হাবিবুর রহমান খান, শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি: হুসিয়ার সাবধান, সবাই সাবধানে ঘুমান, এই কথা বলে পাহারা দিচ্ছে মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলার রামনগর মুনিপুরি পাড়া। হুসিয়ার সাবধান ……..রাতে সবাই যখন নিদ্রায় আছন্ন তখন এমন সংলাপ নিয়েই রাতের পাহারায় ব্যস্থ থাকে একদল গ্রামবাসী।
রাতে চোরের উপদ্রোপ কিংবা ডাকাতের ভয়ে পাহারাদার নিয়োগ করা হয়। যাতে রাতে শান্তিতে ওদের উপর ভরসা করে ঘুমোনো যায়। তবে অনেক সময় এই টাকা খরচ করে পাহারাদার নিয়োগ দিলেও চুরি ডাকাতির মতো ঘটনা ঘটেই চলে।
আর এই ঘটনা গুলো এড়াতে বর্তমানে অনেক গ্রামেই শুরু হয়েছে গ্রামবাসীদের গ্রাম পাহারা। অন্যের উপর ভরসা না করে নিজেই রাতের বেলা বেড়িয়ে পড়ে নিজের গ্রাম পাহারায়। আর তেমনি একটি গ্রাম শ্রীমঙ্গল উপজেলার রামনগর মনিপুরি পাড়া।
হিন্দু মুসলীম ক্রিস্টান এর প্রায় ১৬০টি পরিবার এই গ্রামে বাস করে। মনিপুরিদের তাতেঁর কাপড়, এবং সাত রঙ্গের চা খেতে প্রতিদিনই এই গ্রামে দেশী বিদেশী পর্যটকদের আনাগুনা করতে দেখা যায়।
রাতের বেলা সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় হাতে লাটি, বল্লম, ছাতি, বাঁশি, টচলাইট নিয়ে ৮ জনের একটি দল গ্রাম পাহারা দিচ্ছে। কথা হয় রামনগর মনিপুরী পাড়া কমিউনিটি পুলিশিং এর সভাপতি মো. শহীদ মিয়া’র সাথে। তিনি জানালেন, রোজ রাতে তিনি গ্রাম পাহারায় অংশ নেন। প্রতি মাসে গ্রামের প্রতিটি বাড়ি থেকে ১ দিন বা ২ দিন পাহারায় থাকতে হয়। রাত ১২ টায় সকলে এসে উপস্থিত খাতায় স্বাক্ষর করেন।
পাহারা চলে ভোর ৪ টা পর্যন্ত। পাহারায় দুই ভাগ হয়ে গ্রামের দুই দিকে যাওয়া হয়। প্রতি রাতেই পুলিশ এসে স্বাক্ষর খাতা চেক করে স্বাক্ষর করে এবং পাহারাদারদের উৎসাহ দিয়ে যান। বিগত ১৯ মে ২০১৬ থেকে জোড়দার ভাবে এই পাহারা চলতেছে এই সময়ের ভিতর কোন রকম চুরি ডাকাতি ঘটনা ঘটেনি।
রামনগর মনিপুরী পাড়া কমিনিউটি পুলিশিং এর সহ-সভাপতি হিরন্ময় সিংহ , সাধারন সম্পাদক অজিত সিংহ , কোষাদক্ষ বিপুল সিংহ, দপ্তর সম্পাদক রাজু রাম গৌড়’দের সাথে কথা বলে জানা যায়, এক সময় সকাল হলেই চুরি ডাকাতির খবর নিয়ে ঘুম ভাঙ্গত। এখন এই গ্রাম পাহারার ফলে গ্রামে এখন আর চুর ডাকাতের ভয় নেই।
সবাই নির্ভয়ে ঘুমাতে পারে। গ্রাম পাহারার এই উদ্যোগটি নেওয়ায় ও সহযোগীতা করার জন্য শ্রীমঙ্গল থানার অফিসার ইনচার্জ মাহবুবুর রহমান এবং গ্রামের চেয়ারম্যান রনেন্দ্র প্রসাধ বর্ধন ও গ্রামের মেম্বার (ইউপি সদস্য) মো আরজু মিয়াকে ধন্যবাদও জানান তারা।
এদিকে গ্রামের এই পাহারা ব্যবস্থায় সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে শ্রীমঙ্গল থানাও। শ্রীমঙ্গল থানার অফিসার ইনচার্জ মাহবুবুর রহমান এই পাহারা দিতে সাহায্যের ব্যপারে ছাতা, বাঁশি , টর্চ লাইট দিয়েছেন তাদের হাতে তুলে।
এ ব্যপারে তিনি বলেন গ্রামবাসীদের পাহারার ব্যাপারে পুলিশের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগীতা করা হচ্ছে । আগামীতে আমরা পাহারার সুবিধার্থে পোশাকের ব্যবস্থা করে দেব। আমার সহযোগীতা অব্যাহত থাকবে।
গ্রামবাসীদের এই গ্রাম পাহারা যুগপোযুগী উদ্যোগ। যদি সব গ্রামে নিজ উদ্যোগ এরকম পাহারার ব্যবস্থা করা হয় তাহলে এলাকার চুরি ডাকাতি অনেকাংশে কমে যাবে বলে মনে করেন গ্রামবাসীরা ।


