বিএনপির গুম হওয়া ২৫ জনের নাম জানালেন রিজভী

বিশেষ প্রতিবেদকঃ বর্তমান সরকারের সময় গুম হওয়া ২৫ নেতাকর্মীর তালিকা প্রকাশ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। তিনি বলেছেন, গুম হওয়া ব্যক্তিদের স্বজনের কান্না সরকারের কর্তাব্যক্তিদের কানে পৌঁছায় না।

আজ মঙ্গলবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে রিজভী এই কথা জানান।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সাহেব বিএনপির কাছে গুম ও নিখোঁজদের তালিকা চেয়েছেন, আবার এটিও বলেছেন যে, ‘বিএনপি নেতারা এখন প্রেসব্রিফিং করে আর কাঁদে, আর কাঁদতে কাঁদতে আমাদের চোখের পানি শুকিয়ে গেছে।’ কিন্তু আপনাদের নেতাকর্মীদের লুটপাটের টাকায় সুইস ব্যাংক জোয়ারের পানির মতো উপচে উঠেছে। তাই অন্যের আহাজারিতে আপনাদের মনে আনন্দ ধরে। সম্প্রতি দেশের মানুষ যখন পাহাড় ধসে মাটিচাপায় জীবন দিচ্ছে, দুর্যোগে-দুর্ভোগে বিপন্ন তখন আপনার নেত্রী লন্ডনে ভাগ্নিকে সংবর্ধনা দিতে গিয়েছিলেন। বর্তমানে দেশে উজানের পানিতে ভয়াবহ বন্যায় যখন দেশের মানুষ ভাসছে তখন আপনারা সংসদে বসে বিচারপতিদের চৌদ্দগোষ্ঠী উদ্ধারে মেতে আছেন। সংসদে বসে মানুষের গীবত গাইছেন, যদি আপনারা প্রকৃতঅর্থে জনপ্রতিনিধি হতেন, যদি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হতেন তাহলে বন্যার্ত ও ক্ষুধার্ত মানুষের কাছে  ত্রাণ নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়তেন।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও সিলেট-২ আসনের সাবেক এমপি এম ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসিনা রুশদী লুনা ও তাঁর সন্তানরা এখনো ইলিয়াস আলীর অপেক্ষায় আছেন। এঁদের রোদনভরা অপেক্ষার খবরে তো ওবায়দুল সাহেবদের চোখের পানি ঝরবে না। কারণ ক্ষমতার জৌলুসে রক্তাক্ত অনাচারগুলো না দেখারই কথা।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে ২০১৩ সালের নভেম্বর থেকে ডিসেম্বরের কেবল ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন স্থান ও পাশের জেলাগুলো থেকে কমপক্ষে ৫০ জনকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেই থেকে পরিবারগুলো সরকারের মন্ত্রী থেকে শুরু করে বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছে। পুলিশ, র‌্যাব, ডিবি, কার্যালয়ে গিয়ে ধরনা দিয়েছে। গুম হওয়া ব্যক্তিদের বেশির ভাগই বিএনপি বা ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

