× Banner
সর্বশেষ
ধর্মমন্ত্রীর আশু আরোগ্য কামনায় দেশজুড়ে হেফাজতে ইসলামের বিশেষ দোয়া দক্ষিণ-পূর্ব ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি, সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত ১১২ টাকায় সরকারি চাকরি পাওয়া স্বচ্ছ নিয়োগের প্রমাণ: দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী বাংলাদেশে ২৫-২৬ জুলাই ন্যাশনাল সেমিকন্ডাক্টর সিম্পোজিয়াম ও বিআইইআর সামিট ২০২৬ বগুড়া উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন ২০২৬-এর খসড়া অনুমোদন, পরিকল্পিত আধুনিক নগর গঠনের উদ্যোগ বাজেট বাস্তবায়নেই সাফল্য, কক্সবাজারকে আধুনিক ডিজিটাল পর্যটন নগরী গড়ার পরিকল্পনা: অর্থমন্ত্রী FICCI FDI Conference 2026-এ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা স্মারক প্রদান বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে FICCI FDI Conference 2026, উন্মোচিত হলো এফডিআই রিপোর্ট মাদারীপুরে বৈশাখী ভাতা ও ঈদ বোনাস না পাওয়ায় দপ্তরিদের শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় ঘেরাও কোটালীপাড়ায় উল্টো রথযাত্রায় ভক্তদের ঢল

গুম খুনে জড়িত র‌্যাব পুলিশের বিচার হবেই

admin
হালনাগাদ: বুধবার, ২৯ জুন, ২০১৬

বিশেষ প্রতিবেদকঃ  দেশে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ফিরে এলে গুম, খুন ও গুপ্তহত্যার সাথে জড়িতদের বিচার করা হবে, বললেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

আজ বুধবার রাজধানীর গুলশানে হোটেল লংবিচে এই ইফতার মাহফিল হয়। ইফতার মাহফিলে গুম হওয়া ৪৫টি পরিবারের স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে গুম, খুনের শিকার ৩৮ পারিবারের সদস্যদের হাতে ঈদ উপহার ও আর্থিক সহয়তা তুলে দেন খালেদা জিয়া।

তিনি এ-ও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, র‌্যাব ও পুলিশের যারা যারা এই অন্যায় কাজগুলো করেছে তাদের কোনোদিন ক্ষমা করা হবে না। সরকারবিরোধী আন্দোলনে গুম, খুন ও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া নেতাকর্মীদের পরিবারের স্বজনদের নিয়ে আয়োজিত এক ইফতার মাহফিলে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে খালেদা জিয়া এসব বলেন। অনুষ্ঠানে নির্যাতিত ও বিগত আন্দোলনে গুম-খুনের শিকার নেতাকর্মীদের স্বরণ করতে গিয়ে এক পর্যায়ে কেঁদে ফেলেন তিনি।

তিনি নিখোঁজ হওয়া ব্যাক্তিদের স্বজনদের উদ্দেশে বলেন, ছাত্রদল, যুবদল, বিএনপির যারা গত কয়েক বছর ধরে নিখোঁজ রয়েছে, তারা কিভাবে আছেন, তা আমরা কিছুই জানি না। তবে আমরাও আশায় আছি স্বজনরা একদিন ফিরে আসবে। আবার আপনাদের মা, বাবা, ভাই বোন স্ত্রী ছেলে মেয়েদের আদর করবে ঠিক তেমনিভাবে আমাদের দলে ফিরে নেতাকর্মীদের সাথে মিলে আমাদের আপন হয়ে থাকবে। এসময় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী। ঠিকমতো কথা বলতে পারছিলেন না তিনি। কিছুক্ষণ কাঁদতে থাকে তিনি। এসময় অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত অতিথিরাও কান্নায় ভেঙে পড়েন। অনুষ্ঠানের পরিবেশ ভারি হয়ে ওঠে।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, স্বজন হারানোর ব্যথা আমি বুঝি। আপনারা দেখেছেন আমার সন্তান হারিয়েছি।

