কপালে টিপ পরা নিয়ে তেজগাঁও কলেজের শিক্ষিকা লতা সমাদ্দারকে প্রকাশ্যে কটূক্তি, গালাগাল ও বাইক চাপা দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত (সাসপেন্ড) করা পুলিশ কনস্টেবল নাজমুল তারেককে পুনরায় চাকরিতে বহালের নির্দেশ দিয়েছেন প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল-১। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদের জন্ম দিয়েছিল। টিপকাণ্ডে পুলিশ পুনর্বহাল
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক আমিরুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন।
নাজমুল তারেকের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আব্দুর রহিম কাজল জানান, বরখাস্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা মামলার শুনানি শেষে আদালত চাকরিচ্যুতির আদেশ বাতিল করে তাকে পুনর্বহালের নির্দেশ দিয়েছেন।
ঘটনার বিবরণ
গত ২ এপ্রিল (শনিবার) সকালে রাজধানীর ফার্মগেট এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী শিক্ষিকা লতা সমাদ্দার তেজগাঁও কলেজের থিয়েটার অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের প্রভাষক। অভিযোগে জানা যায়, তিনি হেঁটে কর্মস্থলে যাওয়ার সময় গ্রিন রোডের মুখে মোটরসাইকেলে থাকা পুলিশের পোশাক পরা এক ব্যক্তি তার কপালে টিপ পরা নিয়ে বাজে মন্তব্য করেন।
শিক্ষিকা লতা সমাদ্দার এর প্রতিবাদ করলে অভিযুক্ত ব্যক্তি তার সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়ান এবং তাকে গালাগাল করেন। একপর্যায়ে তিনি শিক্ষিকার ওপর মোটরসাইকেল চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। আত্মরক্ষার্থে সরে দাঁড়ালেও শিক্ষিকা পায়ে আঘাত পান।
আইনি পদক্ষেপ ও অভিযুক্ত শনাক্ত
ঘটনার পর পরই শিক্ষিকা লতা সমাদ্দার শেরেবাংলা নগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। বিষয়টিকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হলে অনুসন্ধানে নামে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং বায়োমেট্রিক তথ্য যাচাই করে অভিযুক্তকে শনাক্ত করা হয়।
অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম নাজমুল তারেক, যিনি ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) প্রোটেকশন বিভাগে কনস্টেবল পদে কর্মরত ছিলেন। পরে তাকে ডিএমপি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয় এবং তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
সারাদেশে প্রতিবাদের ঝড়
ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সর্বস্তরের মানুষের মাঝে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। জাতীয় সংসদেও এটি নিয়ে আলোচনা ও প্রতিবাদ জানানো হয়। সংস্কৃতি কর্মী, শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং শোবিজ তারকারা টিপ পরা ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করে এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানান এবং নারীর পোশাক ও সাজগোজের স্বাধীনতার পক্ষে সংহতি প্রকাশ করেন।