বিএনপির সিনিয়র নেতা ও জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদকে ৭০ দিন গুম করে রাখার পর ভারতের মেঘালয় রাজ্যে ফেলে আসা হয়। আন্তর্জাতিক সব আইন-কানুনকে উপেক্ষা করে একটি বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশ ভারত কী করে আরেকটি দেশের দুঃশাসন ও অন্যায়ের অংশীদার হতে পারে, তা আজ সারাবিশ্বের মানুষের প্রশ্ন। প্রতিদিনই অপক্ষোয় থাকেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য চৌধুরী আলম, সাবেক এমপি সাইফুল ইসলাম হীরু, বিএনপি নেতা হুমায়ুন কবির পারভেজ, তেজগাঁও কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি আমিনুল ইসলাম জাকির, তেজগাঁও থানা বিএনপি নেতা সাজেদুল হক সুমন, সাজেদুলের খালাতো ভাই জাহিদুল করিম (তানভীর), পূর্ব নাখালপাড়ার আবদুল কাদের ভূঁইয়া (মাসুম), পশ্চিম নাখালপাড়ার মাজহারুল ইসলাম (রাসেল), মুগদাপাড়ার আসাদুজ্জামান (রানা), উত্তর বাড্ডার আল আমিন, বিমানবন্দর থানা ছাত্রদল নেতা এ এম আদনান চৌধুরী ও কাওসার আহমেদ, সবুজবাগ থানা ছাত্রদলের সভাপতি মাহাবুব হাসান, খালিদ হাসান (সোহেল), সম্রাট মোল্লা, জহিরুল ইসলাম (হাবিবুর বাশার জহির), পারভেজ হোসেন, মো. সোহেল, মো. সোহেল (চঞ্চল), নিজাম উদ্দিন (মুন্না), তরিকুল ইসলাম (ঝন্টু), কাজী ফরহাদ, সেলিম রেজা (পিন্টু) ও ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিন কুসুমসহ অনেকের হতভাগ্য পরিবার। বিমানবন্দর থানা ছাত্রদলের সভাপতি গুম হওয়া এম এ আদনান চৌধুরীর বাবা রুহুল আমিন ছেলের অপেক্ষোয় চোখের পানি ফেলতে ফেলতে অসুস্থ হয়ে পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছেন।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, সরকারের সর্বশেষ আক্রোশের শিকার হয়েছেন বিশিষ্ট লেখক, কলামিস্ট, কবি ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ফরহাদ মজহার। তিনি এখন এতটাই মানসিক আঘাতপ্রাপ্ত যে, শোনা যাচ্ছে-মানুষজন ও আত্মীয়স্বজনদের চিনতেও নাকি কষ্ট হচ্ছে তাঁর। অথচ তাঁর অপহরণ ঘটনাকে এখন নাটক বানাতে নানামুখী ষড়যন্ত্র শুরু করেছে সরকার। কিন্তু সরকারি কোনো চক্রান্ত ফরহাদ মজহারের অপহরণের ঘটনায় সাজানো নাটক মানুষকে বিশ্বাস করাতে পারবে না। মানুষ যা বোঝার তা এরই মধ্যেই বুঝে গেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গুম ও নিখোঁজ হওয়া ব্যক্তিদের খোঁজ পান না, অথচ বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা এবং গুম হওয়া ব্যক্তিদের স্বজনদের থেকে পাওয়া তথ্য মতে, ২০১৩ সাল থেকে চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত ৪৩৫ জন ব্যক্তি গুম হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ২৫২ জনের এখন পর্যন্ত হদিস পাওয়া যায়নি। তন্মধ্যে ৩৯ জনের লাশ উদ্ধার হয়েছে। ৩৪ জনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে এবং ২৭ জন বিভিন্ন সময়ে মুক্তি পেয়েছেন। গুম হওয়া মানুষের পরিবারগুলোর নীরব কান্না থেমে নেই। এগুলোর বিষয়ে কী কোনো জবাব দিতে পারবেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক। সুতরাং আওয়ামী লীগের নেতা-মন্ত্রীদের চোখের পানি না এলেও গুম হওয়া, খুন হওয়া, নির্যাতনের শিকার হওয়া স্বজন ও সহকর্মীদের চোখের পানিতে এখন বাংলাদেশ ভাসছে।

ট্যাগ উত্তর বাড্ডার আল আমিনকাজী ফরহাদখালিদ হাসান (সোহেল)গুম হওয়া নেতাজহিরুল ইসলাম (হাবিবুর বাশার জহির)তরিকুল ইসলাম (ঝন্টু)তেজগাঁও কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি আমিনুল ইসলাম জাকিরতেজগাঁও থানা বিএনপি নেতা সাজেদুল হক সুমননিজাম উদ্দিন (মুন্না)পশ্চিম নাখালপাড়ার মাজহারুল ইসলাম (রাসেল)পারভেজ হোসেনপূর্ব নাখালপাড়ার আবদুল কাদের ভূঁইয়া (মাসুম)বিএনপি নেতা হুমায়ুন কবির পারভেজবিএনপির গুম হওয়া নেতাকর্মীবিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের রহমত উল্লাহবিমানবন্দর থানা ছাত্রদল নেতা এ এম আদনান চৌধুরীমুগদাপাড়ার আসাদুজ্জামান (রানা)মো. সোহেলমো. সোহেল (চঞ্চল)সবুজবাগ থানা ছাত্রদলের সভাপতি মাহাবুব হাসানসম্রাট মোল্লাসাজেদুলের খালাতো ভাই জাহিদুল করিম (তানভীর)সাবেক এমপি সাইফুল ইসলাম হীরুসেলিম রেজা (পিন্টু)

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
admin
সংবাদ প্রতিনিধি

admin

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।