বাংলাদেশকে একটি নির্ভরযোগ্য ও দীর্ঘমেয়াদি অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করে এ দেশের প্রতি দৃঢ় সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)।
এ সহযোগিতাকে আরও জোরদার করতে ভবিষ্যতে একটি দ্বিপক্ষীয় মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) স্বাক্ষরের লক্ষ্যে এগিয়ে যাওয়ার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেছে সংস্থাটি।
আজ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকের পর সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান বাংলাদেশে নিযুক্ত ইইউ রাষ্ট্রদূত ও প্রতিনিধিদলের প্রধান মাইকেল মিলার।
বৈঠকে বাংলাদেশ ও ইইউ’র মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর পাশাপাশি শুল্কমুক্ত বাণিজ্য সুবিধা ছাড়া অন্যান্য প্রশাসনিক ও প্রযুক্তিগত বাধা (অশুল্ক বাণিজ্য বাধা) নিরসনের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়।
বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে একটি পূর্বাভাসযোগ্য, স্বচ্ছ ও বৈষম্যহীন বাণিজ্য পরিবেশ তৈরির গুরুত্ব নিয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি এবং ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন উপস্থিত ছিলেন।
ইইউ রাষ্ট্রদূত বলেন, আন্তর্জাতিক বিধিবিধানভিত্তিক ব্যবস্থা যখন বিশ্বজুড়ে চরম চাপের মুখে রয়েছে, তখনও বাংলাদেশ-ইইউ অংশীদারত্ব আরও জোরদারে সংস্থাটি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক নিয়মভিত্তিক ব্যবস্থা যখন অবিশ্বাস্য রকমের চাপের মধ্যে রয়েছে, তখনও আমরা আপনাদের নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে পাশে আছি।’ এ সময় তিনি আইনের শাসন, ন্যায্য ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়া এবং বহুপক্ষীয় ব্যবস্থার প্রতি ইইউ’র অঙ্গীকারের কথা তুলে ধরেন।
মাইকেল মিলার জানান, বাংলাদেশ-ইইউ পারস্পরিক সহযোগিতা আরও গভীর করতে এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগের মধ্যকার জটিলতা দূর করতে দুই পক্ষের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় ও রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলোর মধ্যে ধারাবাহিক রাজনৈতিক যোগাযোগ ও সমন্বয় বজায় রাখা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, বর্তমানে বিদ্যমান বাণিজ্য বাধাগুলো দূর করা সম্ভব হলে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যিক সম্পর্ক সম্প্রসারণের পথ আরও সুগম হবে। এটি ভবিষ্যতে আরও গভীর ও বিস্তৃত বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়ে তোলার অনুকূল পরিবেশ তৈরি করবে।
প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা, বৈষম্যহীনতা ও সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে মাইকেল মিলার বলেন, বাণিজ্য বাধাগুলো দূর হলে উভয় দেশের ব্যবসায়ীরাই সমানভাবে লাভবান হবেন।
এলডিসি থেকে বাংলাদেশের মসৃণ উত্তরণের ওপর জোর দিয়ে মাইকেল মিলার বলেন, বাংলাদেশের প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ সমৃদ্ধির লক্ষ্যে ইইউ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে একযোগে কাজ করে যাচ্ছে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, ইইউ ও বাংলাদেশের এই মজবুত অর্থনৈতিক সম্পর্ক শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের ভাগ্য উন্নয়ন ও কল্যাণে বড় ভূমিকা রাখবে।




