× Banner
সর্বশেষ
সরকার শুধু স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নয়, সার্বিক উন্নয়নে বদ্ধপরিকর – সমাজকল্যাণ মন্ত্রী চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা হবে – মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী রপ্তানি বাণিজ্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের আন্তর্জাতিক মেলায় অংশগ্রহণে বুথ ভাড়া মওকুফ করা হবে – বাণিজ্যমন্ত্রী বাংলাদেশকে আঞ্চলিক এভিয়েশন হাব হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার – বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী শ্যামনগরে দুই ক্লিনিককে মোবাইল কোর্টে জরিমানা আগস্টে শুরু হচ্ছে ৪ দিনব্যাপী ‘আবাসন মেলা’ বিমান চলাচল ও পর্যটন প্রকল্পে স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে – আফরোজা নতুন কুঁড়ি ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন সিলেট-রংপুর নারী ও কন্যাশিশুর বিরুদ্ধে সহিংসতা জাতীয় সংকটে পরিণত হয়েছে – মহিলা পরিষদ কালীগঞ্জের পত্রিকা বিতরণকারী জাহাঙ্গীরের মৃত্যু

দেবাশীষ মুখার্জী, কূটনৈতিক প্রতিবেদক

গণধর্ষিতা ২ বিবস্ত্র নারীর ভিডিও, মণিপুর দাঙ্গায় মুখ খুললেন নরেন্দ্র মোদী

Brinda Chowdhury
হালনাগাদ: বৃহস্পতিবার, ২০ জুলাই, ২০২৩
faridpoor rape

দুই মাস আগে ধারণ করা মণিপুর রাজ্যের সহিংসতার একটি ভিডিও নতুন করে ক্ষোভের সঞ্চার করেছে। ভিডিওটিতে যে ভয়াবহ দৃশ্য দেখা গেছে, তা গত ৪ মে ধারণ করা। তার ঠিক আগের দিন হিন্দু মেইতি ও খ্রিষ্টান কুকি সম্প্রদায়ের মধ্যে জাতিগত দাঙ্গায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল মণিপুর। ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে, দুই মণিপুরি তরুণীকে বিবস্ত্র করে এক দল উত্তেজিত জনতা রাস্তা দিয়ে হাঁটিয়ে একটি মাঠে নিয়ে যাচ্ছে। সেই মাঠে ওই দুই নারী দলবদ্ধ গণধর্ষণের শিকার হন।

২১ বছরের এক নির্যাতিতা নারী বলেছেন, ‘‘দুষ্কৃতীদের অনেকের হাতে একে-৪৭, ইনসাস, এসএলআর-সহ আধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র ছিল। গ্রামে ঢুকে তারা নির্বিচারে বাড়িতে আগুন ধরায়, মানুষ খুন করে। আমরা পাঁচ জন— তিন মহিলা এবং দু’জন পুরুষ (নির্যাতিতার বাবা এবং ভাই) দৌড়ে পাশের জঙ্গলে ঢুকে পড়ায় তখনকার মতো বেঁচে গিয়েছিলাম। পরে নংপোক সেকমাই থানা থেকে পুলিশকর্মীরা গিয়ে আমাদের উদ্ধার করেন। কিন্তু থানায় ফেরার পথে রাস্তায় দুষ্কৃতীরা আমাদের ঘিরে ফেলে। আমি সহ আরও তিনজন নারীকে খুনের ভয় দেখিয়ে জোর করে বিবস্ত্র করানো হয়। এমনকি, তাকে গণধর্ষণ করা হয় বলেও জানিয়েছেন ওই নারী। বলেছেন, তার বাবা এবং ভাইকে খুন করেছিল হামলাকারী জনতা। আমার ৫৬ বছরের বাবাকে প্রথমেই খুন করা হয়। আমাকে বাঁচাতে গিয়ে ভাইও নিহত হয়। কিন্তু হামলাকারীদের মধ্যে কয়েকজন, আমাদের সঙ্গে থাকা দুই মহিলার পরিচিত হওয়ায়- তারা গণধর্ষণের কবল থেকে রেহাই পেয়ে যান।

