× Banner
সর্বশেষ
বাংলাদেশকে গণতান্ত্রিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছে সরকার: মির্জা ফখরুল পদত্যাগের চূড়ান্ত প্রস্তুতিতে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন: অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে নতুন বঙ্গভবন প্রধান কে? সক্রিয় মৌসুমি বায়ু: দেশজুড়ে ভারি বৃষ্টির সম্ভাবনা, বাড়তে পারে তাপমাত্রা রাজপথে ছড়ানো গুজবে কান না দেয়ার আহ্বান মির্জা ফখরুলের: নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি পালনে সরকার বদ্ধপরিকর দেশের বাজারে সোনার দামে বড় পতন: ভরিতে কমলো ৩৩২৪ টাকা ভারতের প্রধানমন্ত্রীর বার্তা ও অনশন ভঙ্গ: যন্তর-মন্তরে কাটল জট, জয়ে ফিরল সাধারণতন্ত্র জগন্নাথদেবের পুনর্যাত্রা আজ: উল্টো রথযাত্রার ধর্মীয় তাৎপর্য, ইতিহাস ও আধ্যাত্মিক বার্তা সোনম ওয়াংচুক অনশন প্রত্যাহার, ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত আজ ২৪ জুলাই বৈদিক জ্যোতিষে রাশিফল ও গ্রহদোষ প্রতিকারের উপায় সকাল ৯টার মধ্যে ১০ অঞ্চলে ঝড়ো হাওয়ার আশঙ্কা, নদীবন্দরে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত

মাদারীপুর প্রতিনিধি

ডাবের দাম কম দেয়ার প্রতিবাদ করায় বিক্রেতাকে ‘চোখ উপড়ে ফেলা’র হুমকি সার্জেন্টের বিরুদ্ধে

Kishori
হালনাগাদ: শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২৬
চোখ উপড়ে ফেলা’র হুমকি

মাদারীপুরে ডাবের দাম কম দেয়ার প্রতিবাদ করায় বিক্রেতার ‘চোখ উপড়ে ফেলা’র হুমকি’র অভিযোগ পাওয়া গেছে এক সার্জেন্টের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে ভুক্তভোগী ডেকে নেয়া হয় পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে। সেখানে জিজ্ঞাসাবাদের নামে ৬ ঘন্টা আটকে রাখা হয় বলেও অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি জানতে গেলে গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর চড়াও হন পুলিশের কর্মকর্তা। ভুক্তভোগী আব্দুল করিম বেপারী শহরের সরদার কলোনী একটি ভাড়া বাসায় থাকেন। তিনি সদর উপজেলার গাছবাড়িয়া এলাকার রশিদ বেপারীর ছেলে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শুক্রবার রাত ৮টার দিকে জেলা প্রশাসকের বাসভবনের সামনে ভ্রাম্যমাণ ডাব বিক্রেতা আব্দুল করিম বেপারীর কাছ থেকে ৮টি ডাব কিনে নেন জেলা ট্রাফিক পুলিশের সার্জেন্ট রফিক। পরে সেখানে বসেই নারী সদস্য ও বন্ধুদের নিয়ে ডাব খান রফিক। বিক্রেতার ভাষ্যমতে ডাবের দাম ১২০০ টাকার বিপরীতে ৫শ’ টাকা দেন ট্রাফিক সার্জেন্ট। এতেই আপত্তি বাধে বিক্রেতার। পরে আরো ৭০০ টাকা চাইলে ডাব বিক্রেতা আব্দুল করিম বেপারীকে উল্টো ভয়ভীতি প্রদর্শণ ও ‘চোখ উপড়ে ফেলার’ হুমকি দেয়ার অভিযোগ ওঠে পুলিশ সার্জেন্ট রফিকের বিরুদ্ধে। ডাব বিক্রেতার মোবাইলে ধারণকৃত একটি বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে নজরে আসে জেলা পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের। পরে শনিবার সকাল ১০টার দিকে ডাব বিক্রেতার ভাড়াকৃত বাসা থেকে ট্রাফিক পরিদর্শক রেদওয়ান আহম্মেদ, ডাব বিক্রেতা আব্দুল করিমকে ডেকে নিয়ে যান জেলার পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে। দিনভর করিমকে করা হয় জিজ্ঞাসাবাদ। কম্পিউটার কম্পোজ করে পুলিশের পক্ষ থেকে রাখা হয় তার স্বাক্ষর। বিষয়টি জানতে দুপুর ৩টার দিকে জেলার পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে ঘটনা জানতে যান কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মী। এ সময় ডাব বিক্রেতার সাথে কথা বলার চেষ্টা করেন সাংবাদিকরা। বিষয়টি ক্ষিপ্ত হয়ে যান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম। এ সময় উচ্চস্বরে আপত্তিকর কথাবার্তা বলে গণমাধ্যমকর্মীদের সাংবাদিকতা শিখিয়ে দেয়ার কথা বলেন জাহাঙ্গীর আলম।

ডাব বিক্রেতা বলেন, ‘একদিকে ডাবের দাম কম দিয়ে সার্জেন্টের হুমকি, অন্যদিকে পরদিন পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদের নামে আমাকে ৬ ঘন্টা রাখা হয়েছে। এমন অন্যায়ের আমি বিচার চাই।’

শুক্রবার রাতের ঘটনার সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত কাওসার মাহমুদ নামে এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, ডাবের দাম কম দেয়ার বিষয়টি আমি জানতে গেলে ট্রাফিকের সার্জেন্ট আমার সাথেও খারাপ ব্যবহার করে। একপর্যায়ে ডাব বিক্রেতাকে জোড়পূর্বক গাড়িতে তুলে নেয়ার চেষ্টা করেন। পরে স্থানীয়রা এগিয়ে আসলে সটকে পড়েন তিনি।

তবে ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকার একটি ভিডিও প্রত্যক্ষদর্শী মোবাইলে ধারণ করলেও ঘটনার সাথে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছেন সার্জেন্ট রফিক। তিনি বলেন, ‘এমন কোনো ঘটনাই ঘটেনি। আমি কোনো ডাব খাইনি এবং কাউকে হুমকিও দেইনি।’

মাদারীপুরের পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান বলেন, ‘ডাব বিক্রেতাকে অফিসে ডেকে আনা হয়েছে, মূলত কি ঘটনা ঘটেছে এটা জানার জন্য। অন্যকিছু নয়। ট্রাফিক সার্জেন্টের দোষ পাওয়া গেলে তদন্তপূর্বক বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। এছাড়া পুরো বিষয়টিই পুলিশ খতিয়ে দেখছে।’


এ ক্যটাগরির আরো খবর..