এন এ রবিউল হাসান লিটন, পঞ্চগড় প্রতিনিধি: পঞ্চগড়ে স্ত্রীকে হত্যার দায়ে স্বামীর ফাঁসির রায় দিয়েছে আদালত। একইসঙ্গে নিহতের পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা দেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়।
১৩ জুন (সোমবার) পঞ্চগড়ের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক জেলা ও দায়রা জজ এম এ নূর আসামির উপস্থিতিতে এই রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডিত নিমাই চন্দ্র বর্মণ পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার বার আউলিয়া এলাকার অনিল চন্দ্র বর্মণের ছেলে। উল্লেখ্য , ২০০৮ সালের ১৩ অগাস্ট দেবীগঞ্জ উপজেলার সোনাহার এলাকার করুণা কান্ত রায়ের মেয়ে সোনালী রাণী সম্পার সঙ্গে আটোয়ারী উপজেলার বার আউলিয়ার অনীল চন্দ্র বর্মণের ছেলে নিমাই চন্দ্র বর্মণের বিয়ে হয়।
বিয়ের পর থেকে দুই লাখ টাকা যৌতুকের দাবিতে স্বামীর বাড়িতে প্রায় সম্পাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো। এর ধারাবাহিকতায় ২০১২ সালের ১২ নভেম্বর মারধর ও শ্বাসরোধ করে সম্পাকে হত্যার পর লাশ বাড়ির পাশে গাছে ঝুলিয়ে রাখা হয়।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আমিনুর রহমান জানান, জরিমানার অর্থ ২৫ হাজার টাকা আসামির সম্পত্তি থেকে আদায় করে বাদীপক্ষকে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আমিনুর রহমান জানান, এ ঘটনায় সম্পার বাবা করুণা কান্ত রায় মেয়ের স্বামী, শ্বশুর, শ্বাশুড়ি ও ননদসহ ছয় জনকে আসামি করে আটোয়ারী থানায় মামলা করেন।
পুলিশ তদন্ত শেষে স্বামী, শ্বশুর, শ্বাশুড়ি ও ননদকে আসামি করে ২০১৩ সালের ২৫ মার্চ অভিযোগ পত্র দেয়। আদালত ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক ও তদন্ত কর্মকর্তাসহ ১৩ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করে।
তিনি আরও জানান, অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আদালত নিমাই চন্দ্রের বাবা অনিল চন্দ্র বর্মণ, মা রোমা বালা ও বোন বিউটি রাণীকে খালাস দিয়েছে।
মামলার বাদী করুণা কান্ত রায় বলেন, “আদালতের রায়ে আমার মেয়েকে হত্যার বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে। ঘাতকের সর্বোচ্চ শাস্তিতে আমি সন্তুষ্ট হয়েছি।” আসামির পক্ষে ওয়াহিদুজ্জামান সুজা ও বলরাম গুহ ঠাকুরতা মামলা পরিচালনা করেন। এ রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন বলে জানান অ্যাডভোকেট ওয়াহিদুজ্জামান সুজা।