× Banner
সর্বশেষ
রাজনৈতিক বিভেদের ঊর্ধ্বে থেকে আইনজীবীদের কল্যাণে কাজ করতে হবে – আইনমন্ত্রী মাহ্দী আমিনের সাথে জ্যঁ পেম-এর সাক্ষাৎ বাংলাদেশে মানসম্পন্ন উন্নত আধুনিক চিকিৎসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে হবে – সমাজকল্যাণ মন্ত্রী যৌতুকের দাবিতে নির্যাতনে গৃহবধূর মৃত্যু; শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা পলাতক জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক রূপান্তরের প্রধান কারিগর যাদু মিয়া – তথ্যমন্ত্রী বিনা চিকিৎসায় কোনো নাগরিক মারা যাবে না – স্বাস্থ্যমন্ত্রী মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রীর সাথে বাংলাদেশে নিযুক্ত ডব্লিউএফপি’র কান্ট্রি ডিরেক্টরের সাক্ষাৎ পাইকগাছায় ঘরের তালা ভেঙে আরএফএল কর্মকর্তার লাশ উদ্ধার, বাইকসহ চম্পট রুমমেট নির্মাণ কাজের গুণগত মানে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া যাবে না – নৌ প্রতিমন্ত্রী ৩ দফা দাবিতে মোবারকগঞ্জ সুগার মিলসে ৫ দিনের আন্দোলন, বিক্ষোভ মিছিল ও কর্মবিরতি পালন

ছাত্রলীগের কমিটিতে একই নামের দুই নেতার সভাপতি পদ দাবি

Kishori
হালনাগাদ: শনিবার, ১৩ জুলাই, ২০১৯

স্টাফ রিপোর্টার, ঝিনাইদহ: কালীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি দাবি করা দুই ছাত্রলীগ নেতার নাম একই। নাজমুল হোসেন নামের দুই ছাত্রলীগ নেতা এ দাবি করছে। আর এই পদ নিয়ে বিভ্রান্তিতে পড়েছে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। দুইজনই স্থানীয় পত্রিকায় বিজ্ঞাপন ও ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে নিজেদের সভাপতি বলে দাবি করছে। তারা কালীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের পূর্বের কমিটির সাবেক সহ-সভাপতি দাবি করছে।

সভাপতি দাবি করা দুই নাজমুল হোসেনের একজনের বাড়ি উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে ও অন্যজনের বাড়ি মল্লিকপুর গ্রামে।

জানা গেছে, গত ৬ জুলাই রাতে ঝিনাইদহ জেলা ছাত্রলীগের প্যাডে সভাপতি রানা হামিদ ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আওয়াল স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে নাজমুল হাসান নাজিমকে সভাপতি, মনির হোসেন সুমনকে সাধারণ সম্পাদক ও জাবেদ হোসেন জুয়েলকে সাংগঠনিক সম্পাদক করে কালীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণা করেন। এর ৪ দিনের মাথায় গত ১০ জুলাই সভাপতি নাজমুল হাসান নাজিমকে গঠনতন্ত্রের বয়সসীমা অতিক্রম ও সাংগঠনিক সম্পাদক জাবেদ হোসেন জুয়েলের বিবাহের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাদের দুইজনকে অব্যহতি দেওয়া হয়। একই প্যাডে কালীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি নাজমুল হোসেনকে সভাপতি ও মোঃ রিয়াজউদ্দিনকে সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এরপর নাজমুল হোসেন নামের দুই ছাত্রলীগ নেতা নিজেদের সভাপতি ও সাবেক সহ-সভাপতি বলে দাবি করে।

এদিকে ৬ জুলাই ঘোষিত কমিটি থেকে সভাপতি ও সাংগঠনিক সম্পাদককে অব্যাহতি দেওয়ায় বিক্ষোভ শুরু করেছে ছাত্রলীগের একটি পক্ষ। ১০ জুলাই রাতে কমিটি ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই বিক্ষোভ শুরু করেছে ছাত্রলীগের একটি পক্ষ। প্রতিদিন সকাল-বিকাল শহরে বিক্ষোভ মিছিল করছে। এছাড়া ১১ জুলাই সকালে আগের কমিটি বহালের দাবিতে সড়ক অবরোধ করে তারা। বিক্ষোভের কারণে নতুন কমিটির নেতারা শহরের কোথাও দেখা যাচ্ছে না।

