পর্ণোগ্রাফি ও জোরপূর্বক ধর্ষণ! বানারীপাড়া থানায় মামলা দায়ের

সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার ॥ বানারীপাড়া থানায় পর্ণোগ্রাফি ও জোরপূর্বক ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে বলে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ভিকটিমের মা বাদি হয়ে এ মামলাটি দায়ের করেছেন এবং মামলা রুজু করার পর আসামী মহিম সরদারকে পুলিশ গ্রেফতার করে জেলখানায় প্রেরণ করেছেন।

মামলার বিবরণে জানা যায় যে, এ ঘটনাটি ঘটেছে বানারীপাড়া থানার জে.এল. নং-৪৭, ৫নং সলিয়াবাকপুর ইউনিয়নের গোয়াইলবাড়ী গ্রামে। থানা থেকে ঘটনাস্থলের দূরত্ব ৫ কিলোমিটার উত্তরে।

মামলার প্রাথমিক বিবরণে জানা যায় যে, মামলাটির ধারা: নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধিত ২০০৩) এর ৯(১) তৎসহ পর্ণোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১২ এর ৮(২) ধারা। ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা এবং মোবাইলে ধর্ষণের ভিডিও চিত্র ধারণ করার অপরাধ। বানারীপাড়া থানার মামলার স্মাঃ-৪০৭৫(৩)১, মামলা নং : ১০। ২০/১২/২০১৮ইং।

ভিকটিমকে পুলিশী হেফাজতে নিয়ে ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার (ওসিসি), শের-ই-বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় হাসপাতাল, বরিশাল। রেজিং নং-৩৩৪/৩, শয্যা নং-৬ (ছয়) এবং ৪ (চার) দিনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষায় উল্লেখ করা হয়েছে তিনি H/o Sexual Assul+ ইতিহাস নিয়ে ভর্তি হন।

বাদিনী এজাহারে উল্লেখ করেছেন তার মেয়ের বয়স ১৪ বছর। মহিম সরদার তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেছেন এবং ধর্ষণকারীর মোবাইলে তার মেয়ের ছবি তুলেছেন ও ভিডিও ধারণ করে রেখেছেন। এ ঘটনা কারো কাছে ফাঁস করে দিলে তার মেয়ের ধর্ষণের ছবি ও ভিডিও সবার কাছে ছড়িয়ে দিবে ও খুন-জখম করবে বলেও আসামী হুমকি দেয়।

তিনি জানান, আসামী মহিম সরদার জেলে বন্দি থাকার দরুন তার দাঙ্গাবাজ মা আলেয়া বেগম ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা একজোট হয়ে প্রতিনিয়ত মামলা তুলে নেয়ার জন্য বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি প্রদর্শন করছেন। এমনকি জীবননাশেরও হুমকি দিচ্ছেন।

এদিকে চাখার ইউনিয়ন পরিষদ মেম্বার রেনু বেগম ও শিক্ষক সজিব বিল্লাহ আত্মীয়তার সুবাদে দুই পক্ষকে নিয়ে আপোষ-সীমাংসার জন্য বসেছিলেন। আসামীর মা আলেয়া বেগম এক লক্ষ টাকার প্রস্তাব দেন মেয়ে পক্ষকে আপোষ হওয়ার জন্য। কিন্তু বাদি পক্ষ ওই টাকার বিনিময়ে আপোষ করতে রাজি হননি।

আসামীর এক ভাই মাসুম সরদার গ্রীসে থাকেন, অন্য দুই ভাই মিন্টু সরদার ও মনির সরদার ঢাকায় চাকরি-চাকরি করেন এ তিন ছেলের টাকা-পয়সার প্রভাব খাঁটিয়ে থানা তদন্তকারী কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করার জন্য আসামীর মা আলেয়া বেগম এবং তার সাঙ্গপাঙ্গ সঙ্গে নিয়ে তদ্বিরে নেমেছেন। আসামী পক্ষের টাকার প্রভাবে এই মামলায় ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হবার সম্ভাবনা রয়েছে বলেও বাদিনী শংকা প্রকাশ করেছেন।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
admin
লেখক / প্রতিবেদক

admin

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।