ফ্রান্স-ভারত সাম্প্রতিক ঘনিষ্ঠতা এবং ভূরাজনৈতিক বিশ্ববাস্তবতা

ফ্রান্স-ভারত সাম্প্রতিক ঘনিষ্ঠতা এবং ভূরাজনৈতিক বিশ্ববাস্তবতা

সাম্প্রতিক সময়ে ফ্রান্স-ভারত ঘনিষ্ঠতা যথেষ্ট বেড়েছে। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর তার সদ্য প্রকাশিত একটি বইতে লিখেছেন, “রামের পাশে যেরকম লক্ষণ ছিলেন, ভারতের পাশে তেমনি ফ্রান্স।” আধুনিক সমরাস্ত্র ক্রয়ে রাশিয়া নির্ভরতা কমাতে ফ্রান্সমুখী হয়েছে ভারত। যদিও রাশিয়া এখনও ভারতের প্রধান অস্ত্র সরবরাহকারী দেশ। ভারতের আমদানিকৃত সমরাস্ত্রের ২৯ শতাংশ এসেছে ফ্রান্স থেকে। পিছিয়ে পড়ছে ইসরায়েল।

ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন আসেননি, পরিবর্তে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁকে আনা হয়েছে। ৩০০০০ ভারতীয় শিক্ষার্থীকে ফ্রান্সে পড়াশুনার সুযোগ দেওয়া হবে বলেছেন ম্যাখোঁ। বিশ্বের বৃহত্তম বিমান নির্মাণকারী সংস্থা এয়ারবাসের সঙ্গে ভারতের টাটা কোম্পানি চুক্তি করেছে- যৌথ উদ্যোগে হেলিকপ্টার নির্মাণের। এছাড়াও ১০ বিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা চুক্তি হয়েছে, যার বিস্তারিত এখনও জনসমক্ষে আসেনি।

আমেরিকা, চীন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো ভারতের  শীর্ষ ট্রেডিং পার্টনার নয় ফ্রান্স। তবে ফ্রান্স থেকে ভারত যেসব পণ্য আমদানি করে, তার বেশিরভাগই হচ্ছে উচ্চ প্রযুক্তি সম্পন্ন মহাকাশ সরঞ্জাম, উড়োজাহাজ এবং ভারতীয় ধনীদের ব্যবহার্য অতিমূল্যবান প্রসাধন সামগ্রী বা বিলাসদ্রব্য। দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য আরো বাড়াতে চাইছে দুই দেশ।

বর্তমান বিশ্ব বাস্তবতায় ফ্রান্স একটি মিডেল পাওয়ার; অবশ্য আফ্রিকা মহাদেশের উপর ফ্রান্সের যথেষ্ট ভূরাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব রয়েছে। তাছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়নে ফ্রান্সেরই একমাত্র শুধু ভেটো পাওয়ার রয়েছে – ফলে বিশ্ব রাজনীতিতে ফ্রান্সের বাড়তি গুরুত্ব রয়েছে।

এদিকে ভারত পৃথিবীর সবচেয়ে জনবহুল দেশ। উচ্চ ক্রয়ক্ষমতা সম্পন্ন ধনীদের সংখ্যা দিনকে দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে ভারতে। চীনের ক্রমবর্ধমান সামরিক চাপ মোকাবেলায়, ভারতের প্রয়োজন প্রচুর অত্যাধুনিক যুদ্ধাস্ত্র। ভারতের এই লোভনীয় সমরাস্ত্রের বাজারটি খুবই কৃতিত্বের সাথে ধরে ফেলেছে ফ্রান্স। উভয় দেশ জয়েন্ট ভেঞ্চারে অস্ত্র উৎপাদনের ঘোষণা দিয়েছে।

ভারত ও ফ্রান্সের মধ্যকার এই ঘনিষ্ঠতা শুধুমাত্র দ্বিপাক্ষিক স্বার্থকেন্দ্রিক। এই দুই রাষ্ট্রকে ঘিরে তৃতীয় কোন শক্তিবলয় গড়ে ওঠার সম্ভাবনা আছে বলে মনে হয় না। কারণ এই দেশ দু’টি সম্পূর্ণ বিপরীত সংস্কৃতির। ভারত ও ফ্রান্সের মধ্যে একটাই শুধু মিল ― উভয় দেশ একটি বিশেষ ধর্মান্ধগোষ্ঠীর জনসংখ্যা বৃদ্ধির প্রবল অশান্তির মধ্যে রয়েছে।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
Kishori
লেখক / প্রতিবেদক

Kishori

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।