× Banner
সর্বশেষ
বস্তুনিষ্ঠতা ও সত্য উদঘাটনই সঠিক সাংবাদিকতার মূলভিত্তি: তথ্যমন্ত্রী পুরুষের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করছেন আদিবাসী নারীরা, মজুরিতে বৈষম্য ঢাকার চক্রাকার নৌপথে চালু হবে ওয়াটার বাস – নৌ পরিবহনমন্ত্রী ফ্যাসিস্টদের ফটোকপি বিএনপির মধ্যে দেখতে পাচ্ছি – জামায়াত আমির আগস্টে নিষিদ্ধ ঘোষিত গোষ্ঠীর তৎপরতা; সতর্ক থাকার আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাংলাদেশ-মিয়ানমার দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও যোগাযোগ জোরদারে বাণিজ্যমন্ত্রীর বৈঠক জনবান্ধব ও পেশাদার পুলিশ বাহিনী গড়ার অঙ্গীকার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ডেভিড ইমনকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর ২০ বছর ধরে মৃত শিক্ষকের বেতন উত্তোলন, অভিযোগ জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে ‘জিনের নির্দেশে’ দাফনের ১২ ঘণ্টা পর নারীর মরদেহ উত্তোলন

দেবাশীষ মুখার্জী

নরেন্দ্র মোদির অর্থনৈতিক নীতি প্রচলিত আধা-সমাজতান্ত্রিক নীতির মিশ্রণ

Kishori
হালনাগাদ: শনিবার, ৪ এপ্রিল, ২০২৬
নরেন্দ্র মোদির অর্থনৈতিক নীতি

নরেন্দ্র মোদির অর্থনৈতিক নীতি কিছুটা আমেরিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রেগানের নীতি এবং প্রচলিত আধা-সমাজতান্ত্রিক নীতির মিশ্রণ। আশির দশকে রোনাল্ড রেগানের ব্যবসা-বান্ধব নীতির ফলে, আমেরিকার অর্থনীতিতে বিপ্লব এসেছিল। এই অর্থনৈতিক মডেল (Reaganomics) সারা বিশ্বে যথেষ্ট প্রশংসিত হয়েছে।
নরেন্দ্র মোদি রোনাল্ড রেগান দ্বারা অনুপ্রাণিত কি না জানি না, তবে মোদি সরকার কর্পোরেট ট্যাক্স ৩০% থেকে কমিয়ে ২২% করেছে (নতুন কোম্পানির জন্য ১৫%)। যার ফলে ভারতের কর্পোরেট সংস্থাগুলোর আয় বেড়েছে। এছাড়াও মোদি সরকার ১২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত উপার্জনকারীদের আয়কর মুক্ত করে দিয়েছে। সরকারি কর্মচারীদের ক্ষেত্রে ট্যাক্স ছাড় আরও বেশি, ফলে মধ্যবিত্তের হাতে উদ্বৃত্ত অর্থ বেড়েছে।
কিন্তু ধনী ও মধ্যবিত্তদের কর ছাড় দেওয়ার ফলে রাজস্বে যে ঘাটতি তৈরি হয়েছে, তা পূরণের জন্য ধনী-দরিদ্র-মধ্যবিত্ত নির্বিশেষে সবার জন্য অভিন্ন জিএসটি (Goods and Services Tax) চালু করা হয়েছে। সংগত কারণেই জিনিসপত্রের দাম বেড়েছে এবং এতে সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছে প্রান্তিক ও দরিদ্র জনগোষ্ঠী।
মোদি সরকারের কর্পোরেট-বান্ধব নীতির ফলে আদানি-আম্বানিরা পৃথিবীর শীর্ষ ধনীতে পরিণত হয়েছেন। উল্লেখ্য, চীনের অর্থনীতি ভারতের তুলনায় অনেক বড় হলেও সেখানে কর্পোরেট ট্যাক্স বেশি। ফলে ভারতের শীর্ষ ধনীদের তুলনায় চীনের ধনীরা ব্যক্তিগত সম্পদের দিক থেকে অনেক পিছিয়ে; তবুও BYD, Xiaomi, Vivo, TikTok, Oppo-এর মতো চাইনিজ ব্র্যান্ডগুলো বিশ্ববাজারে আধিপত্য বিস্তার করেছে।
​নরেন্দ্র মোদির কর্পোরেট-বান্ধব অর্থনৈতিক নীতির ফলে ভারতের প্রবৃদ্ধি ৮%-এর অধিক হয়েছে। এর সুফল সিংহভাগই পেয়েছে অতি-ধনীরা, তবে মধ্যবিত্তরাও কিছুটা লাভবান হয়েছে।
​যদিও মোদি সরকার বিগত মনমোহন সিং সরকারের ‘National Food Security Act (NFSA), 2013 বা জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা আইনের আওতায় সার্বজনীন রেশন কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে এবং অনেক ক্ষেত্রে তা আরও প্রসারিত করেছে। তবুও সম্পদ বৈষম্য এতটাই বেড়েছে যে, ‘World Inequality Report’ অনুযায়ী ভারতের ৪০% সম্পদ এখন মাত্র ১% মানুষের হাতে। এই বৈষম্য ব্রিটিশ আমলের চেয়েও বেশি।
রোনাল্ড রেগানের কর্পোরেট-বান্ধব নীতির আকর্ষণে — সারা পৃথিবী থেকে মেধাবীরা এসে মার্কিন কর্পোরেট সংস্থায় যোগ দিয়েছিল এবং মার্কিন অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তিতে পরিণত হয়েছিল। কিন্তু ভারতে কর্পোরেট বা উচ্চ-মধ্যবিত্ত বান্ধব নীতি থাকা সত্ত্বেও — ভারতীয় মেধাবীদের দেশত্যাগ তথা নাগরিকত্ব ত্যাগের হার অতীতের তুলনায় অনেক বেড়েছে, যা বিশ্বের যেকোনো দেশের তুলনায় বেশি।
​’Henley & Partners’-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৩ সালের জুন মাস পর্যন্ত ৮৭,০২৬ জন অতি-ধনী ব্যক্তি ভারতীয় নাগরিকত্ব ত্যাগ করে বিভিন্ন উন্নত দেশের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছেন। সারভাইভাল গ্র্যাভিটি (টিকে থাকার সক্ষমতা) এবং ভবিষ্যতের জন্য বসবাসযোগ্যতা বিবেচনায়, অতি-ধনী ও মেধাবীদের একটি অংশ ভারতের উপর আস্থা রাখতে পারছে না।


এ ক্যটাগরির আরো খবর..