পশ্চিমবঙ্গে তীব্র গরমে হাঁসফাঁস করছে রাজ্যবাসী

পশ্চিমবঙ্গে তীব্র গরমে হাঁসফাঁস করছে রাজ্যবাসী

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে তীব্র গরমে হাঁসফাঁস করছে রাজ্যবাসী।  তীব্র গরমের মধ্যে দুপুরের বদলে প্রাথমিক স্কুল ও শিশু শিক্ষানিকেতন গুলিকে সকালে ক্লাস নেওয়ার পরামর্শ দিল স্কুল শিক্ষা দফতর। পড়াশোনা বন্ধ না করে একই উপায় অবলম্বন করে দুপুরের বদলে সকালে ক্লাস করাতে বলা হয়েছে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক স্কুলগুলিকেও। এদিন তীব্র গরম থেকে পড়ুয়াদের রক্ষা করতে আরও এক নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে সংসদের তরফে। যেখানে বলা হয়েছে, গরমের দাপট থেকে বাঁচতে একাদশ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষাকেন্দ্রে পরীক্ষার্থীদের জন্য ওআরএস এবং পর্যাপ্ত পানীয় জলের ব্যবস্থা রাখতে।

এদিকে রাজ্যের প্রত্যেক জেলারই তাপমাত্রা কমবেশি ৪০ ডিগ্রি। বইছে লু। আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহে ২৫ থেকে ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গের কিছু জেলায় তাপপ্রবাহের সতর্কতা রয়েছে। আগামি ৭দিন বৃষ্টির সম্ভবনা নেই বললেই চলে। সেই কারণেই এই নতুন নির্দেশ।

কবে ভিজবে শহর কলকাতা সহ রাজ্য়? অপেক্ষায় প্রহর গোনা চলছে তো চলছেই। তবে এখনই অস্বস্তিকর গরম থেকে রেহাই মিলবে না। তাপমাত্রার পারদ আরও চড়বে। চলবে তাপপ্রবাহ। পূর্বাভাস দিল হাওয়া অফিস। আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, উত্তর-পশ্চিম ভারত থেকে লাগাতার গরম হাওয়া ঢুকছে রাজ্যে। যার জেরে তাপপ্রবাহের পরিস্থিতির সৃষ্টি। আপাতত বৃষ্টি (Rain) নিয়ে কোনও আশার বাণী শোনাতে পারেনি হাওয়া অফিস। নেই কালবৈশাখীর সম্ভাবনাও। উলটে বেলা ১১টা থেকে বিকেল ৪টে পর্যন্ত চলবে তাপপ্রবাহ।

আবহাওয়া দফতর বলছে, তাপপ্রবাহ চলবে বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রাম, বীরভূম, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলায়।

দক্ষিণের পাশাপাশি তাপপ্রবাহ উত্তরেও। গরম পড়তেই অসুস্থ হয়ে মৃত্যু হল এক মহিলার। অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ধূপগুড়ির এক তৃণমূল কাউন্সিলর। দুটি ঘটনাই ধূপগুড়ির।

বাজারে ডাক্তার দেখাতে এসে গরমের মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে মাথা ঘুরে পড়ে গিয়ে ধূপগুড়িতে মৃত্যু হল এক মহিলার। মৃতের নাম রেখা রাহা। ধূপগুড়ি নেতাজিপাড়া ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা বলে জানা গিয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, প্রচণ্ড গরমের কারণে সানস্ট্রোক হয়েই তাঁর মৃত্যু হয়েছে।

এদিকে গরমের কারণে পুরসভা অফিসের মধ্যে অসুস্থ হয়ে পড়লেন ধূপগুড়ি পুরসভার ৫ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ববিতা রায়। এর পরই তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় ধূপগুড়ি হাসপাতালে। চিকিৎসাধীন তিনি। চিকিৎসক জানান, প্রচণ্ড গরমের কারণে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। তাঁকে স্যালাইন দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

বাজার করতে গিয়ে রাস্তায় পড়ে মৃত্য়ু হল বৈদ্যবাটির এক বাসিন্দারও। গরমের দাপটে সানস্ট্রোকে মৃত্য়ু হয় বৈদ্যবাটি পুরসভার ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা শ্যামলকুমার দাসের। প্রতিদিনের মতো সকালবেলা বাজার করতে গিয়েছিলেন ১২ নম্বর ওয়ার্ডে। হঠাৎই অসুস্থ অনুভব করায় রাস্তায় দাঁড়িয়ে চোখেমুখে জল দেন। এরপর ফের সাইকেলে উঠলে মাথা ঘুরে পড়ে যান। তৎক্ষণাৎ স্ট্রোকে মৃত্যু বলেই আশঙ্কা করছেন সকলে।

সূর্যদেবতার তাপ থেকে বাঁচতে ছায়া খুঁজছেন পথচারীরা। কোথাও আবার শীতল পানীয়ের দোকানে ক্রেতাদের ভিড়। কিন্তু প্রয়োজনের তাগিদে তো বেরোতেই হবে। সোমবার বীরভূমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

বাঁকুড়া জেলাতেও একই ছবি। একেবারে নাকাল মানুষজন। অসুবিধা থাকলেও বেরোতেই হবে, উপায় নেই। সঙ্গে জল ও মাস্ক রাখা আবশ্যক, বলছেন পথচলতি মানুষই।

সোমবার ঝাড়গ্রামে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৪৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বেলা বাড়তেই রাস্তাঘাট প্রায় শুনশান। দোকানপাট খোলা থাকলেও খরিদ্দার নেই। অরণ্যসুন্দরী ঝাড়গ্রামও যেন শুকিয়ে কাঠ।

এদিকে, হুগলি জেলার প্রায় প্রতিটি ইটভাটায় চড়া রোদে কাজ করা দুষ্কর হয়ে উঠছে। ফলে বেলা বাড়লেই ভাটাগুলি ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে। ফলে ইট উৎপাদনের কাজেও প্রভাব পড়েছে।

তবে উত্তরবঙ্গে একটু হলেও বরুণদেব কৃপা করেছিলেন। দিন কয়েক আগে কালবৈশাখীর ঝড় হয়েছে। যদিও সোমবার কোনও ঝড়-বৃষ্টি হয়নি। কোচবিহারে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
Brinda Chowdhury
সংবাদ প্রতিনিধি

Brinda Chowdhury

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।