ব্রিকসের নতুন সদস্য হতে যাচ্ছে ৬টি দেশ, বাংলাদেশ নেই

ব্রিকসের নতুন সদস্য হতে যাচ্ছে ৬টি দেশ, বাংলাদেশ নেই

ব্রিকসের বর্তমান সদস্য ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকা। ব্রিকসের নতুন সদস্য হওয়ার জন্য ছয়টি দেশকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এই দেশ ছয়টি হচ্ছে আর্জেন্টিনা, মিসর, ইথিওপিয়া, ইরান, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। ব্রিকসের পক্ষ থেকে গতকাল বৃহস্পতিবার এই ছয়টি দেশকে এ আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। ব্রিকসে দেশ ছয়টির সদস্যপদ ২০২৪ সালের ১ জানুয়ারি কার্যকর হবে। সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন, দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা। তিনি  বলেন, “আমরা ব্রিকসের অংশীদারত্ব গড়ে তোলার ক্ষেত্রে অন্যান্য দেশের স্বার্থকে গুরুত্ব দিই।”

ব্রিকসে বাংলাদেশকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। বিগত ১৪ জুন দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা, জেনেভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন- ব্রিকসে যাওয়ার জন্য। সেখানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসার বৈঠকের পর, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে ব্রিকসের সদস্যপদের জন্য আবেদন করেছে। ব্রিকসের তিনটি দেশ চাইছে নতুন সদস্য নিতে। এ ছাড়া ভারত ও ব্রাজিল বলছে, নেওয়ার আগে নতুন নিয়ম-কানুন তৈরি করতে হবে। দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট তখন বলেছিলেন, তারা চারটি দেশকে নিতে চান।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, সাধারণত এ ধরনের কোনো ফোরাম বা জোটে যোগ দিতে- শুধু আবেদন করে বসে থাকলেই সদস্যপদ পাওয়ার আশা করা যায় না। কারণ, কোনো জোটে যোগ দিতে হলে, সদস্য দেশগুলোর – নতুন কোনো দেশকে যুক্ত করার বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছাতে হয়। ফলে ওই সব দেশের রাষ্ট্র বা সরকারপ্রধানের কাছে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে চিঠি পাঠানোর পাশাপাশি, সেসব দেশে বিশেষ দূত পাঠানোর মতো প্রয়াস চালাতে হয়। জুনে ব্রিকসের সদস্যপদ পাওয়ার জন্য আবেদন করা ছাড়া, এসব কিছুই করেনি বাংলাদেশ। আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে, ভিন্ন এক ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে, ব্রিকসের সদস্যপদ পেলে – সেটা বাংলাদেশের জন্য নতুন এক মাত্রা যোগ করত বলেই ধারণা করা হচ্ছিল।

উল্লেখ্য, ব্রিকস জোট গঠনের মূল উদ্যোক্তা ছিল রাশিয়া। ব্রিকসের ধারণাটি দিয়েছিলেন, বিনিয়োগ ব্যাংক দ্য গোল্ডম্যান স্যাকসের অর্থনীতিবিদ জিম ও নেইল। তিনি ২০০১ সালের নভেম্বরে এক রিপোর্ট প্রকাশ করে বলেছিলেন, ২০৫০ সাল নাগাদ এই চারটি দেশই অর্থনীতিতে প্রাধান্য দেখাবে। কেননা চার দেশের অর্থনীতি দ্রুত বর্ধনশীল, তাদের শ্রম সস্তা, জনমিতি অনুকূলে এবং ব্যবহার করার মতো প্রচুর প্রাকৃতিক সম্পদ রয়েছে। ২০০৬ সালে নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনের সময় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন প্রথম জোট গড়ার আগ্রহের কথা জানান। ২০০৮ সালে রাশিয়ায় অনুষ্ঠিত হয় প্রথম মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলন। আর আনুষ্ঠানিকভাবে ব্রিকসের প্রথম সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০০৯ সালের ১৬ জুন, রাশিয়ায়।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
Dutta
লেখক / প্রতিবেদক

Dutta

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।