসিডেন্ট বানিয়ে – নিজে প্রধানমন্ত্রী থেকে, চীনের ক্রীড়নক হয়ে ভারত বিরোধী ষড়যন্ত্র শুরু করেছেন।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
Kishori
লেখক / প্রতিবেদক

Kishori

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।