আশাশুনি প্রতিনিধিঃ পেশায় কাঠ মিস্ত্রি হলেও কি হবে বাল্য বিবাহ বন্ধে তিনি দৃঢ় প্রত্যয়। বাল্য বিবাহ বন্ধে তিনি লাল রঙের বাইসাইকেলে ৬৪টি জেলা ছুটে এবার উপজেলায় উপজেলায়। বগুড়া সদর উপজেলার বারবাকপুর গ্রামের মৃত আব্দুল বারী তালুকদারে পুত্র আনোয়ার হোসেন তালুকদার। বয়স ৫০ ছুই ছুই। ২০১৫ সালের ১৫ জানুয়ারী তিনি শুরু করেন বাল্য বিবাহ বন্ধে তার প্রচারাভিযান। ব্যক্তির উদ্যোগে তিনি বাল্যবিবাহ করতে এই প্রচারে নেমেছেন। ৬৭দিনে গেছেন ৬৪ জেলায়। এ সময় তার পরনে ছিল লাল জামা, মাথায় লাল ক্যাপ, লাল রঙের বাই সাইকেল, লাল হ্যান্ড মাইক, লাল দন্ডে লাল সবুজের ২টি পতাকা।
আনোয়ার হোসেন জানান, বাল্যবিবাহে পরিবার, সমাজ-রাষ্ট্র সবার জন্যই বিপজ্জনক। লাল পোশাক- সাইকেলের পতাকার মাধ্যমে আমি সেটাই বোঝাতে চেয়েছি।
তবে কেন তিনি এমন উদ্যোগ নিলেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি আমাদের এ প্রতিবেদনকে জানান, বাল্যবিবাহের শিকার দুই ভাগিনির একমন করুন পরিণতি তাকে পীড়া দিয়েছে।
অভাবের অটনের, কারণে তিনি ৫ম শ্রেণী পর্যন্ত পড়া শুনা করেন। এর পর তিনি বগুড়া শহরের একটি দোকানে কাজ করেছেন। ঠিক দুই বছর পর চলে যান চট্রগ্রামে। চট্রগ্রামের একটি আসবাবপত্রের দোকানে কাজ করেন তিনি। সেখাই থাকতেই তার দুই ভাগিনার বিয়ে হয়ে যায়। তখন তাদের বয়স ছিল ১৪ ও ১৫ বছর। কিছু দিন পরই দুই জনই স্বামী পরিত্যাক্ত হয়ে যায়।
একারণে তিনি কিছু প্রচার পত্র, আর বাল্যবিবাহ সংক্রান্ত কিছু লিফলেট নিয়ে ছুটেছেন জেলায় জেলায়। বাংলাদেশের ৬৪টি জেলা শেষ করেছেন ৬৭দিনে। এবার তিনি শুরু করেছেন উপজেলা পর্যায়ে। ইতিমধ্যে আনোয়ার হোসেন ৮৮ উপজেলা মধ্যে সোমবার আশাশুনি উপজেলা আশাশুনি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় তার প্রচারাভিযান শেষ করেছেন। এসময় উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুষমা সুলতানা ও থানার অফিসার ইনচার্জ গোলাম রহমানের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন তিনি জানান। তবে বাকী ৩শ ৯৯টি উপজেলা যাওয়ার উদ্দেশ্যে সাতক্ষীরার তালা উপজেলার উদ্দ্যোশে রওনা দিয়েছেন।