খালেদা জিয়া ক্রসফায়ারের ঘটনাকে দু:খজনক আখ্যায়িত করে বলেন, একটি নিরীহ ছেলেকে কথা নাই বার্তা নেই গুলি করে মেরে ফেলবে। এটা খুবই দু:খজনক। বিচার ছাড়া কাউকে গুলি করে মেরে ফেলবে। এটা আগে কখনো হয়নি। এরা খুনি এরা গুপ্ত হত্যাকারী এরা জালেম। আমরা আল্লাহর কাছে দোয়া করব তিনি যেন এর বিচার করেন। দুনিয়াতেই যেন এর বিচার আপনারা দেখে যেতে পারেন। ভবিৎষতে যেন এ ধরনের কাজ করতে সাহস না পায়। নিখোঁজ নেতাকর্মীরা যেখানেই আছে আল্লাহ যেন তাদের ভালো রাখেন।

বেগম জিয়া আরো বলেন, আমরা বিরোধী দলে আছি। আমাদের প্রত্যেকের ওপর মিথ্যা মামলা, নানা নির্যাতন চলছে। নতুন করে অভিযানে ১৬ হাজার লোক ধরেছে এর মধ্যে চার হাজার বিএনপি নেতাকর্মী। তাদের প্রধান উদ্দেশ্যে হলো বিএনপিকে ধ্বংস করা।

গুম-খুনের সাথে জড়িত আইনশৃঙ্খলা বানিহীর সদস্যদের বিচার করা হবে এমন মন্তব্য বিএনপি প্রধান বলেন, দেশে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ফিরে এলে আমরা অবশ্যই এদের খোঁজ করার চেষ্টা করব। না হলে এদের সাথে যারা খারাপি করেছে, আমরা জানি র‌্যাব, তখনকার র‌্যাবই ছিল সবচেয়ে বেশি শক্তিশালী, পাওয়ারফুল ছিল এবং পুলিশ। এই র‌্যাব ও পুলিশের যারা যারা এই অন্যায় কাজগুলো করেছে তাদের কোনোদিন ক্ষমা করা হবে না। তাদের বিচার একদিন না একদিন হবেই, ইনশাল্লাহ। হয়তো স্বজনকে ফিরে না পেতে পারেন কিন্তু বিচারটা পেলেও কিছুটা শান্তি হয়তো পাওয়া যায়, এই আশায় থাকব আমরা।

তিনি বলেন, স্বজনদের আমরা ফিরে না পেতে পারি। কিন্তু বিচারটা পেলেও অন্তত শান্তি পাওয়া যাবে। আমরা আল্লাহর কাছে দোয়া করব যাতে তাদের আত্মাটা শান্তি পায়।

অনুষ্ঠানে গুম হওয়া বংশাল থানা বিএনপির কর্মীর ছোট মেয়ে হৃদি বলে, পাপার ছবি গলা ঝুলিয়ে হাঁটতে মন চায় না। মন চায় পাপার হাত ধরে হাঁটতে। হাসিনা আন্টি (প্রধানমন্ত্রী) পাপাকে ফিরিয়ে দেন, চাচুকে ফিরিয়ে দেন। পাপাকে ছাড়া ঈদ করতে ভাল লাগে না।

গুম হওয়া আরেক সদস্য চঞ্চলের ছোট ছেলে আহাদ বলে, হাসিনা আন্টি আমরা পাপাকে ফিরিয়ে দিন, পাপার সাথে ঈদ করব, পাপা জামা কিনে দিবে, পাপার সাথে স্কুলে যাব।

ইফতার মাহফিলে অংশ নেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, কেন্দ্রীয় নেতা খায়রুল কবির খোকন প্রমুখ। ইফতারের আগে দেশ ও জাতির কল্যাণে মোনাজাত করা হয়।


এ ক্যটাগরির আরো খবর..