ইরানে মৃত্যুদণ্ডের মিছিল, রাজনৈতিক বন্দিদের নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

ইরানে মৃত্যুদণ্ডের মিছিল, রাজনৈতিক বন্দিদের নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ
মৃত্যুদণ্ড কার্যকর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তি এবং শত্রুপক্ষের সঙ্গে সহযোগিতার অভিযোগে মজিদ আদিনে নামের এক ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে ইরান। রোববার তাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয় বলে ইরানের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বরাতে জানা গেছে।

ইরানের দাবি, মজিদ আদিনে দেশের নিরাপত্তার বিরুদ্ধে কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন এবং বিদেশি পক্ষের হয়ে সক্রিয়ভাবে কাজ করছিলেন। চলতি বছরের জানুয়ারিতে ইরানে সরকারবিরোধী একটি বিক্ষোভে তাঁকে করাত হাতে অংশ নিতে দেখা গিয়েছিল বলেও অভিযোগ করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।

ইরানে সাম্প্রতিক সময়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সংখ্যা নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে সরকারবিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহণ, নিষিদ্ধ সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততা এবং গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার অভিযোগ উঠেছে।

মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত মামলায় অভিযুক্ত বহু ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে ইরান। তাদের অভিযোগ, ভিন্নমত দমন এবং সম্ভাব্য সরকারবিরোধী আন্দোলন ঠেকাতে মৃত্যুদণ্ডকে ভয় দেখানোর হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ চীনা দূতাবাসে হামলার হুমকি, ঢাকায় কূটনৈতিক মিশনে নিরাপত্তা জোরদার

এমন মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের তালিকায় ৩৪ বছর বয়সী পদার্থবিদ্যার শিক্ষক ওয়াহিদ বানিয়ামেরিয়ানও রয়েছেন বলে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। তিনি নিষিদ্ধ সংগঠন পিপলস মুজাহিদিন অব ইরানের (PMOI/MEK) সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে ইরানি কর্তৃপক্ষের অভিযোগ। তাঁর পরিবারের দাবি, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে তাদের আগে থেকে জানানো হয়নি।

মানবাধিকার সংগঠন ইরান হিউম্যান রাইটস (IHR) বলছে, সংঘাত ও রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে ইরানে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রবণতা আরও বেড়েছে। সংগঠনটির পরিচালক মাহমুদ আমিরি-মোগাদ্দাম আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, রাজনৈতিক বন্দিদের বিরুদ্ধেও আরও মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হতে পারে।

IHR-এর মতে, মৃত্যুদণ্ডের ক্ষেত্রে শুধু রাজনৈতিক বা নিরাপত্তাসংক্রান্ত মামলাই নয়, মাদকসংক্রান্ত অপরাধ এবং অন্যান্য ফৌজদারি মামলাও রয়েছে। সংগঠনটি দীর্ঘদিন ধরে ইরানে মৃত্যুদণ্ডের ব্যবহার কমানো এবং বিশেষ করে রাজনৈতিক বন্দিদের মৃত্যুদণ্ড স্থগিত করার আহ্বান জানিয়ে আসছে।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালও ইরানে মৃত্যুদণ্ডের ব্যাপক ব্যবহারের বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে। সংগঠনটির বিভিন্ন প্রতিবেদনে ইরানকে বিশ্বের অন্যতম সর্বাধিক মৃত্যুদণ্ড কার্যকরকারী দেশ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

তবে মৃত্যুদণ্ডের সঠিক সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের হিসাবের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। ইরানি কর্তৃপক্ষও সব মৃত্যুদণ্ডের পূর্ণাঙ্গ ও নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যান নিয়মিত প্রকাশ করে না। ফলে চলতি বছরে ঠিক কতজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা কঠিন।

আরও পড়ুনঃ অগ্নিকন্যা বীণা দাস: ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের সাহসী বিপ্লবীর জন্মদিন আজ

মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতে, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ধারাবাহিকতা ইরানে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও রাজনৈতিক বিরোধিতার ওপর আরও চাপ তৈরি করছে। তারা জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে মৃত্যুদণ্ড স্থগিত এবং রাজনৈতিক বন্দিদের বিচারপ্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক মানদণ্ড নিশ্চিত করতে তেহরানের ওপর চাপ প্রয়োগের আহ্বান জানিয়েছে।

ইরান অবশ্য জাতীয় নিরাপত্তা, গুপ্তচরবৃত্তি ও সন্ত্রাসবাদসংক্রান্ত অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রয়োগের অবস্থান বজায় রেখেছে। তেহরানের ভাষ্য, বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার হয়ে কাজ করা বা দেশের নিরাপত্তার বিরুদ্ধে কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
Brinda Chowdhury
লেখক / প্রতিবেদক

Brinda Chowdhury

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।