চীনের গোয়েন্দা সংস্থার মিনিস্ট্রি অব স্টেট সিকিউরিটির (এমএসএস) উত্থান, চ্যালেঞ্জে সিআইএ

চীনের গোয়েন্দা সংস্থার মিনিস্ট্রি অব স্টেট সিকিউরিটির (এমএসএস) উত্থান, চ্যালেঞ্জে সিআইএ

বুধবার নিউইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, সিআইএর সহকারী পরিচালক ডেভিড কোহেন বলেন, প্রেসিডেন্ট বাইডেনের অধীনে চীনের অগ্রগতি চিহ্নিত করে সিআইএ তাদের বিনিয়োগ বাড়িয়েছে। এরই মধ্যে গোয়েন্দা সংস্থাটি চায়না মিশন সেন্টার ও টেকনোলজি ইন্টেলিজেন্স সেন্টার নামে দুটি প্রতিষ্ঠান চালু করেছে। ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান স্টিমসন সেন্টারের চায়না প্রোগ্রামের পরিচালক ইউন সান বলেন, অন্যদের বাণিজ্যের গোপনীয়তা ও প্রযুক্তি গ্রহণ করা চীনের পক্ষে একটি জনপ্রিয় বিষয়। দেশটির সরকার এটি অনুমোদন করে থাকে। প্রযুক্তির মাধ্যমে গুপ্তচরবৃত্তির প্রয়োজন ও তৎপরতা অনেকটাই বেড়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ডজনের বেশি মার্কিন কর্মকর্তার বক্তব্য, চীনের গোপন নথি ও দেশটির গোয়েন্দা সংস্থার প্রকাশিত তথ্যের মাধ্যমে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে। চীনের গোয়েন্দারা আরও বেশি কিছু চান। মহামারি চলাকালে চীনের প্রযুক্তি-সংক্রান্ত ঠিকাদারদের সঙ্গে তারা বৈঠক করেছিলেন। বৈঠকে তারা অভিযোগ করেন, বেইজিংয়ের কূটনৈতিক এলাকায় বিদেশি কূটনীতিক, সামরিক কর্মকর্তা ও গোয়েন্দাদের ওপর নজরদারির জন্য যেসব ক্যামেরা লাগানো রয়েছে, সেগুলো প্রয়োজনের তুলনায় পর্যাপ্ত নয়। তারা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারে একটি প্রকল্প চালুর নির্দেশনা দেন, যার মাধ্যমে তারা ওই এলাকায় কোনো ব্যক্তির চলাফেরার ধরন ও কারণ সম্পর্কে জানতে পারবেন।

এতে বলা হয়, চীনের গোয়েন্দারা ডাটাবেজ ও শত শত ক্যামেরা থেকে এআই প্রোগ্রামে তথ্য সংযুক্ত করার প্রস্তাব দেন। এসবের মধ্যে গাড়ির লাইসেন্স প্লেট, মোবাইল ফোনের তথ্য, ফোন নম্বর ইত্যাদি সংযুক্ত থাকবে। এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর প্রোফাইল চীনের গোয়েন্দাদের টার্গেট ব্যক্তিকে শনাক্ত করতে সহায়তা করবে। সেই সঙ্গে তাদের দুর্বলতা ও নেটওয়ার্ক সম্পর্কেও ধারণা দেবে।

বৈঠকের যেসব নথি মার্কিন গণমাধ্যমটির হাতে এসেছে, তা থেকে চীনের গোয়েন্দা সংস্থা প্রযুক্তির প্রতি কতটা আগ্রহী, সে সম্পর্কে জানা যায়। বিষয়টি প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে এসেছে। বৈঠকের নথিতে চীনের প্রধান গোয়েন্দা সংস্থা মিনিস্ট্রি অব স্টেট সিকিউরিটির (এমএসএস) উচ্চাকাঙ্ক্ষাও স্পষ্ট হয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এ গোয়েন্দা সংস্থা বিপুলসংখ্যক জনবল নিয়োগ দিয়েছে। এর মধ্যে অনেক মার্কিন নাগরিকও আছেন। প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের লক্ষ্য পূরণে গায়েন্দা সংস্থাটি উন্নত প্রশিক্ষণ, অর্থ বরাদ্দ ও অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে নিজেদের আরও শানিত করেছে। বিশ্বের অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক ও সামরিক শক্তি যুক্তরাষ্ট্রকে প্রতিদ্বন্দ্বী বিবেচনা করেই এমনটা করা হচ্ছে।

দূতাবাসগুলোতে নৈশভোজকালে যে গল্পকথন হতো, এক সময় সেগুলোই ছিল চীনের গোয়েন্দা সংস্থা এমএসএসের তথ্যের উৎস। এখন তারা বিশ্বব্যাপী তথ্য সংগ্রহ ও কৌশলে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি বা সিআইএর সঙ্গে সমানে সমান অবস্থান করছে। যা হোক, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের মাধ্যমে বেইজিংয়ে মার্কিন দূতাবাসসহ বিভিন্ন দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারীর ওপর নজরদারি বাড়াতে চাচ্ছে এমএসএস। অন্যদিকে বাইডেন প্রশাসন ক্ষমতায় আসার পর চীনের কোম্পানি ও তাদের প্রযুক্তিগত অগ্রগতির ওপর নজরদারি চালাতে সিআইএর বরাদ্দ দ্বিগুণ করেছে।

চীনের গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার এ লড়াই যুক্তরাষ্ট্র ও সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যে চলা ‘শীতল যুদ্ধ’কালের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। তখন লড়াই ছিল সিআইএ ও কেজিবির মধ্যে। সে সময় কেজিবিও বেশ শক্তিশালী ছিল। পরে এ গোয়েন্দা সংস্থা থেকেই জন্ম হয় ভ্লাদিমির পুতিনের মতো রুশ নেতার।

রাশিয়ার অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এতটা শক্তিশালী না থাকলেও চীনে এখন চলছে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক বিকাশকাল। এটা এমএসএসকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ করে দেবে, যা মার্কিন গোয়েন্দাদের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলবে। কেজিবি এ ধরনের চ্যালেঞ্জ দিতে পারেনি।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

FacebookXLinkedInPinterestWhatsApp
Kishori
সংবাদ প্রতিনিধি

Kishori

এই প্রতিবেদকের আরও সংবাদ পড়তে নামের উপর ক্লিক করুন।

💬 মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল প্রকাশিত হবে না।