নেতাকর্মীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, গত ৩০ ডিসেম্বরের আগে কালীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগ দুইটি গ্রুপে বিভক্ত ছিল। মনোনয়ন নিয়ে দলের শীর্ষ দুইনেতার কারণে। ২০১৬ সালের ১৭ জুলাই ঝিনাইদহ জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি/সম্পাদক ইসরাইল হোসেনকে সভাপতি ও কাজী রিপনকে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেন। সাবেক সভাপতি ইসরাইল হোসেন একটি পক্ষের নেতৃত্বে ছিলেন ও সাধারণ সম্পাদক কাজী রিপন অন্য একটি গ্রুপের নেতৃত্ব দিতেন। কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচীও আলাদাভাবে পালন করা হতো। এই কমিটিতে ১০ জনকে সহ-সভাপতি পদ দেওয়া হয়। এর মধ্যে নাজমুল হোসেন নামে সহ-সভাপতি পদে একজনকে রাখা হয়। এক নাজমুল হোসেন ছিল সভাপতি ইসরাইল হোসেনের গ্রুপের, অন্য নাজমুল হোসেন সাধারণ সম্পাদক কাজী রিপন গ্রুপের। পৃথক কর্মসূচীতে দুইজনই কালীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি পরিচয় দিতেন।

সভাপতি দাবি করা মনোহরপুর গ্রামের নাজমুল হোসেন বলেন, তিনিই গত কমিটির সহ-সভাপতি। উপজেলা ছাত্রলীগের বিভিন্ন কর্মসূচিতে তিনি অংশগ্রহণ করেছেন। তিনি আগের কমিটির সহ-সভাপতি দাবি করে বলেন, এ বিষয়ে আমার কাছে যথেষ্ঠ তথ্য প্রমাণ আছে এবং আমিই সদ্য ঘোষিত কমিটির সভাপতি।
অন্যজন সভাপতি দাবি করা মল্লিকপুর গ্রামের নাজমুল হোসেনের মোবাইলে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।

কালীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ইসরাইল হোসেন বলেন, ২০১৬ সালের ১৭ জুলাই ঘোষিত কমিটিতে তাকে সভাপতি ও কাজী রিপনকে সাধারণ সম্পাদকের নাম ঘোষণা করে কমিটি দেওয়া হয়। এই কমিটিতে নাজমুল হোসেন নামে একজন সহ-সভাপতি ছিল। গ্রুপিংয়ের কারণে দুই নাজমুলই নিজেদের সহ-সভাপতি পরিচয় দিত। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জেলা কমিটিকে অবহিত করা হলেও তখন কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

গত ৬ জুলাই রাতে ঝিনাইদহ জেলা ছাত্রলীগের প্যাডে সভাপতি রানা হামিদ ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আওয়াল স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে নাজমুল হাসান নাজিমকে সভাপতি, মনির হোসেন সুমনকে সাধারণ সম্পাদক করায় কালীগঞ্জের সাধারন মানুষ থেকে শুরু করে ছাত্রলীগের নেতা কর্মীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দিপনা ও আনন্দ লক্ষ করা যায়।

গত ৬ জুলাই কমিটির সভাপতি নাজমুল হাসান নাজিম দির্ঘ ১৬/১৭ বছর ধরে ছাত্র লীগের সাথে রাজনিতী করে আসছে। ছাত্রলীগের দূর্দদিনে নাজমুল হাসান নাজিমের লক্ষ করার মতো অনেক অবনাদ রয়েছে। এমনকি কোলকাতা বেকার হোস্টেল থেকে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য সরিয়ে নেবার জন্য যখন সেদেশের উর্গমৌলবাদী সংগঠন আন্দলোন করছিলেন ঠিক তখন ২০১৭ সালের ২৮ মার্চ বাংলাদেশের ঝিনাইদহ জেলার কালীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের নাজমুল হাসান নাজিম তার ভারতের বন্ধুদের নিয়ে বাংলাদেশ দুতাবাসে যোগাযোগ করে একটি স্বারক লিপি দেন। এবং তখন দূতাবাস থেকে বলাহয় বিষয়টি তারা খুবই গুরুত্ব সহকারে দেখবেন। এর পর কোলকাতা বেকার হোষ্টেল থেকে আর সরানো সম্ভব হয়নি বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যটি। তখন এ বিষয়ে ভারত ও বাংলাদেশের বিভিন্ন পত্র-পত্রীকায় নিউজ প্রচার করা হয়। এমন একজন ছাত্র লীগের নিবেদিত প্রাণকে হঠাৎ করেই কমিটি ঘোষনার ৪দিনের মাথায় সভাপতি পদথেকে অব্যহতি দেওযায় ক্ষুব্দ হয়েছেন ছাত্রলীগের নেতা কর্মীরা। তাদের দাবি অনতিবিলম্বে নাজমুল হাসান নাজিমকে কালীগঞ্জ উপজেলা ছাএলীগের সভাপতি পদে বহাল রাখার দাবি জানিয়েছেন।


এ ক্যটাগরির আরো খবর..