ফেসবুকে ধর্ষকদের লিঙ্গ কর্তন করতে চাওয়া মানুষটাই নিজের লিঙ্গ সামলাতে পারলো না

ফেসবুকে ধর্ষকদের লিঙ্গ কর্তন করতে চাওয়া মানুষটাই নিজের লিঙ্গ সামলাতে পারলো না
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের গৃহবধূর মতই স্বামীকে বেঁধে তারই সামনে ১২ জন মিলে রাতভর গণধর্ষণ করেছিলো সুবর্ণচরের গৃহবধূকে। শুধুমাত্র চেতনায় সামর্থন করেনি এটাই ছিলো ওই গৃহবধূর অপরাধ।
ধর্ষক ওই সোনার ছেলেরা জামিনে মুক্তিও পেয়েছে! জেল থেকে ন্যায় বিচারকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে বের হয়ে নরপশুগুলো যখন দাঁত বের করে  হাসছিলো তখন সুবর্ণচরের মা আত্মহত্যার জন্য ফাঁসির দড়ি খুঁজে বেড়াচ্ছিলো।
আমাদের সোনার বাংলার সোনা ছেলেরা যে নারীদের দিকে কখনোই খারাপ নজরে তাকায়না নোয়াখালীর এই ২ ঘটনাই জলন্ত প্রমাণ। বেগমগঞ্জের ঘটনা হজম করার আগেই গোপালগঞ্জেও ঘটেছে একই ঘটনা।
প্রাইভেট পড়ে বাসায় যাওয়ার সময় শিক্ষার্থীকে পথ আটকিয়ে তুলে নিয়ে বন্ধুদের নিয়ে গণধর্ষণ করে প্রাইভেট ভার্সিটিতে পড়ুয়া আলী হোসেন। সেটার আবার ভিডিও ধারণও করেছে ব্ল্যাক মেইলের জন্য। একটা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এতটা জঘন্য মানসিকতার হতে পারে। পুঁথিগত বিদ্যায় শিক্ষিত হলেই মানুষ সুশিক্ষিত হয় না।
এদিকে চাপাইনবাবগঞ্জে এই  সোনার ছেলে কর্তৃক ধর্ষণের শিকার হয়েছে এক কিশোরী।
বিচার হিসেবে ৭৫ হাজার টাকায় ইজ্জতের মূল্য নির্ধারণ করায় অতি খুশিতে আত্মহত্যা করেছে মেয়েটি। স্বাধীন বাংলায় নারীর ইজ্জতের দাম মাত্র ৭৫ হাজার টাকা!? পেয়াজের দামও তো এর চাইতে বেশি!
সিলেটের এমসি কলেজে স্বামীর থেকে কেড়ে নিয়ে স্ত্রীকে গণধর্ষণের ২ দিনের মাথায়ই সিলেটে ৫ম শ্রেনীর এক কিশোরীকে ধর্ষণ করেছে আরেক সোনার ছেলে। তারই ১ দিন পর ঢাকায় এক তরুনীকে ধর্ষণ করে গ্রেফতার হয়েছে আরেক সোনার ছেলে। অথচ এই সোনার ছেলেই সিলেটের ঘটনার পর ধর্ষকদের লিঙ্গ কেটে ফেলার দাবি তুলে ফেসবুকে স্ট্যাটাস করেছিলো।
তাজ্জব ব্যাপার, ফেসবুকে ধর্ষকদের লিঙ্গ কর্তন করতে চাওয়া মানুষটাই নিজের লিঙ্গ সামলাতে পারলো না! প্রমাণ হলো, ফেসবুকে ধর্ষকের বিচার চেয়ে চিৎকার করা সবাই ভালো মানুষ না। ফেইসবুকে যারা বিশাল মহা মানবিক নেতা তারাও মহাপশু হতে পারে!

ধর্ষণ একটি সামাজিক অপরাধ। পৃথিবীর প্রত্যেকটি দেশেই এ অপরাধের কঠোর শাস্তির বিধান আছে।

তারপরও এ অপরাধ পৃথিবীর অনেক দেশেই মহামরির আকার ধারণ করেছে। পৃথিবীর অন্য কয়েকটি দেশে এই অপরাধের সাজা কী তা জেনে নেওয়া যাক।

সংযুক্ত আরব আমিরাত
যদি কারো বিরুদ্ধে ধর্ষণের অপরাধ প্রমাণিত হয়, তাহলে দেশটিতে সাত দিনের মধ্যে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।

চীন
চীনে ধর্ষকের জন্য বরাদ্দ শাস্তি হলো মৃত্যুদণ্ড। তবে এই শাস্তি নিয়ে বিরোধিতাও রয়েছে। কারণ, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পর অভিযুক্ত নির্দোষ ছিল এমনও দেখা গেছে। আরেকটি শাস্তি রয়েছে পুরুষাঙ্গচ্ছেদ।

ফ্রান্স
ধর্ষণের শাস্তি ১৫ বছরের কারাদণ্ড। তবে ঘটনায় ক্ষতি ও নৃশংসতার বিচারে তা ৩০ বছর পর্যন্ত বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডও হতে পারে।

সৌদি আরব
ধর্ষণে জড়িত থাকার প্রমাণ পেলে শাস্তি প্রকাশ্যে শিরশ্ছেদ। তবে তার আগে দোষীকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করা হয়।

উত্তর কোরিয়া
ফায়ারিং স্কোয়াডে দাঁড় করিয়ে গুলি করে অপরাধীর বুক ঝাঁঝরা করে দেওয়া হয়।

আফগানিস্তান
আদালত রায় দেওয়ার চারদিনের মধ্যে অভিযুক্তকে মাথায় গুলি করে হত্যা করা হয় কিংবা ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।

মিসর
দেশটিতে এখনও অনেক অপরাধে মধ্যযুগীয় শাস্তির প্রথা থাকলেও ধর্ষণের শাস্তি ফাঁসি।

ইরান
ইরানেও ধর্ষকের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। ফাঁসি অথবা প্রকাশ্যে পাথর মেরে তা কার্যকর করা হয়।

ইসরায়েল
দোষ প্রমাণ হলে ১৬ বছরের কারাদণ্ড। সে দেশে ধর্ষণের সংজ্ঞা কিছুটা বর্ধিত। অন‌্য যৌন নির্যাতনও এর অন্তর্ভুক্ত।

যুক্তরাষ্ট্র
স্টেট ও ফেডারেল আইন অনুযায়ী ধর্ষণের বিচার ভিন্ন। ফেডারেল আইন অনুযায়ী দোষীর সাজা কয়েক বছরের কারাদণ্ড থেকে যাবজ্জীবনও হতে পারে।

মঙ্গোলিয়া
ধর্ষিতার পরিবারের হাত দিয়ে ধর্ষককে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয় দেশটিতে।

রাশিয়া
ধর্ষকের তিন থেকে ছয় বছরের কারাদণ্ডের বিধান আছে রাশিয়ায়। তবে পরিস্থিতির বিচারে তা ১০ বছর পর্যন্ত হতে পারে। যদি ধর্ষকের আচরণ অত‌্যন্ত নৃশংস হয়ে থাকে, তবে ২০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।

নরওয়ে
সম্মতি ছাড়া যে কোনো যৌনতা ধর্ষণের মধ্যে পড়ে। নৃশংসতা অনুযায়ী দোষীর তিন থেকে ১৫ বছরের কারাদণ্ড হয়।

বাংলাদেশে ধর্ষণের সর্বোচ্চ সাজা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
Kishori
সংবাদ প্রতিনিধি

Kishori

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।