নোয়াখালী গণ হিন্দুহত্যার স্মৃতি ‘অন্ধকারে প্রদীপ জ্বালিয়ে স্মরণ’ করবে ভারত

নিজস্ব প্রতিবেদক: আজ থেকে ৭৩ বছর আগে ১৯৪৬ সালের ১০ অক্টোবর ছিল কোজাগরী লক্ষী পুজা। সন্ধ্যায় যখন সবাই পুজা করতে বসেছিল তখন নেমে এসেছিল উন্মত্ত হানা। হিন্দুর রক্ত ও হিন্দু-নারীর মাংস দিয়ে মনের সুখে নিজেদের রক্ত পিপাসা মিটিয়েছিল।

বাঙালি হিন্দুরা আজও ভোলেনি সেই স্মৃতি। তাই নোয়াখালী গণহত্যা স্মরণে একটি প্ল্যাকার্ডে ‘নোয়াখালী গণহত্যায় নিহত পূর্বজদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে’ লিখে অন্ধকারে প্রদীপ জ্বালিয়ে স্মৃতি স্মরণ করবে ভারতের বিভিন্ন শহরে।

নোয়াখালীতে আজ থেকে ৭৩ বছর আগে, কোজাগরী লক্ষী পুজোর দিন বাঙালি হিন্দু যখনই সারাদিন পুজোর যোগাড়জন্ত করে সন্ধ্যা ৬:৩০ টা নাগাদ পুজা করতে বসেছে, তখনই রূপকথার কোন এক রাজার রাজ্যে রাক্ষস হানার মত নেমে এসেছিল উন্মত্ত যবনের হানা। নিরস্ত্র, নিরীহ, জল-বাতাসা খাওয়া নোয়াখালীর বাঙালি হিন্দু একটি রাক্ষসকেও প্রতিহত করতে পারেনি। নোয়াখালীর বিচ্ছিন্ন ভৌগোলিক অবস্থানের সুবিধা নিয়ে সেদিন যবনেরা মনের সুখে হিন্দু-রক্ত ও হিন্দু-নারী মাংস দিয়ে নিজেদের পিপাসা মিটিয়েছিল, ক্ষুধা নিবৃত্তি করেছিল। ভুল করে অথবা ইচ্ছে করেই কেউ ইতিহাস বইতে একে নাম দিয়েছিল ‘নোয়াখালী দাঙ্গা‘ দাবী ভারতীয় বিভিন্ন হিন্দু মহলের।

তারা বলেন, ”দাঙ্গা বলতে বোঝায় দুটো সম্প্রদায়ের মধ্যে পারস্পরিক লড়াই। নোয়াখালীতে যদি লড়াই হয়ে থাকে তবে সে লড়াই চারটে ছাগল বা ভেড়ার সাথে আশিটা ক্ষুধার্ত হিংস্র নেকড়ের লড়াই ছিল। ৭৩ বছর আগের নোয়াখালীর ঘটনা ছিল একটি হত্যাকাণ্ড। পৃথিবীর ইতিহাসের দীর্ঘতম গণহত্যার সূত্রপাত ঘটেছিল ১০ই অক্টোবর, ১৯৪৬”।

তারা আক্ষেপ করে বলেন, আবারও এসেছে সেই রক্তমাখা, বাঙালি হিন্দুর নাড়িভুঁড়ি পচা গন্ধের ১০ই অক্টোবর। নিজেদের স্মৃতি ও চেতনা থেকে এই অভাগা বাঙালি হিন্দুগুলোকে মুছতে দেবেন। তাঁদের আমাদের পূর্বপুরুষরা আশ্রয় দিতে পারেনি। তাদের পাশে দাঁড়ানোর মত কোন গোপাল মুখার্জি বা রাম চ্যাটার্জি ছিল না।

তাই আজ বৃহস্পতিবার, ১০ই অক্টোবর, ২০১৯, নোয়াখালীতে নিহত পূর্বজ হিন্দুদের স্মরণে তারা সকলে সন্ধ্যা ঠিক ৬.৩০ এ ঘরের সমস্ত আলো ১ থেকে ৩ মিনিটের জন্য নিভিয়ে দেবে। ঘরে জ্বালানো থাকবে একটি প্রদীপ, আর প্রতিটি বাড়িতে তিন বার শঙ্খধ্বনি হবে।

তারা আরো বলেন, এটা খুবই সামান্য ব্যাপার, প্রতিদিন হয়তো এমনিই করেই সন্ধ্যা দেন অনেকে। বৃহস্পতিবারের একদিন সন্ধ্যায়  তাদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে, ভগবানের পুজো দিতে দিতে যারা নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হলো তাদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে, মা লক্ষীর পুজো দিতে দিতে যে নারীরা হলো যবন জল্লাদদের কামলালসার শিকার তাদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে, ভগবানকে গৃহে প্রতিষ্ঠা করতে করতে, যারা হয়ে গেল গৃহহীন তাদের উদ্দেশ্যে শঙ্খ বাজালেন। সেদিন ভগবানও তাদের বাঁচাননি। ঘুমন্ত সেই ভগবানও এই নোয়াখালীর হিন্দুদের ও অপরাধী। কিন্তু জাগ্রত বাঙালি হিন্দু ভগবানের ভরসায় বসে থাকবেন না। নিজের ইতিহাসকে, নিজের শিকড়কে এভাবেই স্মরণ করুন ও স্মরণ করিয়ে দিন।

এমন কাজের খবর পেয়ে পশ্চিমবঙ্গে (TMC)র একাংশ বলেন এটা রাষ্ট্র বিরোধী কাজ। আমরা হিন্দু-মুসলিম মিলে মিশে শান্তিপূর্ণ ভাবে থাকি। তাই কোন পুরনো ঘটনা মনে রেখে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা মনে লালন করা ঠিক না। এ কথার উত্তরে তারা বলেন আমরা আমাদের অনেক মহাপুরুষদের ই জন্ম ও মৃত্যু দিন উদযাপন করে থাকি। সব দেশে সবাই করে। স্বজাতির প্রতি জাতির মানুষই স্মৃতিচারণ করে এটা কোন রাষ্ট্রদ্রোহ বা অন্যায় না।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
admin
সংবাদ প্রতিনিধি

admin

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।