নারী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের প্রথম সেমিফাইনালের প্রথমার্ধেই ভুটানকে ৪-০ গোলের ব্যবধানে বিধ্বস্ত করেছে বাংলাদেশ। সবকিছু ঠিক থাকলে, দক্ষিণ এশিয়ার নারী ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে ৬ বছর পর ফাইনাল পা রাখবে সাবিনা খাতুনরা।
আজ শুক্রবার (১৬ সেপ্টেম্বর) নেপালের দশরথ স্টেডিয়ামে বাংলাদেশের হয়ে একটি করে গোল করেন সিরাজ জাহান স্বপ্না, সাবিনা খাতুন, কৃষ্ণা রানি সরকার ও রিতুপর্না চাকমা।
ম্যাচ শুরুর দুই মিনিটেই দলকে লিড এনে দেন সিরাত জাহান স্বপ্না। মাঝ মাঠ থেকে সতীর্থের পাস ধরে বাম কর্নার দখলে নেন তিনি। এরপর ডি বক্সে ঢুকে ভুটান গোলরক্ষককে পরাস্ত করে বাংলাদেশকে এনে দেন ম্যাচের প্রথম সাফল্য। ষষ্ঠ মিনিটে ডি বক্সের বাইরে থেকে মারিয়া মান্ডার নেয়া দুর্বল শট গ্লাভসবন্দি করেন ভুটান গোলরক্ষক।
পরের মিনিটেই গোল হজম করতে বসেছিল বাংলাদেশ। প্রতি আক্রমণে গিয়ে ফাঁকা রক্ষণভাগে ঢুকে গোলের চেষ্টা করেন ভুটানের মেয়েরা। বক্স ছেড়ে দ্রুত পায়ে প্রতিপক্ষ দলের ফুটবলারের ঠিক সামনে থেকে বল ক্লিয়ার করেন রূপনা চাকমা।
ম্যাচের ১৮ মিনিটে গোল ব্যবধান দ্বিগুণ করেন বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক সাবিনা খাতুন। মাঝমাঠ থেকে মারিয়া মান্ডার বাড়িয়ে দেয়া পাস ধরে প্রতিপক্ষের রক্ষণদেয়ালে ঢুকে পড়েন সাবিনা। গোলরক্ষক কিছুটা বেরিয়ে পড়ায় সহজ শটে বল জাল বন্দি করেন তিনি। ভুটানের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে ৫ গোল করে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোল স্কোরার ছিলেন তিনি। সে সংখ্যাটা আরও বাড়িয়ে নিলেন ফাইনালে যাওয়ার লড়াইয়ে।
ম্যাচের ৩০ মিনিটে বাম প্রান্ত থেকে রিতু পর্না চাকমার পাঠানো উঁচু শট হেডের সাহায্যে জালে জড়ান কৃষ্ণা রানি সরকার। এর আগে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচেও একটি গোল করেন তিনি। ৩৫ মিনিটে ভুটানের হালি গোলে ভুটানের জাল বিধ্বস্ত করে বাংলাদেশের মেয়েরা। মাঝমাঠ থেকে পাওয়া সতীর্থের পাস নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে গোলের উদ্দেশে শট নেন কৃষ্ণা।
প্রথম প্রচেষ্টায় ঠেকিয়ে দেন ভুটানের গোলরক্ষক। তবে পুরোপুরি ক্লিয়ার করতে পারেননি তিনি। বল চলে যায় কাছেই দাঁড়িয়ে থাকা রিতুপর্নার কাছে। তার শট খুঁজে নেয় ঠিকানা। ৪-০ গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় লাল ছোটনের শিষ্যরা।
নারীদের সাফে বাংলাদেশের সেরা সাফল্য ২০১৬ সালে ফাইনাল খেলা। সেবার ভারতের বিপক্ষে হেরে শিরোপা খুইয়েছিল লাল সবুজের প্রতিনিধিরা।


