× Banner
সর্বশেষ
ডেভিড ইমনকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর ২০ বছর ধরে মৃত শিক্ষকের বেতন উত্তোলন, অভিযোগ জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে ‘জিনের নির্দেশে’ দাফনের ১২ ঘণ্টা পর নারীর মরদেহ উত্তোলন বেনাপোল পৌর ভোটে ইমদাদুল হক ইমদাদের ব্যাপক গণসংযোগ আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় পুলিশ সদস্যদের আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে – স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্নো ভিডিও বানিয়ে ইন্টারনেটে ছড়ানোর অভিযোগে দুই নারীসহ কারাগারে ৪ ডিএমপির অভিযানে একদিনে গ্রেপ্তার ৪৩১, মামলা ৭০ প্রাথমিকের সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকদের যোগদানের নতুন তারিখ ১ অক্টোবর প্রাইভেটকারে তল্লাশি, ১৬ হাজার ইয়াবা ও দুই নারীসহ আটক ৪ কাফনের কাপড় পাঠিয়ে বিএনপি নেতাসহ ১৩ জনকে হত্যার হুমকি

নিজস্ব প্রতিবেদক

২০ বছর ধরে মৃত শিক্ষকের বেতন উত্তোলন, অভিযোগ জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে

ACP
হালনাগাদ: রবিবার, ২ আগস্ট, ২০২৬
২০ বছর ধরে মৃত শিক্ষকের বেতন উত্তোলন, অভিযোগ জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে
২০ বছর ধরে মৃত শিক্ষকের বেতন উত্তোলন, অভিযোগ জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে

ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মো. মহিউদ্দিনের বিরুদ্ধে স্থানীয় মোহাম্মদ ভেলা ওমরিয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসার একই নামের মৃত আরেক শিক্ষকের ব্যাংক হিসাব ও ইনডেক্স নম্বর ব্যবহার করে অবৈধভাবে ২০ বছর ধরে সরকারি বেতন-ভাতা তোলার অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া জালিয়াতি মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটিতে নিয়োগপ্রাপ্ত হওয়ারও অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

বিষয়টি জানাজানির পর মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের কাছে সম্প্রতি প্রতিকার চেয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন মাদরাসাটির সুপার মো. নুরুজ্জামান।

এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া মাদরাসা সুপারের বিরুদ্ধেও উঠেছে অভিযুক্তের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ।

ওই মাদরাসা সুপারের অভিযোগটি বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, তজুমদ্দিনের মোহাম্মদ ভেলা ওমরিয়া দাখিল মাদরাসায় ১৯৯৪ সালের ১৩ মার্চ মো. মহিউদ্দিন নামে অন্য এক ব্যক্তি জুনিয়র শিক্ষক হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হন। যার ইনডেক্স নম্বর ৩৬৪৭৭৬ এবং ব্যাংক হিসাব নং ৪৬০৬, পরবর্তীতে ২০২৫ সালে তার মৃত্যু হলে মাদরাসায় উক্ত পদটি শূন্য হয়।

এরপর তজুমদ্দিন ডিগ্রি কলেজের অফিস সহকারী ও জামায়াত নেতা মো. মহিউদ্দিন বাবা আছমত আলী মহাজন, যার ইনডেক্স নম্বর ৬০২৭৮২, ব্যাংক হিসাব নং ৪৫৭৭। গত ২০০৬ সালের ৭ অক্টোবর বিধি বহির্ভূতভাবে সহকারী শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ প্রাপ্ত হন।

মাদরাসা বোর্ডে দেওয়া অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ২০০৫ সালে শিক্ষক নিবন্ধন চালু হওয়ার পর তথ্য গোপন করে ২০০৬ সালে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বিধি বহির্ভূতভাবে পূর্বের ইনডেক্স ব্যবহার এবং নামের মিল থাকায় মৃত শিক্ষকের ব্যাংক একাউন্ট ব্যবহার করে সরকারি অর্থ উত্তোলনের মাধ্যমে আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করছেন অভিযুক্ত  শিক্ষক মহিউদ্দিন।

এদিকে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগ নিলেও বেতন ভোগ করছেন জুনিয়র শিক্ষক পদের। এছাড়া ২০০৭ সাল থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত এমপিও সিটে মহিউদ্দিনের ইনডেক্স এর বিপরীতে মৃত শিক্ষকের ব্যাংক একাউন্ট ৪৬০৬ পাওয়া যায় এবং জালিয়াতির অভিযোগ এনে তার বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়।

এসব অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক মো. মহিউদ্দিন বলেন, উদ্দেশ্যেপ্রণোদিতভাবে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। হিসাব নম্বর এক হলেও ওই একাউন্ট থেকে বেতন তোলা হয়নি।

এছাড়া আমি নিয়োগ প্রাপ্তিকালেও কোনোরকম তথ্য গোপন করিনি।  নিজে নিজে বেতনের টাকা তোলার এখতিয়ার কী আমার আছে? বেতন ইস্যু করেন মাদরাসা সুপার মোহাম্মদ নুরুজ্জামান ও সভাপতি।

তিনি আরও বলেন, সমস্যাটির সমাধানের জন্য মাদরাসা সুপার ২০১৮ সালে আমার কাছে ৫ লাখ টাকা চেয়েছিল। আমি তাকে ৩ লাখ টাকা দিয়েছি, কিন্তু সমস্যার সমাধান করেননি। পরে আমি তাকে দেওয়া ৩ লাখ টাকা ফেরত চাওয়ার কারণেই তিনি আমার বিরুদ্ধে লেগেছেন। আমি বিচার চাই।

মোহাম্মদিয়া ভেলা ওমরিয়া দাখিল মাদরাসা সুপার মোহাম্মদ নুরুজ্জামান বলেন, বর্তমানে মাদরসার শিক্ষক এমপিও সিটে ৬০২৭৮২ ইনডেক্স বিপরীতে  ৪৬০৬ নম্বর একাউন্টে সহকারী শিক্ষক মহিউদ্দিনের নাম রয়েছে।

আমি মাদরাসায় সুপারের দায়িত্ব গ্রহণের পর বিষয়টি অবগত হয়ে নানা কারণে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানাতে বিলম্ব হয়েছে। মহিউদ্দিনের কাছ থেকে ৩ লাখ টাকা নেওয়ার বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন।

তজুমদ্দিন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম বলেন, গুরুত্ব সহকারে অভিযোগগুলো তদন্ত করে তদন্ত রিপোর্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে, তদন্ত চলছে।

এদিকে জামায়াতে ইসলামীর ভোলা জেলা শাখার সেক্রেটারী কাজী মাওলানা হারুনুর রশিদ বলেন, জেলা জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে অভিযোগের পরিপেক্ষিতে তজুমদ্দিন উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারির বিরুদ্ধে তদন্ত করে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে আগামীকাল (সোমবার) তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।

এছাড়া তিনি দাবি করছেন এ ঘটনায় মাদরাসা সুপার সরাসরি জড়িত। আমি মাদরাসা সুপারের বিরুদ্ধেও প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানাই।


এ ক্যটাগরির আরো খবর..