ইরান যুদ্ধ নতুন ধাপে যাচ্ছে, মিত্রদের পাশে চায় যুক্তরাষ্ট্র: মাইক জনসন

ইরান যুদ্ধ নতুন ধাপে যাচ্ছে, মিত্রদের পাশে চায় যুক্তরাষ্ট্র: মাইক জনসন
ইরান যুদ্ধ নতুন ধাপে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ২৪ আগস্ট: ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত খুব শিগগিরই ‘নতুন ধাপে’ প্রবেশ করতে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার মাইক জনসন। একই সঙ্গে পরবর্তী পর্যায়ে মিত্র দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রকে সহযোগিতা করবে বলেও আশা প্রকাশ করেছেন তিনি। ইরান যুদ্ধ নতুন ধাপে

রোববার (২৩ আগস্ট) ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জনসন বলেন, যুক্তরাষ্ট্র খুব দ্রুত সংঘাতের নতুন একটি পর্যায়ে প্রবেশ করতে যাচ্ছে। তাঁর ভাষ্য, মিত্র দেশগুলো পরবর্তী ধাপে যুক্তরাষ্ট্রকে সহযোগিতা করবে এবং শেষ পর্যন্ত সংঘাতের অবসান ঘটানো সম্ভব হবে।

ইরানের সঙ্গে আলোচনার প্রসঙ্গে জনসন কঠোর অবস্থান তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, ইরানের ওপর আস্থা রাখা কঠিন এবং দেশটির পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ রয়েছে। তিনি আরও বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বে ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখার লক্ষ্য পূরণে যুক্তরাষ্ট্র এগিয়েছে।

আরও পড়ুনঃ চীনা দূতাবাসে হামলার হুমকি, ঢাকায় কূটনৈতিক মিশনে নিরাপত্তা জোরদার

এদিকে সংঘাতের পাশাপাশি ইরানের ওপর অর্থনৈতিক ও সামুদ্রিক চাপও বাড়াচ্ছে ওয়াশিংটন। সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বাণিজ্য ও তেল রপ্তানি ব্যবস্থাকে চাপে ফেলতে নতুন করে নিষেধাজ্ঞা ও নৌ-তৎপরতা জোরদার করেছে। ২৩ আগস্ট ইরান নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞার পরিকল্পনাকে ‘মরিয়া পদক্ষেপ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। একই সময়ে ওয়াশিংটন আরও কঠোর অর্থনৈতিক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানিয়েছে।

সংঘাতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোর একটি হয়ে উঠেছে হরমুজ প্রণালি। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথটিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। সামুদ্রিক চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিয়ে দুই পক্ষের অবস্থান ক্রমেই কঠোর হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে হরমুজে জাহাজ চলাচল নিয়ে ইরানের সামরিক ও কৌশলগত চাপের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রও নৌবাহিনীর উপস্থিতি জোরদার করেছে।

আরও পড়ুনঃ ইরানে মৃত্যুদণ্ডের মিছিল, রাজনৈতিক বন্দিদের নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

এরই মধ্যে হরমুজ প্রণালি নিয়ে মার্কিন রাজনীতিতেও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন একটি মানচিত্র শেয়ার করেছেন, যেখানে হরমুজ প্রণালিকে ‘নতুন মার্কিন ভূখণ্ড’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর আগে এক সমাবেশেও তিনি প্রণালিটিকে ‘আমেরিকান ভূখণ্ড’ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। ইরান অবশ্য ট্রাম্পের এমন দাবিকে প্রত্যাখ্যান করেছে।

অন্যদিকে, ইরানও যুক্তরাষ্ট্রের চাপের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। দেশটির কর্মকর্তারা নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও অর্থনৈতিক চাপের বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। একই সঙ্গে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান সংঘাতের অবসানে কূটনৈতিক সমাধানের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন।

বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে, যুক্তরাষ্ট্র যদি সত্যিই সংঘাতকে ‘নতুন ধাপে’ নিয়ে যায় এবং ইউরোপীয় বা আঞ্চলিক মিত্রদের আরও সক্রিয়ভাবে যুক্ত করে, তাহলে হরমুজ প্রণালি, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। এরই মধ্যে হরমুজকেন্দ্রিক উত্তেজনা আন্তর্জাতিক তেল সরবরাহ ও জাহাজ চলাচলে অনিশ্চয়তা বাড়িয়েছে।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
Brinda Chowdhury
লেখক / প্রতিবেদক

Brinda Chowdhury

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।