বিশ্ব আর্থ্রাইটিস দিবস আজ

বিশ্ব আর্থ্রাইটিস দিবস আজ

বিশ্ব আর্থ্রাইটিস দিবস আজ গ্রিক শব্দ ‘আর্থো’-এর মানে হলো অস্থিসন্ধি বা হাড়ের জোড়া এবং ‘আইটিস’ শব্দের মানে প্রদাহ।  খুব সাধারণভাবে বলা যায়, আর্থ্রাইটিস হলো অস্থিসন্ধি বা হাড়ের জোড়ার প্রদাহ। এই রোগ নিয়েও রয়েছে কিছু কুসংস্কার। এই  রোগ সম্পর্কে অসচেতনতা ও অজ্ঞতার উপর নির্ভর করে মানুষ নানারকম ধারণায় বশবর্তী হয়ে পড়ে। আর সেই ধারণাগুলি কাটিয়ে সচেতনতা বিস্তার করতেই সারা বিশ্ব জুড়ে পালিত হয় বিশ্ব আর্থ্রাইটিস দিবস।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দিবসটি পালন করা হয়। আর্থ্রাইটিস বর্তমানে অত্যন্ত পরিচিত একটি অসুখ। জীবনযাত্রার সঙ্গে আষ্ঠেপৃষ্ঠে জড়িয়ে গিয়েছে এই রোগ। সমাজের আর্থ-সামাজিক বোঝা হিসেবে এই রোগ দিন-দিন বাড়ছে।  আর্থ্রাইটিস মূলত অস্থিসন্ধির প্রদাহ যা এক বা একাধিক অস্থি সন্ধিকে আক্রান্ত করে।  এটা শিল্পোন্নত দেশে ৫০-৫৫ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সের মানুষের অক্ষমতার মূল কারণ।   প্রায় ১০০টি বিভিন্ন ধরনের রোগ নিয়ে হয় বাতরোগ।  এই রোগে প্রধানত অস্থিসন্ধি আক্রান্ত হলেও হাড়ের প্রদাহ, ক্ষয় রোগ, লিগামেন্ট ও টেন্ডনের ব্যথা, মাংসপেশীর ব্যথা, মেরুদণ্ডের প্রদাহ, ক্ষয়, আড়ষ্ঠতা এগুলোও বাতরোগের পর্যায়ে পরে।  বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে তরুণাস্থি ভঙ্গুর হয়ে পরে এবং এর পুনর্গঠনের ক্ষমতাও কমে যায়।  তাই বয়স বাড়ার সাথে বাত রোগে আক্রান্ত হবার সম্ভাবনাও বাড়ে।

অতিরিক্ত ওজন এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি বিপদের।  অস্থিসন্ধি ক্ষয় খানিকটা শরীরের বাড়তি ওজনের সম্পর্কিত।  অতিরিক্ত ওজন জয়েন্টগুলোর উপর অতিরিক্ত চাপ স্থাপন করে।  তাই স্থূলকায় ব্যাক্তিরা সাধারনত বাতরোগে বেশি ভুগে থাকেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাত নির্দিষ্ট কোনো একটি রোগ নয়, এটি বেশ কয়েকটি সমপর্যায়ভুক্ত রোগের সমষ্টির বহির্প্রকাশ মাত্র। তবে সচরাচর অ্যানক্লোইজিং স্পনডিলাইটিস, গাউট, লুপাস, অস্টিও আর্থ্রাইটিস এবং রিউম্যাটয়েড আর্থ্রাইটিস মতো সমস্যাগুলিই বেশির ভাগ মানুষের কাছে পরিচিত। কিন্তু এর তালিকা আরও দীর্ঘায়িত। যা সংখ্যায় প্রায় একশো ছাড়িয়ে যেতে পারে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের অগ্রগতিতে অনেক নতুন ওষুধ আবিষ্কার হয়েছে। বাতের চিকিৎসার ক্ষেত্রে এই ওষুধগুলির মধ্যে রয়েছে কিছু গেম-চেঞ্জার। বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে এবং পর্যবেক্ষণের অধীনে সঠিকভাবে ব্যবহার করা হলে, বেশিরভাগ রোগী সুস্থ হয়ে ওঠে। দীর্ঘমেয়াদী ব্যথানাশক এবং স্টেরয়েড ব্যবহারের সঙ্গে সঠিক সময়ে সঠিক ওষুধ চালু হলে এড়ানো যায় ঠিকই।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
Brinda Chowdhury
লেখক / প্রতিবেদক

Brinda Chowdhury

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।