দ্রুত মধ্যম আয়ের রাষ্ট্রে উন্নীত হতে চলেছে বাংলাদেশ

বিশেষ প্রতিবেদকঃ  স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ দ্রুত মধ্যম আয়ের রাষ্ট্রে উন্নীত হতে চলেছে। ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে উন্নত রাষ্ট্রে উন্নীত করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী ভিশন নিয়ে দেশ এখন এগিয়ে চলেছে। গত কয়েক বছরে দারিদ্র্য বিমোচন, যোগাযোগ অবকাঠামো, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, বিদ্যুৎ, কৃষি, তথ্য ও প্রযুক্তিখাতের উল্লেখযোগ্য সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রেখে বাংলাদেশ তার কাঙ্খিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সফল হবে বলে তিনি এসময় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে বিশ্বব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট কিথ হ্যানসেন (Keith Hansen), এ্যানেট্টে ডিক্সন (Annette Dixon)-এর সাথে দুটি পৃথক বৈঠকে তিনি একথা বলেন। ওয়াশিংটনে বিশ্বব্যাংকের উদ্যোগে চলমান ‘নলেজ শেয়ারিং ইভেন্ট ২০১৭’ সম্মেলনে অংশগ্রহণের জন্য স্বাস্থ্যমন্ত্রী বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। মঙ্গলবার তিনদিন ব্যাপী এই ইভেন্ট শুরু হয়।

সহিংসতার কারণে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা সেদেশের নাগরিকদের বাংলাদেশে আশ্রয় দিয়ে ‘মাদার অব হিউম্যানিটি’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আশ্রয়, খাদ্য ও চিকিৎসা দেওয়ার যে উদ্যোগ নিয়েছেন তার প্রশংসা করে বিশ্বব্যাংকের ঊর্দ্ধতন কর্মকর্তারা আশ্রিত রোহিঙ্গাদের সাহায্যে তাদের সহায়তা অব্যাহত রাখার আশ্বাস প্রদান করেন। এসময় খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে রোহিঙ্গাদের মাঝে চিকিৎসা সহায়তা প্রদানের সফল পদক্ষেপ নেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী ও স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান তাঁরা।

মোহাম্মদ নাসিম এ সময় স্বাস্থ্যখাতে বাংলাদেশের অর্জন তুলে ধরে বলেন, বড় বড় শহরগুলোতে বিশ্বমানের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি উপজেলা, ইউনিয়ন এমনকি গ্রাম পর্যায়ের তৃণমূল দরিদ্র মানুষের জন্য মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। গ্রামের ওয়ার্ড পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্ভাবন কমিউনিটি ক্লিনিক কার্যক্রম আজ সারা বিশ্বের  উদাহরণ হিসাবে দেখানো হচ্ছে। যেখানে সাধারণ মানুষ বিনামূল্যে প্রাথমিক চিকিৎসা এবং ৩২ রকমের ঔষধ পাচ্ছে। কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে গ্রামের মানুষের স্বাস্থ্য তথ্য সংরক্ষণ হচ্ছে এবং প্রয়োজনে রাজধানীর চিকিৎসকদের সাথে ভিডিও কনফারেন্সে চিকিৎসা নেওয়ার ব্যবস্থা করেছে সরকার। তিনি ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের লক্ষ্যে সরকারের গৃহীত কর্মসূচিগুলোর সফল বাস্তবায়নে বিশ্ব ব্যাংকের সহায়তা কামনা করেন।

বিশ্বব্যাংকের কর্মকর্তারা এসময় স্বাস্থ্যখাতে বাংলাদেশের সাফল্য বিশেষ করে কমিউনিটি ক্লিনিক কার্যক্রমের ভূয়সী প্রশংসা করে এখাতে তাঁদের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।

বাংলাদেশের গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নের পাশাপাশি শহরাঞ্চলের বস্তিগুলোতে স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন আরো তৎপর হওয়ার জন্য পরামর্শ দেন বিশ্ব ব্যাংকের কর্মকর্তারা। এসময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশের শহরের বস্তিগুলোর স্বাস্থ্যমান উন্নয়নে স্থানীয় সরকার বিভাগ মূল ভূমিকা রাখে। এই ব্যবস্থা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে এনে একটি সমন্বিত স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলা যায় কিনা সরকার তা বিবেচনা করছে।

এসময় বিশ্ব ব্যাংকের বিকল্প নির্বাহী পরিচালক মোশাররফ হোসেন, যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব ফয়েজ আহম্মেদ, অর্থ মন্ত্রণালয় ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিবসহ বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্ব ব্যাংকের ঊর্দ্ধতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
admin
লেখক / প্রতিবেদক

admin

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।