সরকারি কর্তব্য পালনকালে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর তিন সদস্যের নামাজে জানাজা ও ফিউনারেল প্যারেড অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টা ৩০ মিনিটে ঢাকা সেনানিবাসস্থ বাংলাদেশ বিমানবাহিনী ঘাঁটি বীর উত্তম এ কে খন্দকার (কুর্মিটোলা)-এর সি-১৩০ হ্যাঙ্গারে সামরিক মর্যাদায় মরহুমদের নামাজে জানাজা ও ফিউনারেল প্যারেড অনুষ্ঠিত হয়।
আইএসপিআর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত ও সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান জানাজা নামাজে অংশগ্রহণ করেন। এ সময় বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন মরহুমদের কফিনে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে তাদের প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করেন।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে মরহুমদের পরিবারের সদস্যগণ, প্রাক্তন বিমানবাহিনী প্রধান, সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাগণ, সামরিক বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ এবং অন্যান্য পদবির সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
আইএসপিআর আরও জানায়, জানাজা শেষে মরহুমদের নিজ নিজ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। পরবর্তীতে বিমানবাহিনীর প্রতিনিধিদল যথাযথ সামরিক মর্যাদায় মরহুমদের দাফনকার্য সম্পন্ন করবে।
গত সোমবার (৩১ আগস্ট) রাত আনুমানিক ৯টা ৩৫ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল এলাকায় কিউআরএফ (কুইক রেসপন্স ফোর্স)-এর দায়িত্ব পালনকালে বিমানবাহিনীর সাতজন সদস্য বহনকারী বিমানবাহিনীর একটি জিপ মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় পতিত হয়।
দুর্ঘটনার পরপরই বিমানবাহিনীর সদস্যগণ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তাদের দ্রুত উদ্ধার করে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল (সিএমএইচ), ঢাকা-তে নিয়ে যান।
সিএমএইচ-এর কর্তব্যরত চিকিৎসক বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর তিনজন সদস্য ওয়ারেন্ট অফিসার সুলতান মাহমুদ, কর্পোরাল মনিরুজ্জামান পিয়াস এবং এলএসি মো. জুবাইদুল ইসলাম-কে মৃত ঘোষণা করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। এছাড়া দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর অপর চারজন সদস্য বর্তমানে সিএমএইচে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ দেশের সকল গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দরসমূহে ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর সদস্যগণ অদ্যাবধি আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ, যাত্রীবৃন্দের নিরাপত্তা, স্বাচ্ছন্দ্যময় ভ্রমণ নিশ্চিত ও সার্বিক নিরাপত্তা বজায় রাখার লক্ষ্যে পেশাদারিত্বের সঙ্গে নিরলস দায়িত্ব পালন করে চলেছেন।
বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর পক্ষ থেকে তাদের এই মর্মান্তিক মৃত্যুতে গভীর শোক এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে উক্ত দুর্ঘটনায় আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করা হচ্ছে।