এত দিন পর ওই পুরোনো ভিডিও কী করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ল, কারা তা করল, কোন উদ্দেশ্যে—তা দ্রুত আলোচনায় উঠে আসে। গতকাল বুধবার রাতেই ভারতের কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় তৎপর হয়ে ওঠে। সামাজিক মাধ্যম কেন ওই ভিডিও বন্ধে উদ্যোগী হলো না, সেই প্রশ্ন আলোচিত হতে থাকে। সরকার মনে করছে, টুইটারসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোর বোঝা উচিত ছিল যে, ওই ভিডিও নতুন করে অশান্তি সৃষ্টি করবে। সে জন্য আগেই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত ছিল। ভিডিওটি যাতে ভাইরাল না হয়, সেই ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি ছিল। এ নিয়ে আজ সকাল থেকেই রাজনীতির মাঠ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। নির্দেশ দেওয়া হয় সেই ভিডিও প্রত্যাহারের। মণিপুর প্রশাসন সকাল ১০টা নাগাদ জানায়, ওই ঘটনার অন্যতম প্রধান পান্ডাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ওই ভিডিও অবিলম্বে প্রত্যাহারের জন্য ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার টুইটারসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে নির্দেশ দিয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড় চূড়ান্ত ক্ষোভ প্রকাশ করে সরকারকে অবিলম্বে ব্যবস্থা নিতে বলেছেন।

বিজেপি–শাসিত মণিপুরে অশান্তির ১০ সপ্তাহ পার হয়ে গেছে। এই সময়ের মধ্যে অন্তত ২০০ জনের মৃত্যু হয়েছে, আহত হয়েছেন সহস্রাধিক। অগুন্তি ঘরবাড়ি, গির্জা, মন্দির ধূলিসাৎ হয়েছে। ৬০ হাজার মণিপুরি এখনো শরণার্থীশিবিরে বন্দী। আজই শুরু হয়েছে ভারতীয় সংসদের বাদল অধিবেশন। প্রথম দিনেই মণিপুর পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য কংগ্রেসসহ বিরোধীরা মুলতবি প্রস্তাব জমা দেন। এই ক্ষোভের মুখে এত দিন ধরে মণিপুর নিয়ে মৌন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আজ বৃহস্পতিবার প্রথম মুখ খুললেন। মণিপুরে দুই মহিলাকে নির্যাতনের ঘটনার নিন্দা করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বললেন, ‘‘মণিপুরের ঘটনা যে কোনও সভ্য সমাজের পক্ষে লজ্জার। এই অপরাধ ক্ষমার অযোগ্য। একজন অপরাধীও পার পাবে না। ওই ঘটনার জন্য দেশের ১৪০ কোটি মানুষের মাথা হেঁট হয়ে গিয়েছে।’’ দুই মহিলাকে বিবস্ত্র করে হাঁটানোর ঘটনায় তিনি ব্যথিত এবং ক্রুদ্ধ বলেও জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

বিরোধীরা অবশ্য মণিপুর নিয়ে আলোচনার জন্য লোকসভায় মুলতবি প্রস্তাব জমা দিয়েছেন। সাধারণত আইনশৃঙ্খলাজনিত পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার দায়িত্ব বর্তায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওপর। কিন্তু এ ক্ষেত্রে বিরোধীদের দাবি, প্রধানমন্ত্রীকে জবাবদিহি করতে হবে।অধিকাংশ বিরোধী দল উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ওই বিজেপি শাসিত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এন বীরেন সিংহের ইস্তফা দাবি করেছে। পাশাপাশি, প্রশ্ন উঠেছে মণিপুরে দীর্ঘ আড়াই মাসে হিংসাপর্বে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নীরবতা নিয়ে। এই আবহেই আজকে শুরু হল সংসদের বাদল অধিবেশন। মণিপুর পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য কংগ্রেসের পক্ষে নোটিস দেওয়া হয়েছে লোকসভা এবং রাজ্যসভায়।


এ ক্যটাগরির আরো খবর..