জঙ্গি আলীর ইতিবৃত্ত

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি: সিঙ্গাপুর থেকে দেশে পাঠানো ২৬ বাংলাদেশির মধ্যে একজন চুয়াডাঙ্গার মোহাম্মদ আব্দুল আলী (৪২)। সংসারের সচ্চলতা আনতে মাত্র ২৫ বছর বয়সে সৌদি আরবে যান তিনি।

সেখানে ৯ বছর প্রবাসজীবন কাটিয়ে দেশে ফিরে কিছুদিন পর সিঙ্গাপুর যান। এরপর মিডিয়ার মাধ্যমে গ্রামের লোকজন জানতে পারে আইএস কানেকশনে তার সম্পক্তৃতার খবর।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, মোহাম্মদ আব্দুল আলীর বাড়ি চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার ডোমচারায়। গ্রামের বাড়ি চুয়াডাঙ্গায় হলেও দেশে থাকার সময় বেশিরভাগই ঢাকায় থাকতেন তিনি।

ছোট বেলা থেকেই ছিলেন একটু ধর্মভীরু।

আব্দুল আলির পরিবারের সদস্যরা জানায়, সৌদি আরবে ৯ বছর প্রবাসজীবন কাটায় সে। এরপর দেশে ফিরে বিয়ে করে এক বছর পর আবার পাড়ি জমায় সিঙ্গাপুরে।

গ্রামবাসী বলছেন, সৌদি আরবের পর সিঙ্গাপুরে দীর্ঘ ১০ বছর অবস্থান করলেও ভাগ্যের চাকা তেমন পরিবর্তন করতে পারেনি আলী। দুই দফায় দীর্ঘ ২০ বছর প্রবাসজীবনের সঞ্চয়মাত্র দুই কক্ষের একটি বাড়ি।

এরই মধ্যে আইএস কানেকশনের খবরে বিস্মিত তার স্বজনসহ গ্রামের মানুষ। তারা কিছুতেই বিশ্বাস করতে পারছেন না আলীর জঙ্গি সম্পক্তৃতার কথা।

আব্দুল আলীর স্ত্রী রেখা খাতুন জানান, গত বছরের ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকেই আলির কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। তার মোবাইলও বন্ধ পাওয়া যায়। বেশ কয়েকদিন পর তার এক বন্ধু মারফত তার আটকের বিষয়টি জানা যায়।

ডোমচারা গ্রামের আলির প্রতিবেশী শাহাবুদ্দিন মণ্ডল জানান, ছোট বেলা থেকেই ৫ ওয়াক্ত নামাজ আদায়ের পাশাপাশি মোহাম্মদ আলী ছিল ধর্মভীরু। অনেকটা সরল প্রকৃতির আলি কোনো জঙ্গি সংগঠনের সাথে জড়িত থাকতে পারে- এটা কোনোভাবেই মানতে পারছি না।

আলীর বৃদ্ধা মা আমিরুন নেছা ও বাবা রুস্তম মণ্ডল ছেলের জঙ্গি কানেকশনের খবরে বিস্মিত। তারা চান সুষ্ঠু তদন্ত করলেই আমার ছেলের নিরাপরাধ হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ জন্য তারা প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপও কামনা করেন।

আলীর ছোট ভাই আব্দুল মজিদের দাবি আলী সিঙ্গাপুরে যে কোম্পানিতে কাজ করত তার মালিকের কাছে বেতন-ভাতা বাবদ অনেক টাকা বকেয়া ছিল। সেই টাকার জন্য চাপ দেওয়ায় তাকে মিথ্যা অভিযোগে পুলিশে দেয়া হয়।

এদিকে, সিঙ্গাপুর থেকে দেশে পাঠানোর পর আব্দুল আলির জঙ্গি কানেকশন নিয়ে চুয়াডাঙ্গা পুলিশ তদন্ত শুরু করে।

জেলার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার ছুফি উল্লাহ শুক্রবার সন্ধ্যায় এ প্রতিবেদককে জানান, মোহাম্মদ আলীর জঙ্গি সম্পক্তৃতা নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। যেহেতু সে ঢাকাতেই বেশি সময় থাকত, তাই প্রাথমিক তদন্তে চুয়াডাঙ্গায় তেমন কিছুই পাওয়া যায়নি। তবে ঢাকার টঙ্গীতে জঙ্গি সম্পক্তৃতা নিয়ে তার নামে একটি মামলা পাওয়া গেছে। সেই মামলায় শুক্রবার তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
admin
সংবাদ প্রতিনিধি

admin

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।