জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান গ্রাম সমবায়ের মাধ্যমে একটি স্বনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন। সমবায়কে উন্নয়নের অন্যতম প্রায়োগিক পদ্ধতি বিবেচনা করে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের সংবিধানে সমবায়কে মালিকানার অন্যতম খাত হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করেছেন। জাতির পিতার অর্থনৈতিক দর্শন ‘সমবায়’ এর শক্তিকে একটি গণমুখী সমবায় আন্দোলনে পরিণত করতে আমি সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন।
আজ জাতীয় সমবায় দিবসে রাষ্ট্রপতির বাণীতে মোঃ সাহাবুদ্দিন এমন আহবান জানান।
রাষ্ট্রপতি বলেন, সমবায় শেখায় একতা, সমবায় আনে সমৃদ্ধি। গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সম্মিলিত ও ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার দ্বারা স্বনির্ভরতা অর্জন তথা আর্থসামাজিক উন্নয়নে সমবায় পদ্ধতি একটি ফলপ্রসূ পদক্ষেপ। কৃষি, মৎস্য, দুগ্ধ, পরিবহণ, গৃহায়ণ, শিল্প, বিমা, বাজারজাতকরণসহ অর্থনীতির সকল ক্ষেত্রে সমবায় পদ্ধতি অত্যন্ত কার্যকর। মূলধন গঠন, বিনিয়োগ, পুষ্টিচাহিদা পূরণ, নারীর ক্ষমতায়ন, আবাসন সুবিধা সম্প্রসারণ,আয়বর্ধনমূলক প্রশিক্ষণ প্রদান, গ্রামীণ কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, সুবিধাবঞ্চিত নারী, তৃতীয় লিঙ্গ ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নের মাধ্যমে গ্রামীণ দারিদ্র্য নিরসনে সমবায় ফলপ্রসূ অবদান রাখতে পারে।
রাষ্ট্রপ্রধান বলেন, বঙ্গবন্ধুর দর্শন ও আদর্শের পথ ধরে সরকার ক্ষুধা, দারিদ্র্য, বৈষম্য ও দুর্নীতিমুক্ত সুখী-সমৃদ্ধ উন্নত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে নানামুখী উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। সাম্প্রতিক বৈশ্বিক সংকট, পুঁজিবাদী অর্থনীতি আর চতুর্থ শিল্পবিপ্লবকে মোকাবিলা করে ‘স্মার্ট সমবায় সমিতি’ ও ‘স্মার্ট সমবায়’ গড়ে তোলার কর্মকাণ্ডে শামিল হতে আমি সমবায়ীদের আহ্বান জানাই। সমবায় আন্দোলনকে টেকসই রূপ দিতে কৃষি ও অন্যান্য উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগসহ উৎপাদিত পণ্যের বাজারজাতকরণ ও পণ্যের ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তি নিশ্চিত করা খুবই জরুরি। পাশাপাশি সমবায়ী প্রতিষ্ঠানকে হতে হবে জনমুখী এবং প্রতিটি ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। জাতির পিতার সমবায় ভাবনার আলোকে সকল ধরনের বৈষম্য দূর করে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে সমৃদ্ধির পথে। ৫২তম জাতীয় সমবায় দিবসের প্রতিপাদ্য ‘সমবায়ে গড়ছি দেশ, স্মার্ট হবে বাংলাদেশ’ প্রাসঙ্গিক, যুগোপযোগী ও তাৎপর্যপূর্ণ হয়েছে বলে আমি মনে করি।

