শিশু মুসাইব বরিশালের গৌরনদী উপজেলা গেট সংলগ্ন উবাই ইবনে কাব (রাঃ) হিফজুল কোরআন মাদ্রাসার হেফজ বিভাগের ছাত্র এবং আগৈলঝাড়া উপজেলার ফুলশ্রী গ্রামের মিজানুর রহমান বেপারীর ছেলে।
দ্রুত সময়ের মধ্যে পুরো কোরআন মুখস্ত করায় গতকাল রাতে মাদ্রাসার পক্ষ থেকে শিশু মুসাইবকে দেওয়া হয়েছে সংবর্ধনা।
জানা গেছে, প্রাইমেরী স্কুলে পড়াকালীণ সময়েই মেধার পরিচয় দেয় শিশু মুসাইব। ৫ম শ্রেণীতে পড়াকালীণ সময়ে উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে মেধা তালিকায় অনেক পুরস্কার অর্জন করে মুসাইব। পরবর্তীতে পরিবারের সিদ্ধান্তে উবাই ইবনে কাব (রাঃ) হিফজুল কোরআন মাদ্রাসায় ভর্তি করা হয় মুসাইবকে। সেখানে কঠোর অধ্যবসায় এবং শিক্ষকদের আন্তরিক প্রচেষ্ঠায় মাত্র ৭৩ দিনেই পুরো কুরআন মুখস্ত করে তাগ লাগিয়ে দিয়েছে শিশু মুসাইব।
হাফেজ মুসাইবের পিতা মিজানুর রহমান বেপারী জানিয়েছেন, আল্লাহ যেহেতু আমার ছেলেকে মেধা দিয়েছে তাই সেটা দ্বীনের কাজেই ব্যবহার করতে চাই। সেখান থেকেই সিদ্ধান্ত নেওয়া যে, আল্লাহ তায়ালা যদি কবুল করে তাহলে আমার ছেলেকে হাফেজ হিসেবে দেখতে চাই।
তারই আলোকে আলেম-ওলামাদের সঙ্গে আলোচনা হিফজুল কোরআন মাদ্রাসায় ভর্তি করা হয় মুসাইবকে। শিশু মুসাইবের পিতা বলেন- আল্লাহ তায়ালা ২ মাস ১৩ দিনে মুসাইবকে হাফেজ হিসেবে কবুল করেছে। এতে পিতা হিসেবে আমি খুবই গর্বিত। ছেলের জন্য তিনি সকলের কাছে দোয়া কামনা করেন।
হাফেজ মুসাইবের মক্তব শিক্ষক জানিয়েছেন, বিস্ময় বালক হিসেবে আমরা যাকে পেয়েছি আল্লাহ তায়ালার বিশেষ মোজেজা যে মাত্র ২ মাস ১৩ দিনে কুরআনুল কারিম হেফজ করতে সক্ষম হয়েছে। সে যখন আমার কাছে মক্তবে পড়তো তখনই অত্যন্ত মেধাবী ছিলো। সে আগে প্রাইমেরী স্কুলে লেখাপড়া করতো। স্কুল থেকে এসেও এতো অল্প সময়ের মধ্যে কুরআন মুখস্ত করতে সক্ষম হয়েছে। আমরা দেশবাসীর কাছে তার জন্য দোয়া চাই।
বিস্ময় বালক মুসাইব হোসাইন জানিয়েছেন-আপনাদের সকলের দোয়ায় আমি ৭৩ দিনে কোরআনের হাফেজ হয়েছি। বড় হয়ে আমি বড় আলেম হতে চাই। আমার জন্য সবাই দোয়া করবেন।
হযরত উবাই ইবনে কা’ব রাঃ হিফজুল কুরআন মাদ্রাসার মুহতামিম হাফেজ ক্বারী একরামুল হক জানিয়েছেন-আমি বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় বিভিন্ন সংবাদে অনেক সময় শুনছি, বিভিন্ন লোকমুখে শুনছি যে, অনেক ছাত্ররা দুই মাসে, এক বছরে, নয় মাসে, ছয় মাসে হাফেজ হয়।
বাস্তবতায় আসলে আমার সৌভাগ্য হয় নাই যে, কোন ছাত্রকে পড়ানোর বা ছাত্র জমানায় কোন ছাত্রকে এইভাবে পাইনি। বাদবাকি অনেক আশা ছিল। আল্লাহ তাআলা আমাদের এই আশাকে কবুল করছে। অন্য ছাত্ররা বিকালবেলা খেলাধুলা করে। সেই সময় সে এই খেলাধুলোর একপাশে এক কোণারে ওয়ালের দিকে ফিরিয়া কোরান শরীফ পড়তে থাকে। এভাবে করে রাত্রে ছাত্ররা যখন ঘুমায়, সে সময় সে তেলাওয়াত করতে থাকে।
এইভাবে নিজ আগ্রহে, চেষ্টায় আল্লাহ তাআলার রহমতে সে অল্প দিনের ভিতরে ২ মাস ১৩ দিনের ভিতরে কোরআন শরীফ মুখস্ত করছে। আসলে এমনও দিন গেছে সে একদিনের ভিতরে এক পারা মুখস্থ করে ফেলাইছে। এটা আল্লাহ তাআলার বিশেষ রহমত। আমরা সবাই ওর জন্য কি করব? দোয়া করব। দেশবাসী যারা আছেন সকলে তার জন্য দোয়া করবেন।
এরপূর্বেও অত্র মাদরাসার ওস্তাতদের আপ্রান চেস্টায় ছাত্ররা দেশব্যাপী বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহন করে ব্যাপক সুনাম কুড়িয়েছেন।



