গোপালগঞ্জে পুলিশের পিটুনিতে নিখিল হত্যা মামলা, এএসআইসহ গ্রেপ্তার ২

গোপালগঞ্জে পুলিশের পিটুনিতে নিখিল হত্যা মামলা, এএসআইসহ গ্রেপ্তার ২

পুলিশের পিটুনিতে কৃষক নিখিল তালুকদারের (৩২) মৃত্যুর অভিযোগে অবশেষে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। যার এফআইআর নং-০১, তারিখ: ০৭/০৬/২০২০, পেনাল কোডের ধারা ইউ এস-৩০২/৩৪। মামলার আসামি এএসআই শামীম হাসানকে শ্যেন আরেস্ট ও অপর অভিযুক্ত রেজাউলকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

রোববার রাত সাড়ে ১০টার দিকে কৃষক নিখিলের ভাই মন্টু তালুকদার বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। এতে কোটালীপাড়া থানার এএসআই শামীম হাসান ও তার সহযোগী কোটালীপাড়া পৌর এলাকার কয়খাঁ গ্রামের রেজাউলকে (৪০) আসামি করা হয়েছে।

কোটালীপাড়া থানার ওসি শেখ লুৎফর রহমান জানান, হত্যা মামলাটি রোববার রাতেই রেকর্ড করা হয়েছে। মামলার আসামি এএসআই শামীম হাসানকে পুলিশ লাইন্সে ক্লোজ করে শ্যেন অ্যারেস্ট দেখানো হয়েছে। অপর অভিযুক্ত রেজাউলকে মামলা দায়েরের পর রাতেই পুলিশ তার গ্রামেরবাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে। তাদের সোমবার আদালতে হাজির করা হবে।

মারা যাওয়া কৃষক নিখিল তালুকদার কোটালীপাড়া উপজেলার রামশীল গ্রামের নীল কান্ত তালুকদারের ছেলে।

নিহতের ভাই ও মামলার বাদী মন্টু তালুকদার বলেন, ‘গত ২ জুন বিকেলে রামশীল বাজারের ব্রিজের পূর্বপাশে নিখিল সহ ৪ জন কাটাতে তাস খেলছিলেন। এ সময় কোটালীপাড়া থানার এএসআই শামীম হাসান, একজন ভ্যানচালক ও রেজাউল ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন এবং গোপনে মুঠোফোনে তাস খেলার দৃশ্য ধারণ করেন। তারা বিষয়টি টের পেয়ে ভয় পেয়ে দৌড়ে পালনোর চেষ্টা করেন। এ সময় অন্য তিনজন পালিয়ে যেতে পারলেও নিখিলকে এএসআই শামীম হাসান ধরে মারধর শুরু করেন। এক পর্যায়ে হাঁটু দিয়ে নিখিলের পিঠে আঘাত করেন এএসআই শামীম। এ সময় নিখিলকে ধরে রাখেন রেজাউল। এতে নিখিলের মেরুদণ্ড ভেঙে যায়। তাকে প্রথমে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে ঢাকায় জাতীয় অর্থোপেডিক (পঙ্গু) হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে ৩ জুন বিকেল সাড়ে ৪টায় নিখিল মারা যায়।’

মন্টু তালুকদার আরও বলেন, ‘প্রভাবশালী একটি মহল গোপানে ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে আমাদের ওপর চাপ প্রয়োগ করে। এক পর্যায়ে বাধ্য হয়ে শনিবার সালিশ বৈঠকে যাই। সেখানে ৫ লাখ টাকা ও আমাদের দু’জনকে চাকরির প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। এতে আমরা সম্মত ছিলাম না। তবে সেখানে প্রস্তাব প্রত্যাখান করার সাহসও আমাদের ছিল না। বাধ্য হয়ে ২ লাখ টাকা নিয়ে সেখান থেকে আমরা চলে আসি। আমার দৃষ্টিতে এটাকে মীমাংসা বলে না। তাই ন্যায্য বিচার পেতে আমরা মামলা দায়ের করেছি। তবে চাপ প্রয়োগকারী প্রভাবশালীদের নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি তিনি।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
Kishori
লেখক / প্রতিবেদক

Kishori

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।