ধর্মীয় স্থান অধিগ্রহণ আইন প্রত্যাহের দাবী জানাচ্ছেন বাংলাদেশ পূজা উদ্‌যাপন পরিষদ

বিশেষ প্রতিবেদকঃ ধর্মীয় স্থান অধিগ্রহণ আইন প্রত্যাহার, কল্যাণ ট্রাস্ট বাতিল  করে ফাউন্ডেশন আইন, সংস্কৃত শিক্ষাকে(টোল) সমমর্যাদায় উন্নতি করাসহ সাতদফা জোর দাবি জানালেন বাংলাদেশ পূজা উদ্‌যাপন পরিষদ।

আজ ১২ই মে শুক্রবার শ্রী শ্রী ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির মেলাঙ্গনে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির বার্ষিক সাধারণ সভা ও জাতীয় পরিষদ সভায় এধরনের সাতটি দাবি জানালেন পরিষদের নেতৃবৃন্দ।

সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান জনাব শেখ কবির হোসেন।

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি শ্রী জয়ন্ত সেন দীপুর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট তাপস কুমার পাল, শ্রী সাধন মজুমদার এমপি, মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সভাপতি ডি.এন. চ্যাটার্জী ও সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট শ্যামল কুমার রায়, ঝিনাইদহ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সহ-সভাপতি কনক কান্তি দাস, অনিল সরকার, মঞ্জু ধর, হীরেন্দ্র নাথ সমাজদার হীরু, ড. অসীম সরকার, এডভোকেট প্রিয়রঞ্জন দত্ত, শ্রী নৃপেশ তালুকদার নানু, নির্মল রঞ্জন মন্ডল, সন্তোষ শর্মা সহ সভায় দেশের ৭১টি সাংগঠনিক জেলার প্রতিনিধিরা বক্তব্য রাখেন।

শোক প্রস্তাব পাঠ করেন শ্রী বিপ্লব কুমার দে ও আর্থিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন ড. তাপস চন্দ্র পাল। সভা পরিচালনা করেন সাংগঠনিক সম্পাদক শুভাশীষ বিশ্বাস সাধন।

সভায় নিম্ন প্রস্তাববলী সর্বসম্মতিক্রমে গ্রহণ করা হয়।

১. বাংলাদেশ পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের আজকের বার্ষিক সাধারণ সভা ও জাতীয় পরিষদ সভা আসন্ন জাতীয় বাজেট ধর্মনির্বিশেষে সকল সম্প্রদায়ের জন্য সমঅধিকারের ভিত্তিতে বরাদ্দের দাবি জানাচ্ছে।

২. সভা মনে করে, সরকার ধর্মীয় স্থান অধিগ্রহণ ইতোমধ্যে যে আইন প্রয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে এবং মন্ত্রীসভায় অনুমোদিত হয়েছে, তা দেশের মানুষের জন্য সার্বিক মঙ্গল বয়ে আনবে না। সংঘাত বাড়বে, ধর্মীয় সংখ্যালঘুরাই  সবচেয়ে বেশি নিগ্রহ ও প্রতিহিংসার শিকার হবে এবং ধর্মীয় স্থানসমূহ আইনের ফাকফোকরে স্বার্থন্বেষী মহলের দখলে চলে যাবে। বাংলাদেশ পূজা ঊদ্‌যাপন পরিষদ প্রস্তাবিত এই আইন প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছে।

৩. সভা উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছে, মাত্র দু দিন আগে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের কাফরুল এলাকায় শ্রী শ্রী দুর্গা মন্দির এই অধিগ্রহনের শিকার হয়েছে। মন্দিরের একাংশে ভেঙ্গে দিয়েছে সিটি কর্পোরেশন। এই সভা এই ঘটনায় তীব্র নিন্দা প্রতিবাদ জানাচ্ছে এবং অবিলম্বে ক্ষতিগ্রস্থ মন্দির পুননির্মানে পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানাচ্ছে।

৪. সভা সংস্কৃত শিক্ষাকে(টোল) সমমর্যাদায় উন্নতি করার দাবি জানাচ্ছে এবং স্কুল-কলেজে হিন্দু ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানাচ্ছে।

৫. সভা আগামী নির্বাচনের পূর্বে অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পন আইন যথাযথভাবে বাস্তবায়নের দাবি জানাচ্ছে। একই সঙ্গে উল্লেখ্য যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিকতা সত্তেও এক শ্রেনির আমলা এই আইন বাস্তবায়নে কায়েমি স্বার্থে বাঁধা সৃষ্টি করছে। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্যো সভা দাবি জানাচ্ছে।

৬. সভা দেবোত্তর সম্পত্তি সংরক্ষণ আইন যথাযথ আঙ্গিকে প্রয়োগের দাবি জানাচ্ছে।

৭. সভা কল্যাণ ট্রাস্ট বাতিল করে ফাউন্ডেশন আইনের দাবি জানাচ্ছে।

 

ট্যাগ অনিল সরকারএডভোকেট তাপস কুমার পালএডভোকেট প্রিয়রঞ্জন দত্তকল্যাণ ট্রাস্ট বাতিলকেন্দ্রীয় কমিটির বার্ষিক সাধারণ সভাক্ষতিগ্রস্থ মন্দির পুননির্মানজাতীয় পরিষদ সভাঝিনাইদহ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানড. অসীম সরকারদেবোত্তর সম্পত্তি সংরক্ষণধর্মীয় স্থান অধিগ্রহণ আইন প্রত্যারনির্মল রঞ্জন মন্ডলপূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সহ-সভাপতি কনক কান্তি দাসফাউন্ডেশন আইনবাংলাদেশ পূজা উদ্‌যাপন পরিষদমঞ্জু ধরমহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শ্যামল কুমার রায়শোক প্রস্তাব পাঠশ্রী নৃপেশ তালুকদার নানুশ্রী সাধন মজুমদার এমপিসন্তোষ শর্মাসভা পরিচালনাসংস্কৃত শিক্ষাকে(টোল)সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট শ্যামল কুমার রায়হীরেন্দ্র নাথ সমাজদার হীরু

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
admin
সংবাদ প্রতিনিধি

admin

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।