পুলিশ হেফাজতে অধ্যক্ষসহ তিন জন , তদন্ত কমিটি গঠন

পুলিশ হেফাজতে অধ্যক্ষসহ তিন জন , তদন্ত কমিটি গঠন

কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার কয়া ইউনিয়নের কয়া মহাবিদ্যালয়ে সামনে অবস্থিত ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের বিপ্লবী বাঘা যতীনের ভাস্কর্য ভাঙচুরের ঘটনায় মহাবিদ্যালয়টির অধ্যক্ষসহ তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার ১৭ ডিসেম্বর রাতের কোনও এক সময় কয়া মহাবিদ্যালয়ে অবস্থিত ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের বিপ্লবী বাঘা যতীনের ভাস্কর্য ভাঙচুর করেছে দুর্বৃত্তরা। ভাস্কর্যটির মুখের চোয়াল ও নাকে আঘাত করা হয়েছে। আজ  শুক্রবার সকালে স্থানীয়রা বিষয়টি টের পান। খবর পেয়ে পুলিশ, জনপ্রতিনিধি, আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন।

 সন্দেহ ভজন বযাক্তিরা হলো মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ হারুনুর রশিদ, কলেজ পরিচালনা পরিষদের সভাপতি অ্যাডভোকেট নিজামুল হক চুন্নু ও রাত্রিকালীন পাহারাদার খলিল মিয়া।

এছাড়া জেলা প্রশাসন তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে এ ঘটনা তদন্তের জন্য । অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সিরাজুল ইসলামকে কমিটির প্রধান করা হয়েছে। কমিটির অন্য দুজন সদস্য হলেন- উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)। কমিটিকে এক সপ্তাহের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার এসএম তানভীর আরাফাত আরটিভি নিউজকে বলেন, বাঘা যতীনের ভাস্কর্য ক্ষতিগ্রস্ত করার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।

কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক আসলাম হোসেন আরটিভি নিউজকে বলেন, এ ঘটনায় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সিরাজুল ইসলামকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটিকে এক সপ্তাহের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

বাঘা যতীন কুষ্টিয়ার কয়াতেই তার মামার বাড়িতে ১৮৮৯ সালের ৮ ডিসেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। নিশ্চিত মৃত্যু জেনেও বাঘা যতীন ১৯১৫ সালের ৯ সেপ্টেম্বর ভারতের বালেশ্বর বুড়িবালাম তীরে মাত্র চারজন যোদ্ধা নিয়ে বিশাল ব্রিটিশ সৈন্যবাহিনীর বিরুদ্ধে সম্মুখসমরে সশস্ত্র যুদ্ধ করেন।এই যুদ্ধে গুলিবিদ্ধ হয়ে মাত্র ৩৬ বছর বয়সে তিনি মারা যান। ২০১৬ সালে কয়া মহা বিদ্যালয়ের সামনে বাঘা যতীনের এই ভাস্কর্যটি নির্মাণ করা হয়।

এর আগে গেলো ৫ ডিসেম্বর গভীর রাতে কুষ্টিয়া শহরের পাঁচ রাস্তার মোড়ে পৌরসভার নির্মাণাধীন বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙচুর করা হয়। এ ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত দুই মাদরাসাছাত্র মিঠুন ও নাহিদ এবং দুইজন মাদরাসা শিক্ষক আল আমিন ও ইউসুফ আলী আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।