পাওনা টাকা ফেরত পেতে মামলা করায় চাকুরিজীবী ও তার ভাইকে অপহরণ, মুক্তিপণ দিয়ে মুক্তি

পাওনা টাকা ফেরত পেতে মামলা করায় চাকুরিজীবী ও তার ভাইকে অপহরণ, মুক্তিপণ দিয়ে মুক্তি

পাওনা টাকা ফেরত পেতে মামলা। মীমাংসার কথা বলে বেসরকারি চাকুরিজীবি ও তার ভাইকে মাদারীপুর থেকে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে অপহরণ। দেড়লাখ টাকায় অপহরণকারীদের সাথে প্রতিপক্ষের চুক্তি হয় ইয়াবা দিয়ে পুলিশে ধরিয়ে দেয়ার। শেষমেশ ৪ লাখ টাকা দিয়ে মুক্তি মিলে ওই চাকুরজীবি ও তার ভাইর। মূলহোতা ও অপহরণকারীদের মোবাইলের কথোপকপন শুনলে গা আঁতকে ওঠার মতন ঘটনা। লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর জোরেশোরে তদন্ত নেমেছে পুলিশ।
মাদারীপুর সদর উপজেলার পৌর পেয়ারপুর গ্রামের বাসিন্দা জহিরুল ইসলাম ইসলাম বেসরকারি একটি কোম্পানী রাজধানী ঢাকায় চাকুরি করেন। তার ছেলে বায়েজিতকে আমেরিকা নেয়ার জন্য ১৩ লাখ টাকায় চুক্তি হয় পাশের মধ্য পেয়ারপুর গ্রামের আব্দুল লতিফ সরদারের দুইছেলে শমশের এবং আবু রায়হানের সাথে। কিন্তু বিদেশে নিতে ব্যর্থ হলে পাওনা টাকা ফেরত চাইলে টালবাহানা শুরু করে অভিযুক্তরা। শেষমেষ আদালতের দ্বারস্থ হয়ে গত ৩১ মার্চ মামলা করেন জহিরুল। পরে মামলার বিষয়টি টের পেয়ে ওই দিন রাতে মীমাংসার কথা বলে জহিরুলকে মাইক্রেবাসে তুলে নেয় একটি চক্র। পরে জহিরুলের ছোইভাই রাশেদুল ইসলামকে খবর দিয়ে তাকেও জিম্মি করা হয়। তিনদিন রাজধানী ঢাকার বাড্ডা থানাধীন একটি বাসায় আটকে রেখে আদায় করা হয় মুক্তিপনের ৪ লাখ টাকা। পরে জিম্মিদশা থেকে ছাড়া পান জহিরুল ও তার ভাই। বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন স্থানীয়রা। এই ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্বজন ও এলাকাবাসী।
ভুক্তভোগী জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘আমার ছেলেকে বিদেশে নিতে পারেনি। টাকাও ফেরত দেয়নি। আমি মামলা করলে উল্টো আমাকে ও আমার ভাইকে অপহরণ করে জিম্মি করা হয়। পরে মুক্তিপণ দিলে মুক্তি মিলে। এই ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’
প্রতিবেশি দোলন মুন্সি বলেন, ‘গুম করে টাকা আদায়ের ঘটনা খুবই ন্যাক্কারজনক। এই ঘটনার সাথে যারা জড়িত তাদেরকে বিচারের আওতায় আনা উচিৎ। এমন ঘটনা কিছুতেই মেনে নেয়া যায় না।’

এদিকে অপহরণকারী সামস্ ইশতিয়াক ও পরিকল্পনকারী শমশের সরদার এবং তার ভাই আবু রায়হানের মুঠোফোনে কথোপকপনের কয়েকটি অডিও ক্লিপ হাতে আসে প্রতিবেদকের কাছে। সেখানে শোনা যায়, টাকা যা লাগে তা দিতেই প্রস্তুত শমশের। যে কোন কিছুর বিনিময়ে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসিয়ে দিতে হবে জহিরুলকে। পরে জহিরুলের স্ত্রী রচনা রহমানের সাথে ফোনে কথা বলে অপহরণকারীরা। সেখানেও ভয়ভীতি দেখানো হয়। বাধ্য করা হয় মুক্তিপনের টাকা দিতে।

গুলশান এলাকার সামস্ ইশতিয়াক-এর সহায়তায় অভিযুক্ত শমশের আমেরিকা ও তার ছোটভাই আবু রায়হান ফিনল্যান্ড বসেই করে পুরো অপহরনের পরিকল্পনা। যদিও অভিযুক্তদের বাবা আব্দুল লতিফ সরদার ঘটনার কথা অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, জহিরুল আমাদের কাছে অল্পকিছু টাকা পাবে। সেটা নিয়ে থানা ও এলাকায় মীমাংসার জন্য বসা হয়েছিল, কিন্তু সমাধান হয়নি। আর অপহরণ করে টাকা আদায় করার ঘটনায় আমার ছেলেরা জড়িত নন।

এদিকে আবু রায়হান মুঠোফোনে জানান, জহিরুল ইসলাম ও তার ভাইকে কেউ অপহরণ করেনি। কেউ তাদের জিম্মি করে অর্থ আদায়ও করেনি। এই কথার কোন ভিত্তিও নেই।

প্রতিবেদকের সাথে কথা হয় সামস্ ইশতিয়াক-এর। তার দাবি, তিনি দেশের বাইরে আছেন। ঘটনার সময় তিনি বাংলাদেশে ছিলেন না। বলেন, আমি কোন মুক্তিপনের টাকা রিসিভ করিনি। আপনার লোক টাকা রিসিভ করেছে এমন প্রশ্ন করলে, সেটার সঠিক জবাব দিতে পারেননি তিনি। উল্টো সাংবাদিককে খুশি করতে গিফট অফার করেন সামস্ ইশতিয়াক্।

মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, পাওনা টাকা ফেরত দেয়াকে কেন্দ্র করে চাকুরিজীবি ও তার ভাইকে অপহরনের ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। মূল ঘটনা রাজধানী ঢাকার বাড্ডা থানাধীন এলাকায় হয়েছে। এ ব্যাপারে বাড্ডা থানা থেকে কোন তথ্য বা সহযোগিতা চাওয়া হলে সার্বক্ষনিক পাশে থাকবে মাদারীপুর জেলা পুলিশ।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
ACP
লেখক / প্রতিবেদক

ACP

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।