ব্রিকস জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের বৈঠকের ফাঁকে ইরানের এক জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তার সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi-এর বৈঠক দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্কের গুরুত্বকে আবারও সামনে এনেছে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, এই বৈঠকে ভারত-ইরান নিরাপত্তা সহযোগিতা, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, সন্ত্রাসবাদ দমন, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং পশ্চিম এশিয়ার সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়ে থাকতে পারে। বিশেষ করে ভারত দীর্ঘদিন ধরেই ইরানের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক সম্পর্ক বজায় রেখে চলেছে, একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় মিত্রদের সঙ্গেও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রক্ষা করছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বৈঠকটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হলো যখন BRICS ক্রমশ একটি গুরুত্বপূর্ণ বহুপাক্ষিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে। সদস্য রাষ্ট্রগুলো বৈশ্বিক নিরাপত্তা, অর্থনীতি এবং কূটনৈতিক ইস্যুতে পশ্চিমা নেতৃত্বাধীন কাঠামোর বাইরে সমন্বয়ের সুযোগ খুঁজছে।
ভারতের জন্য এই ধরনের সংলাপ বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ দেশটি বর্তমানে বিভিন্ন শক্তিব্লকের সঙ্গে সমান্তরালভাবে সম্পর্ক গভীর করছে। একদিকে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ ও ইন্দো-প্যাসিফিক অংশীদারদের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াচ্ছে, অন্যদিকে ইরান, রাশিয়া ও ব্রিকসভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গেও কৌশলগত যোগাযোগ অব্যাহত রাখছে।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের এই ‘বহুমুখী কূটনীতি’ তাকে বৈশ্বিক শক্তিগুলোর মধ্যে একটি সংযোগকারী রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করছে। ফলে ব্রিকসের মতো ফোরামে ভারত-ইরান উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ শুধু দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের দিক থেকেই নয়, বরং বৃহত্তর আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক কৌশলগত ভারসাম্যের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে।