চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে আ. লীগের বৈঠক

স্টাফ রিপোর্টার: আওয়ামী লীগ পৌরসভা নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মেয়র পদে নির্বাচনকারী এবং এদের মদদদাতাদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে বৈঠকে বসছে ।

সোমবার দুপুর ১টায় আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হবে।

এর আগে দুই সপ্তাহ সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছিল আওয়ামী লীগের সাতজন বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদককে। গত ২৪ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এই সময় বেঁধে দেন। আজ সোমবার বেঁধে দেওয়া সময়ের শেষ দিন। এ বিষয়ে আলোচনা করতে দলের তিন যুগ্মসাধারণ সম্পাদক ও সাত সাংগঠনিক সম্পাদকের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ওবায়দুল কাদের।

এই বৈঠকে পৌর নির্বাচনের বিদ্রোহী প্রার্থী, তাদের পৃষ্ঠপোষক সংসদ সদস্য ও তাদের সমর্থক তৃণমূল পর্যায়ের নেতাদের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। একইসঙ্গে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলীয় কৌশল নিয়ে আলোচনা হবে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

বৈঠকের আগে বিশেষ প্রীতিভোজের আয়োজন করা হয়েছে। পাশপাশি আওয়ামী লীগের জাতীয় কাউন্সিল ঘিরে কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সম্পাদকদের আগামী কাউন্সিলে বিভিন্ন উপ-কমিটিতে অর্ন্তভূক্তি নিয়েও বিশেষ আলোচনা হবে বলে দলীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আওয়ামী লীগের এক সাংগঠনিক সম্পাদক বলেন, একটি ঘরোয়া বৈঠক আহ্বান করা হয়েছে। গতকালকে (রোববার) ফোন করে জানানো হয়েছে। সেটা পৌরনির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী ও তাদের পৃষ্ঠপোষকদের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে কি না জানি না। তবে আমি ব্যক্তিগতভাবে সব তদন্ত প্রতিবেদন সম্পন্ন করে রেখেছি।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলীয় কোন্দল এড়াতে প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে দলের মধ্যকার বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে অনুষ্ঠিত পৌরসভা নির্বাচনে দলের বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিষয়ে কঠোর অবস্থানে রয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। বিদ্রোহীদের কোনো ছাড় না দেওয়ার বিষয়েও জোর আলোচনা চলছে দলে। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে যেসব প্রার্থী নির্বাচনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত বিদ্রোহী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে তাদের বহিষ্কার ছাড়া ভিন্ন কোনো পথ খুঁজে পাচ্ছে না আওয়ামী লীগ।

এরইমধ্যে ওইসব বিদ্রোহী প্রার্থীর ঠিকানায় ২৪ জানুয়ারির বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হয়। তাদের ‘কেনো বহিষ্কার করা হবে না’ পাঠানো নোটিশের জবাব দিতে বলা হয় দুই সপ্তাহের মধ্যে। শুধু তাই নয়, পৌর নির্বাচনে যারা বিদ্রোহীদের পৃষ্ঠপোষকতা করেছিল, তাদের কর্মকাণ্ডের বিষয়েও তদন্ত করতে বলা হয় সাংগঠনিক সম্পাদকদের।

পৌরনির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগের ও এর সহযোগী সংগঠনের ৫৯ নেতা বিভিন্ন পৌরসভায় বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে অংশ নেন। এর মধ্যে ১৮ জন প্রার্থী জয়ী হন।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
admin
লেখক / প্রতিবেদক

admin

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।